ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করায় বাংলাদেশে সোনার মত ভরি তে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। আস্ত পেঁয়াজ কেনার সামর্থ্য হারানোয় একটা পিয়াজের কেউবা অর্ধেক কেউ আবার 10থেকে 50 ভরি পিয়াজ ভাগাভাগি করে কিনছেন।
তবে এরই মধ্যে একসাথে তিনটি পিয়াজ কিনে নজির সৃষ্টি করেছেন ঢাকার বিত্তশালী এলাকা বলে পরিচিত গুলশান একের বাসিন্দা মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম সাহেব । ঢাকার রাজপথে চলমান 100 টি রিস্কার গর্বিত মালিক জাহিরুল সাহেব । একসাথে তিনটি আস্ত পিয়াজ কিনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। তবে সংকটের বাজারে একসাথে এতগুলো টাকার পিয়াজ কেনায় তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। তার আর্থিক উৎসের খোঁজ নিতে ইতিমধ্যেই দুদক তলব করেছে তাকে। তবে জহিরুল সাহেব বলছেন কোন কালো টাকার ব্যবহার নয় একসাথে কুড়িটি রিক্সা বিক্রি এই পিয়াজ ক্রয় করেছেন তিনি । রিক্সা বিক্রি এবং পিয়াজ ক্রয় সংক্রান্ত যথাযথ প্রমাণ তার কাছে আছে,আইনজীবী মারফত তিনি সেই কাগজপত্র দুদকের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন।
অন্যদিকে বাংলাদেশের পিয়াজের সবচেয়ে বড় আরত খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা নতুন করে ভারত থেকে পেঁয়াজ না আসা পর্যন্ত তাদের স্টকে থাকা শেষ পাঁচ কেজি পেঁয়াজ কে জাতীয় সম্পদ ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছেন। দেশের অন্যতম বৃহৎ বাজার শ্যামবাজারের এখনো পর্যন্ত পিঁয়াজ বিক্রি হলেও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষী না থাকলে গ্রাহক কে পিঁয়াজ বিক্রি করছেন না বিক্রেতারা। তবে এসবের বাইরে ঢাকার কারওয়ান বাজারে পিয়াজের দোকানকে অনেকটা সোনার দোকানের মত সাজিয়ে রেখেছেন বিক্রেতারা।পিয়াজের দোকানের পাশেই ব্যাঙ্কগুলি চালু করেছে পিয়াজ রাখার জন্য স্পেশাল লকার সিস্টেম।
সাধারণ মানুষ বলছেন পিয়াজের জন্য এভাবে কাঁদতে হলে ভারতের সাথে অভিন্ন 53 টি নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিয়ে আর সংঘাতে জড়াতে হবে না। জনগণের চোখের পানি নদী ভরিয়ে তুলবে। তবে এমনটা হলে ফের ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
( ঢাকা-কলকাতা কে নিয়ে মজার ছলে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত করে বিতর্ক সৃষ্টি করায় কলকাতা মজার ছলে ঢাকাকে জানান দিল কলকাতাও মজা করতে জানে । সম্পূর্ণ সংবাদ কাল্পনিক এর সাথে বাস্তবের কোন মিলই নেই। বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের জনগণ আমাদের অকৃত্রিম বন্ধু )
টলিউডের নির্মাতা শিলাদিত্য মৌলিকের ‘ছেলেধরা’ শিরোনামে নতুন ছবিতে অভিনয় করতে যাচ্ছেন তিনি। এই ছবিতে তাকে মায়ের চরিত্রে দেখা যাবে।
টাইমস অব ইন্ডিয়া প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নতুন এই সিনেমাটিতে জয়া আহসানকে দেখা যাবে কেন্দ্রীয় চরিত্রে। একজন মাদকাসক্ত মায়ের চরিত্রে অভিনয় করবেন তিনি। অক্টোবর মাসে সিনেমাটির শুটিং শুরু হবে।
নির্মাতা জানিয়েছেন, সিনেমাটির গল্প গড়ে উঠেছে অপহরণকে কেন্দ্র করে। একটি অপহরণের গল্পে মানুষের জীবন কীভাবে আবর্তিত হয় আর তাদের ব্যক্তিগত দুর্বলতা কতটা মানুষের সামনে উঠে আসে, সেই চিত্রটা তুলে ধরা হয়েছে।
জয়া আহসান জানিয়েছেন, সিনেমাটিতে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে অক্টোবরের শুরুতেই তিনি সড়কপথে কলকাতায় যাচ্ছেন।
এর আগে নির্মাতা শিলাদিত্য মৌলিক ‘সোয়েটার’ সিনেমা নির্মাণ করে আলোচনায় আসেন। এই পরিচালকের মুক্তির অপেক্ষায় আছে ‘হৃদপিণ্ড’ শিরোনামের একটি সিনেমা।
সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর আড়াই মাস পেরিয়ে গেছে। এর মধ্যে মুম্বাই পুলিশ, পাটনা পুলিশ, ইডি (ইনপোর্সমেন্ট ডাইরেকটরেড) বা সিবিআই (সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) কেউ কোনো উপসংহার টানতে পারেনি। এর মধ্যে তদন্তে উঠে এসেছে, মাদকাসক্ত ছিলেন সুশান্ত। ফলে তদন্তে যুক্ত হয়েছে নার্কোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরো এনসিবি বা মাদকবিষয়ক তদন্ত বিভাগ।
ইতিমধ্যে এনসিবি দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের মাধ্যমে জানা যায়, এদের সঙ্গে যোগসাজশ রয়েছে রিয়া চক্রবর্তীর ভাই শৌভিক চক্রবর্তীর।
এর আগে সুশান্তের বাড়ির রাঁধুনি নীরজ দাবি করেছিলেন, গাঁজার নেশা ছিল সুশান্তের। তিনি নাকি মাঝেমধ্যে বানিয়েও দিতেন। সিবিআই সুশান্তের ম্যানেজার শ্রুতি মোদিকে বেশ কয়েক দফায় জেরা করেছে।
বৃহস্পতিবার শ্রুতি জানান, সুশান্ত ও রিয়া একসঙ্গে বসেই গাঁজা খেতেন। তিনি সিবিআইকে জানান, দিনের মধ্যে অনেকটা সময় বাড়ির ছাদেই সময় কাটাতেন সুশান্ত ও রিয়া। সেখানে এসে যোগ দিতেন রিয়ার ভাই শৌভিক এবং বাড়ির ম্যানেজার স্যামুয়েল মিরান্ডা।এরপর একসঙ্গে বসেই এই চারজন ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাঁজা খেতেন আর আড্ডা দিতেন। তবে সেই আড্ডা যে কেবল গাঁজায় শুরু হয়ে গাঁজায় শেষ হতো, তা নয়। এসব ছাড়াও নানান রকমের ড্রাগস নিয়ে হাজির হতেন শৌভিক ও স্যামুয়েল।
মাত্র এক সপ্তাহ আগে ভাইরাল হওয়া একটি সাক্ষাৎকারে রিয়া জানিয়েছিলন যে তিনি কোনো দিন গাঁজা খাননি। শুধু গাঁজা কেন, কোনো ধরনের ড্রাগসের সঙ্গে তাঁর পরিচয় নেই। জীবনে কখনোই কোনো ধরনের মাদক নেননি তিনি। এমনকি তা প্রমাণ করার জন্য সব ধরনের রক্ত পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত তিনি। এই একই কথা বলেছেন রিয়ার আইনজীবী সতীশ মানশিন্ডে। তাঁর মক্কেল কোনো দিন মাদকদ্রব্য কী জিনিস, তা চেখেই দেখেননি!অন্যদিকে ইডি এনসিবিকে জানিয়েছে যে তারা গত এক বছর চার মাসে রিয়ার ফোনের সব মেসেজ দেখেছে। সেখানে ড্রাগসংক্রান্ত বেশ কিছু তথ্যের উল্লেখ রয়েছে। কয়েকজনের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথাও হয়েছে রিয়ার। তবে রিয়া বলেছেন, সুশান্তের জন্যই তাঁকে মাদকের খোঁজ করতে হয়েছিল। অন্যদিকে সুশান্তের বাবা কে কে সিং সুশান্তের মাদকাসক্ত হওয়ার দায় রিয়ার ওপর চাপিয়ে আসছেন।১৪ জুন মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় নিজ বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় বলিউডের এই তরুণ নায়কের লাশ। যদিও প্রাথমিক ও চূড়ান্ত তদন্ত শেষ মুম্বাই পুলিশ জানিয়েছিল, সুশান্তের অপমৃত্যু আত্মহত্যাই। কিন্তু সুশান্তের পরিবারসহ ভক্তরা এই মৃত্যুকে আত্মহত্যা মানতে নারাজ। সেই তালিকায় রয়েছেন বলিউডের অসংখ্য তারকা থেকে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও। এমনকি বিহার পুলিশের ডিজিও তদন্ত শুরুর পর থেকে আত্মহত্যার কথা মেনে নিতে পারছিলেন না।
অন্যদিকে একের পর এক প্রেমে ব্যর্থতা, মাদক, বাইপোলার ডিজঅর্ডার, নিম্নমুখী ক্যারিয়ার, পরিবারের সঙ্গে বিচ্ছিন্নতা—সবকিছু সুশান্তকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছিল বলে দাবি রিয়ার।
ট্রেলারেইআভাস মিলেছিল। টানা ৯টি এপিসোড দেখার পর বিশ্বাস আরও জোরদার হল। পরিচালক প্রকাশ ঝার ডেবিউ ওয়েব সিরিজ ‘আশ্রম’-এর (Aashram) প্রতিটি পরতে রয়েছে স্বঘোষিত গডম্যান রাম রহিমের ছায়া। জাতপাতের বৈষম্য, মানুষের অন্ধবিশ্বাস আর তাঁর সুযোগ নিয়ে খুন, ধর্ষণ থেকে নির্বীজকরণ। সমস্ত উপাদানই মজুত রয়েছে ৯ এপিসোডের সিরিজে। সেই সঙ্গে রয়েছে নয়ের দশকের পরিচালক প্রকাশ ঝার (Prakash Jha) ছাপ।
গণতন্ত্রের চেনা চেহারা দিয়েই কাহিনির সূত্রপাত হয়। সেই সূত্র ধরেই স্বঘোষিত গডম্যান কাশীপুরওয়ালে বাবা ওরফে বাবা নিরালা ওরফে মন্টির কাহিনিতে পৌঁছায়। বাবা নিরালার চরিত্রে ববি দেওলকে বেছেছেন পরিচালক। তাঁকে সেই চেহারাও দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে কেরিয়ারের এই পর্যায়ে এসেও ববির মধ্যে সাবলীলতার অভাব রয়েছে। তবে মন্টির ভয় মেশানো হিংস্রতার সময়ে নিজেকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছেন। বাবা নিরালার ডানহাত ভোপের ভূমিকায় চন্দন রায় সান্যাল নিজের প্রতিভার সদ্ব্যবহার করেছেন। তবে তাঁর একটি দৃশ্য নিয়ে মনে প্রশ্ন রয়েছে। কাহিনির শুরুর দিকে ভোপে তরুণীকে খুন করতে তার পিছু নয়। তারপর ধরে ফেলে আচমকা পকেট থেকে ছুরি বের করে। ক্ষুরধার ছুরি পকেটে বিপজ্জনকভাবে রেখে কি অতটা দৌড়ে তারপর খুন করা যায়?
পোড় খাওয়া অভিনেতাদের পাশাপাশি নতুনদের নিয়ে কাজ করেছেন প্রকাশ। পম্মির চরিত্রে অদিতি পোহাঙ্কর (Aaditi Pohankar), সত্তির চরিত্রে তুষার পাণ্ডের (Tushar Pandey) অভিনয় বিশ্বাসযোগ্য। তবে অধ্যয়ন সুমন এবার অন্য পেশায় মন দিলেই বোধহয় ভাল হয়। বাঙালির কাছে পাওনা ত্রিধা চৌধুরীর (Tridha Choudhury) সৌন্দর্য। সবচেয়ে বেশি প্রশংসা যদি কারও প্রাপ্য হয় তা অভিনেতা দর্শন কুমারের (Darshan Kumaar)। রাফ অ্যান্ড টাফ পুলিশ উজাগর সিংয়ের চরিত্রে নিজেকে উজার করে দিয়েছেন দর্শন। নয়ের দশকের মনোজ বাজপেয়ীর কথা মনে করিয়েছেন। তবে এখানেও একটি প্রশ্ন রয়েছে পরিচালকের জন্য। যে উজাগর পম্মিকে উচুজাতের বিরুদ্ধে অভিযোগ না জানানোর জন্য হুমকি দিয়েছিল, সেই উজাগরের বিবেক ডক্টর নাতাশার (অনুপ্রিয়া গোয়েঙ্কা) মাত্র কয়েকটি কথাতেই আচমকা কীভাবে জাগ্রত হয়ে গেল?
এমনই কিছু প্রশ্ন বাদ দিলে একবার MX Player-এ বিনামূল্যে ‘আশ্রম’-এর দর্শন করাই যায়। তবে এবেলা অসমাপ্ত মনেই থাকতে হবে দর্শকদের। কারণ শেষে নতুন মরশুমের ইঙ্গিত স্পষ্ট।
রানি এলিজাবেথের ছত্রছায়া থেকে বেরিয়ে এসে কী করবেন হ্যারি-মেগান? এযাবৎকাল অনেকেই সন্দিহান ছিলেন তা নিয়ে। ব্রিটেনের রাজপরিবারের সুযোগ-সুবিধে ছেড়ে সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করা তো আর চারটিখানি কথা নয়! হলিউডের ডাকসাইটে প্রযোজকের নতুন সিনেমায় নাকি মেগান মার্কেল অভিনয় করতে চলেছেন, সেকথাও শোনা গিয়েছিল। তবে এবার শোনা যাচ্ছে অন্য খবর। আন্তর্জাতিক ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সের (Netflix) সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছেন এই রাজদম্পতি।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, মেগান-হ্যারি (Prince Harry and Meghan Markel) সম্প্রতি বড়সড় চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন সংশ্লিষ্ট ওটিটি প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে। নেটফ্লিক্সের সঙ্গে বেশ কয়েক বছরের চুক্তি হয়েছে তাঁদের। সম্প্রতি একটি বিবৃতি জারি করে দম্পতি জানিয়ে দিয়েছেন যে, ভাল কন্টেন্ট প্রোডিউস করাই তাঁদের উদ্দেশ্য। বাবা-মা হিসেবে চান এমন পরিবারিক শো প্রযোজনা করতে, যা সকলকে অনুপ্রেরণা জোগাবে।
হলিউডে যাত্রা শুরুর গোড়াতেই এক প্রযোজনা সংস্থা খুলে ফেলেছেন হ্যারি। যদিও এখনও নাম ঠিক হয়নি সেই সংস্থার। তবে শোনা যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা সংস্থার ব্যানারেই নাকি তথ্যচিত্র, ডকুসিরিজ, সিনেমা, রিয়ালিটি শো তৈরি করবেন হ্যারি ও মেগান। তাহলে কি নিজের প্রযোজনা সংস্থার ছবিতে অভিনয়ও করছেন মার্কিন মুলুকের একসময়কার জনপ্রিয় টেলি অভিনেত্রী মেগান মার্কেল? ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, এক্ষুণি সেই পরিকল্পনা কিন্তু নেই মেগানের! বরং, নেটফ্লিক্সের জন্য ভাল কন্টেন্টের খোঁজে রয়েছেন তিনি। শেষবার, ২০১৮ সালে ‘স্যুটস’ নামক সিরিজে তাঁকে দেখা গিয়েছিল। কে বলতে পারে, হয়তো অদূর ভবিষ্যতে স্বামীর প্রযোজনাতেই ফের পর্দায় প্রত্যাবর্তন ঘটাবেন তিনি!
উল্লেখ্য, শো বিজনেসে হ্যারির প্রথম পদার্পণ হলেও মেগানের কিন্তু আগে থেকেই এই বিষয়ে দখল রয়েছে। আর সেই অভিজ্ঞতাকেই যে তিনি কাজে লাগাবেন, তা হলফ করে বলাই যায়।স্বনির্ভর হবেন, সাধারণ জীবনযাপন করবেন বলে ছেড়েছিলেন রাজপরিবার, প্রাসাদ। ত্যাগ করেছেন রাজকীয় উপাধি, সুযোগসুবিধাও। নতুন করে জীবন শুরুর তাগিদে কানাডায় পাড়ি জমিয়েছেন। নতুন বাসা খুঁজে নিয়েছেন প্রিন্স হ্যারি, তাঁর স্ত্রী মেগান মর্কেল এবং ছেলে আর্চি। ভিক্টোরিয়া, কানাডার সবচেয়ে অভিজাত এলাকা এবং ব্রিটিশদের অত্যন্ত পছন্দের জায়গাতেই আপাতত বাড়ি নিয়েছেন তাঁরা। যেখান থেকে লন্ডনও খুব বেশি দূরে নয়। এবার বিনোদন ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখার মধ্য দিয়েই স্বনির্ভর হওয়ার প্রথম পদক্ষেপ করলেন তাঁরা।
যত দিন যাচ্ছে ততই রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু নিয়ে। কিন্তু এখনও তার মৃত্যুশোক থেকে বেরোতে পারেননি তার অনুরাগীরা।
মুম্বাই পুলিশ জানিয়েছে, আত্মঘাতী হয়েছেন অভিনেতা। যদিও অনুরাগীরা তা মানতে নারাজ। সুশান্তের মৃত্যুর পিছনে অন্য কোনও রহস্য রয়েছে বলে অনেকেই দাবি করেছেন। সুশান্তের বান্ধবী তথা অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তীর দিকেও অভিযোগের তির উঠেছে।
সম্প্রতি একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আাসায় জোর শোরগোল শুরু হয়েছে।
গত ৮ জুন কথা কাটাকাটি ও মনোমানিল্যের কারণে সুশান্ত সিং রাজপুতের বাড়ি ছেড়ে চলে যান রিয়া চক্রবর্তী। এমনটাই সব গণমাধ্যম থেকে সিবিআইকে জানিয়ে ছিলেন রিয়া। ৮ জুনের পর থেকে রিয়ার সঙ্গে সুশান্তের কোনো যোগাযোগ ছিল না বলে জানিয়েছিলেন অভিনেত্রী।
কিন্তু সুশান্তের মৃত্যুর আগে রিয়া চক্রবর্তী নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও শেয়ার করেন। বর্তমানে যে ভিডিও প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, ম্যাংগো কেক তৈরি করছেন রিয়া। সুশান্তের বিজনেস ম্যানেজার শ্রুতি মোদি একসঙ্গে সেই ভিডিও শেয়ার করেন। রিয়া এবং শ্রুতির ১২ জুনের ওই ভিডিও দেখে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
৮ জুনের পর যদি সুশান্তের সঙ্গে রিয়ার কোনও যোগাযোগ না থাকে, তাহলে ১২ জুন কীভাবে ওই ভিডিও প্রকাশ্য এল! সুশান্তের ফ্ল্যাটের মধ্যেই ম্যাংগো কেক হাতে নিয়ে ছবি তুলতে দেখা যায় রিয়া চক্রবর্তীকে। শ্রুতি মোদি এবং রিয়া চক্রবর্তীর ওই ভিডিও দেখে ফের সন্দেহ দানা বাঁধতে শুরু করেছে।
এদিকে মঙ্গলবার সকাল থেকেই মুম্বাইয়ের ডিআরডিও গেস্ট হাউজে রিয়া চক্রবর্তীর বাবা ইন্দ্রজিত চক্রবর্তী এবং মা সন্ধ্যা চক্রবর্তীকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে সিবিআই। তবে রিয়াকে মঙ্গলবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। গত ৩ দিন ধরে টানা জিজ্ঞাসাবাদের পর মঙ্গলবার অভিনেত্রীর বাবা-মাকে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন গোয়েন্দারা।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্মিত ছবির অভিনেতা রন জেরেমির বিরুদ্ধে যৌন সহিংসহতা এবং হামলার অভিযোগ করেছেন ১৩ জন নারী। এখন তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রমাণিত হলে ২৫০ বছর পর্যন্ত সাজা হতে পারে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম ডেইলি মেইল।
এদিকে বিবিসি জানিয়েছে তার বিরুদ্ধে যে ১৩ জন অভিযোগ দায়ের করেছেন তার মধ্যে এক কিশোরীও রয়েছেন। এর আগে ৬৭ বছরের এই পর্ন তারকার বিরুদ্ধে এর আগে ২০১৪ সাল থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে চারজন নারীকে ধর্ষণ অথবা হামলার অভিযোগ ওঠে। তবে সম্প্রতি আলোচনায় আসা যৌন সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ২০০৪ সালের দিকে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার ২৫০ বছর পর্যন্ত সাজা হতে পারে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। রন জেরেমির আসল নাম রোনাল্ড জেরেমি হায়াত। এর আগে তাকে গত জুন মাসে আদালতে হাজির করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, তিনি ২৫ ও ৩০ বছর বয়সী দুজন নারীকে ধর্ষণ করেছেন। এ ছাড়া ৩৩ ও ৪৬ বছরের আরও দুজন নারীর ওপর হামলা করেছেন।
সেই সময় অভিযোগ নাকচ করে জেরেমির আইনজীবী বলেছিলেন, তার মক্কেল ‘চার হাজারের বেশি নারীর উপপতি’ এবং ‘নারীরাই তার প্রতি নিজেকে বিলিয়ে দেয়’।
তবে লস অ্যাঞ্জেলস টাইমস জানিয়েছে, জেরেমিকে আদালতে হাজির করার পরবর্তী কয়েক দিনে তার বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার আরও কিছু অভিযোগ পান আইনজীবীরা। এদিকে নতুন অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ১৩ জন নারীর ওপর অন্তত ২০ বার ধর্ষণ এবং যৌন হামলার মতো অভিযোগ। ভুক্তভোগীদের বয়স হবে ১৫ থেকে ৫৪ বছর। সর্বশেষ যৌন হামলার ঘটনা ঘটেছে গত নববর্ষের দিনে হলিউডের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে।
২০১৭ সালে রোলিং স্টোন ম্যাগাজিন এক প্রতিবেদনে জানায়, জেরেমির বিরুদ্ধে অনেক নারী যৌন অসদাচরণের অভিযোগ এনেছেন, যার মধ্যে রয়েছে আপত্তিকর স্পর্শ, ডিজিটাল মাধ্যমে যৌন হয়রানি ও যৌন হামলা। তবে ম্যাগাজিনকে তিনি বলেছিলেন, ‘কখনোই কাউকে ধর্ষণ করেননি।’
সবচেয়ে বেশি পর্নোগ্রাফিতে অভিনয় করার জন্য গিনেস বুকের রেকর্ডে নাম উঠেছে জেরেমির। ২০০১ সালে তাকে নিয়ে একটি তথ্যচিত্রও তৈরি করা হয়।
বাবা বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা শ্যামল চক্রবর্তী করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। স্বাভাবিকবশতই মেয়ে উষসীরও কোভিড পরীক্ষা করা হয়েছিল। রিপোর্ট কি আসে? সেই নিয়েই উদ্বিগ্ন ছিলেন অভিনেত্রীর অনুরাগীরা। রবিবার অবশেষে এল টেলিদর্শকদের অতি প্রিয় ‘জুন আন্টি’ ওরফে উষসী চক্রবর্তীর কোভিড পরীক্ষার রিপোর্ট।
সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেই টেলিদর্শকদের প্রিয় জুন আন্টি ওরফে উষসী জানিয়েছেন যে তাঁর কোভিড রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। এবং বাড়ির পরিচারকদের শরীরেও করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। হাজার হোক, এত দুঃশ্চিন্তার মধ্যেও একটু স্বস্তি। যদিও উষসী আপাতত হোম আইসোলেশনেই রয়েছেন চিকিৎসকের পরামর্শ মতো। উল্লেখ্য, করোনা আবহে চারিদিকের এমন কটইন পরিস্থিতিতেও কিন্তু নিজের মুখের হাসি ম্লান করতে দেননি উষসী। আসলে পরিস্থিতির সঙ্গে লড়ে যাওয়ার মন্ত্র তো তিনি আদতে বাবা শ্যামল চক্রবর্তীর কাছে থেকেই পেয়েছেন, মত অভিনেত্রীর।
জুন আন্টি এই মুহূর্তে কোয়ারেন্টাইনে থাকার ফলে অন্য একটা সমস্যা দেখা দিয়েছে। জনপ্রিয় বাংলা সিরিয়াল ‘শ্রীময়ী’তে তাঁর চরিত্র টেলিদর্শকদরে কাছে অতি পরিচিত। জুন আন্টি উষসী আর শ্রীময়ী ইন্দ্রাণী হালদারের হাইভোল্টেজ ড্রামা ছড়া তাঁদের একপ্রকার সন্ধেই শুরু হয় না! কিন্তু পর্দার সেই ‘ভিলেন’ নায়িকাই তো এখন কোয়ারেন্টাইনে। তাহলে দর্শক দেখবে কাকে? জুন আন্টি কি অনেক দিনের বিরতিতে গেলেন? প্রশ্ন তো ওঠেই।
এপ্রসঙ্গে ‘শ্রীময়ী’ ধারাবাহিকের ‘ক্যাপ্টেন অফ দ্য শিপ’ লীনা গঙ্গোপাধ্যায় জানালেন, “এই পরিস্থিতিতে যে কেউ যে কোনওদিন অসুস্থ হতে পারেন, কিংবা কোয়ারেন্টাইনে যেতে পারেন। সেই কথা ভেবে সিরিয়ালের এপিসোড ব্যাংকিং করা রয়েছে। তাই এখন থেকেই যে উষসীকে আর দেখা যাবে না, এমনটা নয়। তাছাড়া গল্পেরও তো অনেকগুলি ট্র্যাক রয়েছে। তাই দর্শক সেই আমেজটা মিস করবেন না।”
দিন দুয়েক আগেই বাবা শ্যামল চক্রবর্তীর করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর প্রকাশ্যে এনেছিলেন অভিনেত্রী উষসী চক্রবর্তী। প্রত্যেকদিনই প্রায় দুবেলা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপডেট দিচ্ছেন বাবা বর্ষীয়ান বাম নেতা কেমন রয়েছেন। বার্ধক্যজনিত সমস্যায় করোনা আক্রান্ত বাবার দেখাশোনার জন্য একজন লোকের দরকার বলেও আরজি জানিয়েছিলেন। কারণ, অভিনেত্রী এই মুহূর্তে আইসোলেশনে রয়েছেন। তাঁর বাড়ির পরিচারক তথা ব্যক্তিগত গাড়ির ড্রাইভারও কোয়ারেন্টাইনে। অতঃপর বেজায় অসুবিধেয় পড়েছিলেন। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় হন্যে হয়ে লোকের আবেদন জানিয়েও পাননি কাউকে! উপরন্তু উষসীর নিজেরও করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। সবমিলিয়ে দুঃশ্চিন্তার মধ্যেই ছিলেন তিনি। আজ সকালে এল অভিনেত্রীর কোভিড পরীক্ষার রিপোর্ট।
ইন্ডাস্ট্রিতে মাত্র সাতটা বসন্ত পার করেছিলেন। বাকি ছিল আরও অনেকটা রাস্তা। কিন্তু আচমকাই সব শেষ হয়ে গেল। তবে মৃত্যুর পরেও দর্শকদের খুব একটা নিরাশ করেননি সুশান্ত সিংহ রাজপুত। তার শেষ ছবি ‘দিল বেচারা’ মুক্তি পেয়েছে কয়েক দিন আগে। তাতে ফের সুশান্তের অভিনয় মন জয় করেছে দর্শকের। তবে ‘দিল বেচারা’ তার শেষ ছবি হলেও, তিনি যে এই ছবিতে অভিনয় করবেন, তা বলিউডে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই স্থির করে ফেলেছিলেন। জেনে নিন ‘দিল বেচারা’ সম্পর্কে এমনই কিছু তথ্য যা হয়তো আপনার অজানা।
জন গ্রিনের ‘দ্য ফল্ট ইন আওয়ার স্টার্স’ উপন্যাস অবলম্বনে ‘দিল বেচারা’ ছবির গল্প বুনেছেন পরিচালক মুকেশ ছাবরা। হলিউডে যদিও আগেই ওই গল্প নিয়ে ছবি হয়ে গিয়েছে। শেইলিন উডলি এবং আনসেল এলগর্ট অভিনীত সেই ছবির নামও ছিল ‘দ্য ফল্ট ইন আওয়ার স্টার্স।’
পরিচালনায় আসার আগে কাস্টিং ডিরেক্টর হিসেবে মায়ানগরীতে বেশ পরিচিত মুখই ছিলেন মুকেশ ছাবরা। তিনিই ‘কাই পো চে’ ছবিতে ঈশানের চরিত্রে সুশান্তকে সুযোগ করে দিয়েছিলেন। সেই ছবির হাত ধরেই ২০১৩ সালে বলিউডে আত্মপ্রকাশ সুশান্তের।
মুকেশ জানিয়েছেন, ‘কাই পো চে’-তে সুযোগ করে দেওয়ার জন্য তার কাছে কৃতজ্ঞ ছিলেন সুশান্ত। দু’জনের মধ্যে ভাল বন্ধুত্বও গড়ে ওঠে। ছবির শুটিং চলাকালীন একদিন আড্ডা দেওয়ার সময় নিজের পরিচালক হওয়ার বাসনার কথা সুশান্তকে জানিয়েছিলেন মুকেশ। তা জানতে পেরে এক মুহূর্তও নষ্ট করেননি সুশান্ত। মুকেশ যখনই ছবি করুন না কেন, তিনি সেই ছবিতে অভিনয় করবেন বলে তখনই তাকে প্রতিশ্রুতি দেন সুশান্ত।
তাই বছর দু’য়েক আগে ‘দ্য ফল্ট ইন আওয়ার স্টার্স’ বইটি অবলম্বনে ছবি করতে চান বলে সুশান্তকে জানান মুকেশ। চিত্রনাট্য না শুনেই তাকে মুহূর্তের মধ্যে হ্যাঁ বলে দেন সুশান্ত। তাই প্রযোজক খুঁজে পাওয়ার আগেই ছবির নায়ক পেয়ে যান মুকেশ।
ছবির নায়িকা হিসেবে নতুন মুখ খুঁজছিলেন মুকেশ। ‘রকস্টার’, ‘হিন্দি মিডিয়াম’ এবং ‘ফুকরে রিটার্নস’ এর মতো ছবিতে অভিনয় করা সঞ্জনা সঙ্ঘীকে শেষমেশ পছন্দ হয় তার। তার পরই ছবির কাজ শুরু হয়।
শুরুতে সুশান্ত এবং সঞ্জনার চরিত্রের নাম অনুযায়ী ছবির নাম রাখা হয়েছিল ‘কিজি আওর ম্যানি’। কিন্তু দর্শকের কথা ভেবে পরে তা পাল্টে রাখা হয় ‘দিল বেচারা’। ছবির নামের পিছনেও অন্য গল্প রয়েছে।
মুকেশ জানিয়েছেন, অস্কারজয়ী এ আর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হিমশিম খান অনেক প্রযোজক-পরিচালকই। কিন্তু ছবির সঙ্গীত এবং ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর, দুইয়ের দায়িত্বই রহমানকে দিতে চেয়েছিলেন তিনি।
সেই মতো সাহস করে রহমানের সঙ্গে দেখা করেন মুকেশ। তবে মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই রহমান ছবিতে কাজ করতে রাজি হয়ে যান। তার ‘দিল বেচারা’ গান থেকেই পরে ছবির নামকরণ হয়।
কাস্টিং ডিরেক্টর হিসেবে কাজের সূত্রে পরিচালক-প্রযোজক তথা কোরিওগ্রাফার ফারহা খানের সঙ্গে ভাল সম্পর্ক ছিল মুকেশ ছাবরার। মুকেশ ছবি করলে তার ছবিতে বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করবেন বলে তাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ফারহা। সেই কথা রাখেন তিনি। ছবিতে ‘দিল বেচারা’ গানটির কোরিওগ্রাফি করেন তিনি।
‘দিল বেচারা’র আগে কখনও ফারহার কোরিওগ্রাফিতে নাচেননি সুশান্ত। তাই প্রথমে ঘাবড়ে গিয়েছিলেন তিনি। মাত্র একটা টেকে গোটা গানের শুটিং হবে জেনে আরও ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পরে ফারহার সঙ্গে শর্ত হয় যে, সুশান্ত যদি ভাল পারফর্ম করেন, তা হলে নিজে হাতে বাড়ি থেকে রেঁধে তার জন্য খাবার আনবেন ফারহা। সুশান্তের পারফরম্যান্সে খুশি হয়ে তেমনটাই করেছিলেন ফারহা।
নায়িকা হিসেবে ‘দিল বেচারা’ই প্রথম ছবি সঞ্জনার। সুশান্তের মতো অভিনেতার সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে শুরুতে ভয় পেতেন তিনি। কিন্তু সুশান্তই তাকে সহজ হতে সাহায্য করেন বলে জানিয়েছেন সঞ্জনা। বাকি অভিনেতারা যেমন নিজের কাজ হয়ে গেলে চলে যান, সুশান্ত তা না করে সঞ্জনার কাজ দেখতেন। কোথাও কোনও ভুল হলে শুধরেও দিতেন। সঞ্জনা মুষড়ে পড়লে হেডফোনে দু’জনে একসঙ্গে গানও শুনতেন।
‘দিল বেচারা’ টাইটেল ট্র্যাকের শুটিংয়ে বাস্কেটবল খেলোয়াড় রেজি মিলারের জার্সি পরে দেখা যায় সুশান্তকে। তা নিয়ে রেজি মিলার নিজে টুইটও করেন। তিনি লেখেন, ‘সুশান্ত আমাদের ছেড়ে চলে গেলেও, ওকে কখনও ভুলব না। ওর স্মৃতি এবং ওর অভিনীত ছবিগুলো চিরকাল থেকে যাবে।’
লকডাউনে সিনেমা হল বন্ধ থাকায় গত ২৪ জুলাই ডিজনি+ হটস্টারে মুক্তি পায় ‘দিল বেচারা’। সুশান্তের হয়ে বলিউডের প্রায় সব কলাকুশলীই অনলাইনে ছবিটি প্রমোট করেন। মুক্তি পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ছবিটি অনলাইেন ৯ কোটি ৫০ লাখ বার দেখা হয়। গড়ে ২০০ টাকা করে যদি সিনেমার টিকিটের দাম ধরা হয়, সেই হিসেবে সিনেমা হলে মুক্তি পেলে ছবিটি এক দিনে প্রায় ২০০০ কোটি টাকার ব্যবসা করত বলে মনে করছেন অনেকেই।
আইএমডিবি’র রেটিংয়ে ছবিটি শুরুতে দশে দশ পেলেও, পরে তা কমে দাঁড়ায় ৯.৯। আর কোনও ভারতীয় ছবির এই রেকর্ড নেই। যদিও এই রেটিং কমে এখন ৯.২ হয়েছে।
সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু নিয়ে ক্রমশই জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে রহস্য। উঠে আসছে এমন কিছু তথ্য, যা এর আগে কাক-পক্ষীও টের পায়নি। সামনে আসছে বিভিন্ন প্রশ্ন। এ মামলায় নামিদামি অভিনেতা-অভিনেত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত তার বান্ধবী রিয়া ও রিয়ার পরিবারের সদস্যসহ মোট ছয় জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে সুশান্তের বাবা। রিয়াও আইনের আশ্রয় নিয়েছেন।
কিন্তু এবার রিয়ার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন সুশান্তের ফিটনেস ট্রেনার সমীর আহমেদ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দাবাজার পত্রিকা শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিষয়টি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, গত পাঁচ বছর সমীরের তত্ত্বাবধানে শরীরচর্চা করেছেন সুশান্ত। পেশাদার সম্পর্কের বাইরে তিনি সুশান্তের ঘনিষ্ঠ বন্ধুও ছিলেন। তাঁর দাবি, সুশান্ত কী ওষুধ খাবেন, সেটা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করতেন রিয়া।
তবে সুপ্রিম কোর্টে রিয়া তাঁর আবেদনে জানিয়েছেন, সুশান্ত অবসাদের শিকার ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অবসাদের ওষুধ খাচ্ছিলেন।
কিন্তু ট্রেনার সমীরের দাবি, সুশান্তের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়েছিল গত ১ জুন। তার আগে ২৯ মে নিজের মাকে হারিয়েছিলেন সমীর। বিষয়টি জানতে পেরে সুশান্ত তাঁকে ফোন করেছিলেন। ফোনে কথা বলার সময় সুশান্ত সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিলেন বলে দাবি সমীরের।
রিয়ার দাবি, সুশান্ত অবসাদে ভুগছিলেন। এজন্য ওষুধও খাচ্ছিলেন। কিন্তু এই ‘ওষুধ’-এর প্রাসঙ্গিকতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন ট্রেনার সমীর।
সমীরের প্রশ্ন, ওষুধ দেওয়ার আগে কি চিকিৎসক সুশান্তের সঙ্গে কথা বলেছিলেন? মানসিক অবসাদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে চিকিৎসক-রোগী কাউন্সেলিং বিশেষ প্রয়োজন। সেটা কি সুশান্তের বেলায় হয়েছিল?
সমীরের দাবি, তার ক্লায়েন্ট কী ওষুধ খাচ্ছেন, সেটা একজন ফিটনেস ট্রেনারের জানাটা খুবই জরুরি। সেভাবেই তিনি ফিটনেস রুটিন ঠিক করেন। কিন্তু সুশান্তকে কী ওষুধ খাওয়ানো হতো সে বিষয়ে সমীরও কিছুই জানতেন না। বিষয়টি পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ করতেন রিয়া। একমাত্র রিয়াই জানতেন সুশান্তকে কী ওষুধ খাওয়ানো হচ্ছে।
ক্রমশই জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে রহস্য। উঠে আসছে এমন কিছু তথ্য, যা এর আগে কাক-পক্ষীও টের পায়নি। সুশান্তের মৃত্যুর এক মাস পর শোকের বোঝা যে মুহূর্তে হাল্কা হচ্ছিল, ঠিক তখনই একটি এফআইআর যেন সব হিসাব-নিকাশ বদলে দিয়েছে রাতারাতি।
এফআইআরে মূল অভিযুক্ত সুশান্তের প্রেমিকা রিয়া চক্রবর্তী।
এফআই করেছেন অভিনেতার বাবা কেকে সিংহ। মুম্বাই পুলিশের ওপর আস্থা রাখতে না পেরেই কেকে সিংহ দ্বারস্থ হয়েছেন বিহার পুলিশের।
কেন আস্থা হারালেন তিনি? কিছু কি আড়াল করার আপ্রাণ চেষ্টা চলছিল এত দিন ধরে? কী সেটি? রিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগই বা কী? সুশান্তের সাবেক প্রেমিকা অঙ্কিতা কী এমন লিখলেন যে, সুশান্তের বোন পূর্ণ সমর্থন জানালেন তাতে?
গত ১৪ জুন বান্দ্রায় নিজের ফ্ল্যাটে সুশান্তের নিথর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে মুম্বই পুলিশ। হতবাক হয়ে যায় গোটা দেশ।
হাসিখুশি ছেলেটা আত্মহত্যা করল? কেন? এর মধ্যেই জানা যায়, গোটা লকডাউনটাই নাকি সুশান্তের সঙ্গে একই ফ্ল্যাটে ছিলেন রিয়া। অথচ তারা যে সম্পর্কে রয়েছেন, সে কথা এর আগে বার বার অস্বীকার করেছেন রিয়া! নেটিজেনরা মনকে বোঝালেন, অনেক সময়েই সম্পর্ক গোপন করেন তারকারা। সে জন্যই হয়তো রিয়াও চেপে গিয়েছেন একত্রবাসের কথা।
এরই মধ্যে জানা যায়, মৃত্যুর ঠিক কয়েক দিন আগেই নাকি সুশান্তের সঙ্গে ঝগড়া করে বাড়ি ছাড়েন রিয়া। আগুনে ঘি পড়ে, যখন রিয়ার সঙ্গে পরিচালক মহেশ ভাটের কিছু ছবি হঠাৎ করেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়।
সেই সব ছবিতে কখনও রিয়ার বুকে মহেশের মাথা আবার কখনও বা রিয়া মহেশকে লিখেছেন ‘মাই বুঢডা'।
শুরু হয়ে যায় রিয়ার সঙ্গে মহেশের সম্পর্কের কাটাছেঁড়া। রিয়া মহেশকে নিজের ‘মেন্টর’ বলে পরিচয় দিয়ে এসেছেন এর আগে। মহেশের হাত ধরেই তার হিন্দি ছবিতে পা রাখা। রিয়া-মহেশকে জড়িয়ে যখন চারিদিকে কুৎসিত ইঙ্গিতের প্লাবন, ঠিক তখনই মহেশ-রিয়া ঘনিষ্ঠ লেখিকা সুহৃতা দাস ফেসবুকে লেখেন, “মহেশ স্যার বলেছিলেন রিয়াকে সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে। সুশান্তের অবসাদ দেখেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন সুশান্ত যেন আর এক পারভিন ববি। ”
আর চুপ থাকেননি নেটিজেনরা। তারা মোটামুটি নিজেরাই একটা অঙ্ক কষে নেন। মহেশ, রিয়া-সুশান্তের মাঝে নাক গলাচ্ছিলেন। সেই কারণেই তাদের ব্রেক আপ। আর সেই কারণেই সুশান্তের আত্মহত্যা। এরই মধ্যে সুশান্তের মৃত্যুর পর দিন অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউতের বলিউডের স্বজনপোষণ নিয়ে এক জ্বালাময়ী ভাষণ সুশান্ত-মৃত্যু রহস্যে এক নতুন তত্ত্ব নিয়ে আসে, যার নাম 'নেপোটিজম'।
কেউ পক্ষে বলেন, কেউ বিপক্ষে। মহেশ-রিয়া ছাড়াও নেটিজেনদের চোখে ভিলেন হয়ে যান আলিয়া-সোনম-সহ বহু স্টারকিড এবং করন জোহর। সোশ্যাল মিডিয়ায় এতটাই ব্যাকল্যাশের সম্মুখীন হতে হয় তাদের যে, এক এক করে টুইটার ছাড়েন তারা। ওদিকে ততদিনে শুরু হয়ে গিয়েছে সুশান্ত মৃত্যুরহস্যের অনুসন্ধান। মহারাষ্ট্র সরকার আশ্বাস দিয়েছেন, বিচার মিলবেই।
থানায় বয়ান রেকর্ড করতে প্রথম দিনেই ডাক পড়ে সুশান্তের বাবা কেকে সিংহের। মুম্বাই পুলিশ জানান, রিয়ার বিরুদ্ধে বা কারও নাম করেই কিছু বলেননি তিনি। ডাকা হয় রিয়াকেও। রিয়া যান। জানান, বাড়িতে এক বন্ধুর থাকা নিয়েই নাকি সুশান্তের সঙ্গে ঝামেলা হয়েছিল তার। জানা যায়, মৃত্যুর আগের দিন গভীর রাতে সুশান্ত তাকে ফোন করেন। কিন্তু রিয়া সেই ফোন ধরেননি। কেন? রিয়াই জানেন।
ইতিমধ্যেই সুশান্তের ময়না তদন্তের রিপোর্ট এবং ভিসেরা রিপোর্ট এলে তাতে সাফ বলে দেওয়া হয়- হত্যা নয়, আত্মহত্যা। সমান তালে চলতে থাকে জেরা পর্বও। আদিত্য চোপড়া, সঞ্জয় লীলা বানসালী থেকে শুরু করে মহেশ ভাট- বলিউডের নামজাদাদের ডাকা হয় থানায়। মহেশ জোর গলায় জানান, রিয়াকে তিনি বলেননি সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে। সঞ্জয় বলেন, আদিত্য চোপড়ার প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে কাজ করবেন বলেই তার ছবি করতে চাননি সুশান্ত। ওদিকে আদিত্য বলেন, সঞ্জয় যে সুশান্তের সঙ্গে কাজ করতে চান, এমনটা তাকে জানানইনি পরিচালক।
দোষারোপ, পাল্টা অভিযোগ-- এসবের মাঝেই সুশান্ত ভক্তরা সোশ্যাল মিডিয়ায় চিৎকার করে ওঠেন সিবিআই তদন্তের দাবিতে। কঙ্গনা, শেখরের মতো সেলেবরাও গলা মেলান তাতে। এই গোটা সময়েই রিয়া চুপ ছিলেন। ১৪ জুলাই, সুশান্তের মৃত্যুর ঠিক এক মাস পর, সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেন রিয়া।
সেই পোস্টে সুশান্তকে প্রথমবার নিজের প্রেমিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে আবেগঘন কথায় ভরিয়ে তোলেন ইনস্টাগ্রামের দেয়াল। ‘সুশ’-এর সঙ্গে তার যে আজীবনের সম্পর্ক, তা পরিষ্কার ভাষায় লেখেন তিনি। কিন্তু ট্রোলিং তাতে থামেনি। রিয়া পেতে থাকেন ধর্ষণের হুমকিও। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই সব চ্যাট শেয়ার করে সাইবার সেলে অভিযোগ জানানোর কথা ঘোষণা করেন তিনি।
পাশাপাশি রিয়া অমিত শাহকে অনুরোধ করেন, তার বয়ফ্রেন্ড কেন আত্মহত্যা করলেন সেজন্য প্রয়োজনে সিবিআই তদন্ত হোক। সুশান্তের শেষ ছবি ‘দিল বেচারা’ মুক্তির দিনেও সুশান্তের জন্য শুভেচ্ছা জানান তিনি। রিয়ার ওপর নেটিজেনদের ক্ষোভ-রাগ যখন কিছুটা হলেও প্রশমিত হচ্ছিল, ঠিক সেই সময়েই কেকে সিংহের ওই দু’পাতার অভিযোগপত্রটি নতুন করে বিতর্ক জাগিয়ে তুলেছে সারাদেশে। টুইটার খুললেই এখন ট্রেন্ডিং লিস্টে পয়লা নম্বরে #সুশান্ত রিয়া টুইট।
কী লেখা রয়েছে সেই অভিযোগপত্রে? সুশান্তের বাবার প্রশ্ন— ২০১৯ সালের আগে সুশান্তের কোনও মানসিক সমস্যা ছিল বলে তারা জানতেন না। রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হওয়ার পরেই কি এই সমস্যা দেখা দিল? রিয়ার ঠিক করে দেওয়া ডাক্তারই সুশান্তের চিকিৎসা করছিলেন, তিনিও ষড়যন্ত্রে শামিল হতে পারেন। অভিনেতার চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র কেন রিয়া নিজের কাছে রেখেছেন, সে প্রশ্নও তুলেছেন তারা।
সুশান্তের পরিবারের দাবি, রিয়া চক্রবর্তীর সঙ্গে সুশান্তের প্রেম নিয়ে কিছুই জানতেন না তারা। রিয়াকে তারা কখনও দেখেননি এবং সুশান্তের মুখেও কখনও রিয়ার নাম শোনেননি৷ সুশান্তের বাবার অভিযোগ, সুশান্ত আগে যে বাড়িটায় বাস করতেন সেখানে ভূতপ্রেত আছে বলে সেই বাড়ি তাকে ছাড়তে বাধ্য করেছিলেন রিয়া৷ এমনকি লকডাউনের ঠিক আগেই সুশান্তের দেহরক্ষী বদল করেছিলেন রিয়া। কেন?
পরিবারের আরও অভিযোগ, তাদের কাছ থেকে সুশান্তকে দূরে রাখার চেষ্টাও নাকি রিয়া করেছিলেন। রয়েছে আর্থিক তছরুপের অভিযোগও। সুশান্তের একটি অ্যাকাউন্টের ১৭ কোটি টাকা থেকে ১৫ কোটি টাকা অন্য একটি অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার হয়। সেই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সুশান্তের কোনও যোগ নেই।
বন্ধু মহেশ শেট্টির (যাকে মৃত্যুর দিনও সকালে ফোন করেছিলেন) সঙ্গে কুর্গে অর্গ্যানিক ফার্ম খোলার পরিকল্পনা করেছিলেন অভিনেতা। তাতে আপত্তি জানিয়ে রিয়া নাকি প্রচণ্ড অশান্তি করেন।
কেন রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হওয়ার পর থেকে সুশান্তের হাতে ছবির সংখ্যা কমতে থাকে, সে প্রশ্নও তুলেছেন অভিনেতার বাবা। কেনই বা গোটা লকডাউনে সুশান্তের বডিগার্ড সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, উঠছে সেই প্রশ্নও।
সুশান্তের মৃত্যুর কয়েক দিন আগে তার ম্যানেজার দিশার আত্মহত্যার ঘটনায় সুশান্তের নাম জড়িয়ে দেওয়া হবে বলে রিয়া নাকি ভয় ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন তার ছেলের মনে। এমনকি রিয়ার পাতা ফাঁদে তিনি পা দিয়ে ফেলেছেন বলেও বোনকে নাকি ভয়ের কথা জানিয়েছিলেন সুশান্ত, জানিয়েছেন অভিনেতার বাবা।
এরই মধ্যে বুধবার সুশান্তের সাবেক প্রেমিকা অঙ্কিতা লোখণ্ডের একটি পোস্ট আলোড়ন তুলেছে। অঙ্কিতা তার ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, ‘ট্রুথ উইনস’। সেই পোস্টকে সমর্থন জানিয়ে কমেন্টে সুশান্তের দিদি লিখেছেন #জাস্টিস ফর সুশান্ত। অন্যদিকে এত বড় ঘটনায় কঙ্গনা রানাউত চুপ থাকবেন, এমনটা হয় না। টুইটারে রিয়াকে ‘গোল্ড ডিগার’ বলে উল্লেখ করেছেন কঙ্গনা।
তার সঙ্গে মহেশ ভাট ও রিয়ার একটি পুরনো ছবি এবং সুশান্তের মৃত্যুর পরে ফারহান আখতারের বাড়িতে রিয়ার যাওয়ার ছবি পোস্ট করেছেন। লিখেছেন, ‘‘ওর কি সুশান্তকে হত্যা করার যথেষ্ট কারণ ছিল? না কি মুভি মাফিয়ারা ওকে ব্যবহার করেছে?’’ কীভাবে রিয়ার মতো স্ট্রাগলিং অ্যাক্টর সালমান খান, সঞ্জয় দত্তের কেস লড়া আইনজীবীকে বহাল করলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কঙ্গনা।
যদিও এই ব্যাপারে আরও একটি পাল্টা প্রশ্নও উঠছে। এত দিন কেন চুপ ছিলেন সুশান্তের পরিবার? এ প্রসঙ্গে সুশান্তের পরিবারের আইনজীবী জানান, সুশান্তের এই হঠাৎ চলে যাওয়ায় পরিবারের ওপর দিয়ে ঝড় বয়ে গিয়েছিল। তার আরও অভিযোগ, "মুম্বাই পুলিশ নাকি এর আগে অনেক বার বলা সত্ত্বেও রিয়ার বিরুদ্ধে এফআইআর নিচ্ছিল না। বরং বলিউডের বড় প্রযোজনা সংস্থাগুলোর নাম নেওয়ার জন্য জোর দিচ্ছিলেন তারা। ’’
কিন্তু সুশান্ত নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকায় রিয়া অভিনেতার ল্যাপটপ, চিকিৎসার কাগজপত্র, ক্যাশ ইত্যাদি নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। কেকে সিংহের অভিযোগ, ছেলের ক্যারিয়ার শেষ করে দিতে চাইছিলেন রিয়া। এমনকি তিনি সুশান্তকে জনসমক্ষে পাগল প্রমাণ করার জন্য মেডিক্যাল রিপোর্ট ফাঁসের ভয় দেখাতেন!
সুশান্তের পরিবারের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, মুম্বাই পুলিশের ওপর আর আস্থা নেই তাদের। তারা চান, বিহার পুলিশ ব্যাপারটা দেখুক। ওদিকে সিবিআই তদন্তের প্রসঙ্গে মহারাষ্ট্রের গৃহমন্ত্রী অনিল দেশমুখ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তার দরকার নেই। কিন্তু বিহার পুলিশ থেমে নেই। যুদ্ধকালীন প্রস্তুতিতে কাজ শুরু করে দিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবারই মুম্বাই পৌঁছে গিয়েছে বিহার পুলিশের চার সদস্যের একটি দল। কিন্তু পুলিশ সূত্রে খবর, রিয়ার বাড়িতে পৌঁছে তাকে নাকি পাওয়া যায়নি। কোথায় গেলেন তিনি? রাতারাতি গায়েব কী করে হয়ে গেলেন রিয়া? অথচ সোমবার রাতেই তার বাড়ি থেকে বের হতে দেখা গেছে বিখ্যাত আইনজীবী আনন্দিনী ফার্নান্ডেজকে। খবর আসছিল, আগাম জামিনের ব্যবস্থা করে রাখছেন রিয়া। এমনকি, বিহার পুলিশের এই তদন্তের বিরুদ্ধে তিনি বুধবারই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন বলে জানা যায়। তবে এখন তিনি হঠাৎ উধাও হয়ে গেলেন কার পরামর্শে?
অন্যদিকে বিহার পুলিশ সূত্রে খবর, রিয়ার বিরুদ্ধে আওয়াজ উঠিয়েছেন সুশান্তের দীর্ঘ দিনের প্রেমিকা, বর্তমানে প্রাক্তন অঙ্কিতা লোখণ্ডে। সুশান্তের সঙ্গে তার শেষ কথোপকথন ইতিমধ্যেই পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন তিনি। সেখানেও নাকি সুশান্ত তাকে জানিয়েছিলেন, এই সম্পর্কে খুশি নেই তিনি।
সুশান্তের মৃত্যু হত্যা, না কি আত্মহত্যা বা তাকে আত্মহত্যার পথে ঠেলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছিল- এখন এমন হাজারো প্রশ্ন অনুরাগীদের মনে। বিহার পুলিশ, না মুম্বাই পুলিশ? তা নিয়েও এখন ভাগাভাগি। সত্যিটা কী? উত্তরের অপেক্ষায় নেটিজেন থেকে সেলেব জগৎ-'জাস্টিস’ কি মিলবে অবশেষে?
“বলিউড ইন্ডাস্ট্রি থেকে অস্কার পাওয়া মানে মৃত্যুকে চুম্বন করা… তোমার সমস্যা কোথায় জানো? তুমি অস্কার পেয়ে গিয়েছো!”, এ আর রহমানের প্রতি বিস্ফোরক মন্তব্য পরিচালক শেখর কাপুরের। যাঁকে কিনা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর থেকেই ইন্ডাস্ট্রির স্বজনপোষণ নিয়ে মুখ খুলতে দেখা গিয়েছে। তা শেখর কাপুর হঠাৎ এমন বিস্ফোরক মন্তব্য কেন করলেন রহমানের (A.R. Rahaman) উদ্দেশে? আসলে সম্প্রতি রহমান এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “বলিউডে আমি কোণঠাসা। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে এমন একটা গ্যাং রয়েছে, যারা সবসময়েই আমার বিরুদ্ধে একটা গুজব রটিয়ে বেড়ায়। মুকেশ ছাবড়া যখন আমার কাছে ‘দিল বেচারা’র প্রস্তাব নিয়ে আসেন তখন সেই ধারণা আমার আরও পরিষ্কার হয়…।” রহমানের এমন মন্তব্যের পর যথারীতি শোরগোল পড়ে যায়। প্রশ্ন ওঠে যে, কোন গ্যাং, কাদের বিরুদ্ধেই বা অভিযোগ তুললেন রহমান? ভারতের একমাত্র অস্কারজয়ী সংগীত পরিচালকের মুখে যখন এমন বিস্ফোরক মন্তব্য শোনা যায়, সেই বিষয়ে কৌতূহল থাকাটাই স্বাভাবিক! আর ‘মোৎজার্ট অফ মাদ্রাস’-এর এমন মন্তব্যের রেশ ধরেই ফের মুখ খুললেন শেখর কাপুর (Shekhar Kapoor)। কোনওরকম রাখঢাক না করেই সাফ ইন্ডাস্ট্রির দিকে তোপ দেগে বললেন, “এ আর রহমান, তোমার সমস্যাটা কোথায় জানো? তুমি অস্কার পেয়ে গেছো। বলিউড থেকে অস্কার পাওয়া মানে মৃত্যুর মুখে চুম্বন করা। আর এখানেই তুমি তোমার প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছ, যা বলিউড ঠিকঠাক মেনে নিতে পারছে না।”
পরিচালক শেখরের এই টুইটের পর উত্তরও করেছেন রহমান। তাঁর কথায়, ”হারানো অর্থ ফিরে আসে, খ্যাতিও ফিরে আসে। তবে জীবনের যে মূল্যবান সময় নষ্ট করা হয়, তা আর ফেরে না। শান্ত থাকুন! এই রেশ থেকে বেরিয়ে আসুন। আমাদের আরও অনেক কিছু করার আছে জীবনে।”
রহমানের মতো সংগীত পরিচালকের কাছ থেকে এরকম উত্তর আসাটাই তো স্বাভাবিক। কারণ তাঁর মন্তব্য, কোনও একটা গ্যাংয়ের চক্রান্তের শিকার হয়ে ডার্ক কিছু ছবির কাজ আমাকে বেছে নিতে হলেও আমি কিন্তু কাউকে জানাইও না যে তাঁরা কতটা ক্ষতি করছে। আমি ঈশ্বরের উপর বিশ্বাস রাখি। অন্য অনেক কাজ করছি আমি। তাই সবাইকে বলছি, আরও ভাল ভাল ছবি বানান এবং সেসব ছবির মিউজিকের জন্য আপনারা যে কোনও সময়ে আসতে পারেন আমার কাছে।”
গত ১৪ জুন সুশান্ত সিংহ রাজপুতের আত্মহত্যার ঘটনার পর থেকেই যাঁর নাম বারে বারে উঠে এসেছে তিনি পরিচালক মহেশ ভট্ট। রিয়া চক্রবর্তীকে সুশান্তের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখার পরামর্শ দেওয়া থেকে শুরু করে ইচ্ছাকৃত ভাবে সুশান্তকে বলিপাড়ায় একঘরে করে দেওয়ার মতো অভিযোগ উঠেছে তাঁর উপর। সুশান্তের প্রেমিকা রিয়া এবং মহেশের সম্পর্ক নিয়েও হয়েছে জলঘোলা। সুশান্ত ফ্যানেরাও মহেশের উপর বেজায় চটে রয়েছেন। মহেশের উপর নেটাগরিকদের রাগের শিকার হতে হয়েছে মেয়ে আলিয়াকেও। ট্রোল হয়েছেন তিনিও।
এ রকম অবস্থাতেই রবিবার অনিল দেশমুখ সংবাদ সংস্থা এএনআই কে জানান, দু’এক দিনের মধ্যেই তলব করা হবে মহেশ ভট্টকে। তিনি আরও জানান, সুশান্ত কান্ডে ইতিমধ্যেই ডাকা হয়েছে কর্ণ জোহরের ম্যানেজারকে। প্রয়োজনে ডাকা হতে পারে কর্ণকেও।
অনিলের কথাতেই জানা গিয়েছে দিন কয়েক আগেই মুম্বই পুলিশ ডেকে পাঠিয়েছে অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউতকেও। সুশান্ত মারা যাওয়ার পর কঙ্গনাই সর্বপ্রথম বলিউডের স্বজনপোষণ নিয়ে সরব হয়েছিলেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। শুধু তাই নয় সুশান্তের মৃত্যুর পেছনে পরোক্ষে দায়ি করেছিলেন মহেশ ভট্ট, আদিত্য চোপড়া এবং কর্ণ জোহরের মতো বলিউডের নামিদামী নামেদের। যদিও কঙ্গনা জানিয়েছেন, আপাতত তিনি পরিবারের সঙ্গে হিমাচল প্রদেশে থাকার কারণে এই মুহূর্তে তাঁর পক্ষে মুম্বই আসা সম্ভব নয়।
সুশান্ত মৃত্যুতে এ পর্যন্ত মোট ৩৯ জনের বয়ান নিয়েছে মুম্বই পুলিশ। এঁদের মধ্যে সুশান্তের প্রেমিকা রিয়া চক্রবর্তী ছাড়াও রয়েছেন পরিচালক আদিত্য চোপড়া, সঞ্জয় লীলা ভন্সালি, চিত্র সমালোচক রাজীব মসন্দের মতো বলিউডের নামজাদা ব্যক্তিত্বরা।
মৃত্যুর ঠিক আগে ‘ছিঁছোড়ে’ দেখছিল কিশোরী। যে ছবিতে সুশান্ত দর্শকদের জীবনদর্শনের পাঠ পড়য়েছিলেন। শিখিয়েছিলেন জীবনে চড়াই-উতরাইয়ের মাঝেও কীভাবে ফিনিক্স পাখির মতো আবারও ডানা ঝাপটাতে হয়। কিন্তু রিল লাইফের সেই কাহিনিকে মিথ্যে করে দিয়েই গত ১৪ জুন সুশান্ত বিদায় নিয়েছেন ইহজগৎ থেকে। গত একমাসে প্রিয় অভিনেতার চলে যাওয়ার শোকের সঙ্গে যুঝে উঠতে পারছিল না, তাই বাড়ির সবার অন্তরালেই গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলে পড়ল কিশোরী। আজ ঠিক একমাস ১০ দিন হতে চলল সুশান্ত সিং রাজপুতের (Sushant Singh Rajput) মৃত্যুর। এখনও শোকবিহ্বল অনেকেই। গত এক মাসে প্রিয় বলিউড অভিনেতার চলে যাওয়ার শোক কাটিয়ে উঠতে না পেরে তাঁর অনুকরণেই গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন একাধিক অনুরাগী। ‘দিল বেচারা’ মুক্তির আগের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার আবারও এক সুশান্ত ভক্তের আত্মহত্যার খবর প্রকাশ্যে এল। ঘটনাটি ছত্তিশগড়ের (Chhattisgarh)। ১৩ বছরের কিশোরী সুশান্ত মারা যাওয়ার দুঃখ সামলাতে না পেরেই আত্মহত্যা করেছেন। এদিন দুর্গ জেলার ভিলাইয়ের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় ক্লাস সেভেনের ওই ছাত্রীর মৃতদেহ। পুলিশ সূত্রে খবর, মেয়েটির ঘর থেকে একটি সুইসাইড নোট মিলেছে। সেখানে সাফ লেখা, সুশান্তের মৃত্যুর শোক সামলাতে না পেরেই নিজের জীবন শেষ করে দিচ্ছে সে। মৃতার পরিবারের সদস্যরাও জানিয়েছেন যে, সে সুশান্তের প্রচণ্ড ভক্ত। অভিনেতার মৃত্যুর পর থেকেই সারাদিন তাঁর অভিনীত ছবি, গান এবং ভিডিও দেখতো। তবে ওই সুইসাইড নোট মেয়েটিরই লেখা কিনা পুলিশ খতিয়ে দেখছে বলে জানা গিয়েছে।
বলিউড অভিনেত্রী সোনম কাপুরকে গ্রেফতার করার দাবি জানিয়েছেন আসজাদ নাজির নামের এক ব্যক্তি। কিন্তু কেন এমন অদ্ভুত দাবি করেছেন আসজাদ নামের সেই ব্যক্তি?
ভিডিওটিতে দেখা যায় সোনম কাপুর বাড়ির বাইরে গিয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশে শরীর চর্চা করছে। শরীর চর্চার জন্য ঘর ছেড়ে বাইরে যাওয়াতেই মূলত তোপের মুখে পড়েছেন তিনি। করোনার এই সঙ্কটে কেন বের হলেন তিনি তা নিয়ে চলছে জোর সমালোচনা।
সোনমের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হচ্ছে তিনি কোয়ারেন্টাইন ভেঙে অকারনেই বাইরে বেরিয়ে এসেছেন। শুধু যে আসজাদ নামের ওই ব্যক্তি একাই সমালোচনা করেন তা নয়। কমেন্ট বক্সে অনেকেই দুয়ো দিচ্ছেন সোনমকে। ইতোমধ্যে শেয়ারও হয়েছে অনেক এই পোস্টটি।
শুধুমাত্র সোনম কাপুরকেই কটাক্ষ করে ক্ষ্যান্ত হননি এই আসজাদ নাজির। অভিনেত্রী মৌনি রায়েরও সমালোচনায় মেতেছেন তিনি। কোয়ারেন্টাইন ছেড়ে বাইরে বের হয়েছেন কেন তার জবাব চেয়েছেন তিনি।
এদিকে মৌনি রায় এবং সোনমকে নিয়ে যখন এত সমালোচনা হচ্ছে তখন এ ব্যাপারে মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছেন সোনম কাপুর। সোনমের মতে তারা কোনো নিয়ম ভাঙেনি। বাড়ির পাশে যে বাগান রয়েছে শরীর চর্চার জন্য শুধুমাত্র সেখানেই গিয়েছিলেন তিনি। ফলে বাড়ির বাইরে যাওয়া থেকে নিজেদেরকে বিরত রেখেছেন বলেও জানান এই অভিনেত্রী।
শুধু তাই নয় সোনম কাপুরের পক্ষ থেকে আরও জানান হয় তারা এখন সম্পূর্ন ঘরবন্দি। এমন অযাচিত মন্তব্য করার জন্য মানুষের হাতে অঢেল সময় রয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি আরও জানান এসব মন্তব্যকে পাত্তা দেয়া ঠিক নয়।
সমালোচনার মুখে পড়ে সোনম এমন জবাব দিলেও এ ব্যাপারে মুখ খোলেন নি মৌনি রায়।
আর নয়, এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোল করলেই কিংবা আক্রমণাত্মক কথা বললেই আইনি পথে হাঁটবেন করণ জোহর (Karan Johar)! ইতিমধ্যেই নাকি মায়ানগরীর বেশ কিছু আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা সেরে ফেলেছেন বলিউডের এই পরিচালক-প্রযোজক। কথা বলছেন কয়েকজন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞের সঙ্গেও। প্রসঙ্গত, সুশান্ত সিং রাজপুতের (Sushant Singh Rajput) মৃত্যুর পর থেকেই নেটিজেনদের রোষানলে করণ জোহর। স্বজনপোষণের অভিযোগ তুলে ক্রমাগত ট্রোলড হতে হচ্ছে তাঁকে! পরিস্থিতি নাকি এতটাই সঙ্গীন যে তিনি নাকি অভিমানে মুম্বই ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের বোর্ড থেকে ইস্তফা দিয়ে দিয়েছেন। এমনকী, ‘কফি উইথ করণ’ চ্যাট শোয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দিহান চ্যানেল কর্তৃপক্ষ! উপরন্তু, তাঁর যমজ সন্তান যশ আর রুহিকেও নাকি খুনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আর এসবের জেরেই নাকি করণ মানসিকভাবে এতটাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন যে দিন-রাত কেঁদে ভাসাচ্ছেন! সম্প্রতি তাঁর এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু জানিয়েছিলেন একথা। সুশান্তের আকস্মিক মৃত্যু যে গোটা বিনোদন ইন্ডাস্ট্রিকে এভাবে নাড়িয়ে দেবে, তা বোধহয় কেউ কল্পনাও করতে পারেননি! নেপোটিজম থেকে শুরু করে প্রতিপত্তিশালীদের হুমকি দেওয়া, এমন অনেক বিষয়ই উঠে এসেছে গত এক মাসে। কাদা ছোড়াছুঁড়িও কম হয়নি! নেপোটিজম নিয়ে অভিযোগের তীর মূলত করণ জোহরের দিকে। তবে নেটদুনিয়ায় ক্রমাগত আক্রমণের পরও এযাবৎকাল এই বিষয়ে কোনওরকম মুখ খোলেননি করণ। কারণ? তাঁর আইনজীবীরা তাঁকে চুপ করে থাকারই পরামর্শ দিয়েছিলেন। জল এতদূর গড়িয়েছিল যে, নেটিজেনদের কদর্য মন্তব্য বাণে বিদ্ধ হয়ে করণ টুইটারে সমস্ত তারকাদের আনফলো করে দিয়েছেন। তবে আর চুপ থাকবেন না তিনি। অভিনেত্রী আলিয়ার দিদি শাহিন ভাটের মতোই করণ আইনি পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এক করণ-ঘনিষ্ঠের কথায়, “বিশিষ্ট কয়েকজন আইনজীবীর একটি টিমের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে করণের। সেই টিমে রয়েছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরাও। এই প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা আপাতত সেসব সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলিকে ট্র্যাক করছেন, যারা কিনা করণের সন্তানকে খুন এবং মা হিরু জোহরকে ধর্ষণের হুমকি দিয়েছিল। ওই অ্যাকাউন্টগুলি কি আদতেও সত্যি না ফেক, সেসবও খতিয়ে দেখছেন তাঁরা।” এর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এও জানান যে, যদি কেউ এই ধরণের আক্রমণাত্মক কিংবা কদর্য শব্দ ব্যবহার করে হেনস্তা করে, তাহলে হয় মোটা অঙ্কের জরিমানা দিতে হবে, নতুবা তথ্যপ্রযুক্তি আইনের আওতায় দোষী সাব্যস্ত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জেলও হতে পারে।
মারণ ভাইরাস করোনার পরীক্ষামূলক ভ্যাকসিন শরীরে নিয়ে আপাতত সুস্থ রয়েছেন অক্সফোর্ডের অধ্যাপক। এলিসা গ্রানাটোর সুস্থতার জন্য একযোগে প্রার্থনা করছিলেন গোটা বিশ্বের মানুষ। কারণ, মারণ ভাইরাসকে জব্দ করার ভ্যাকসিন তিনিই প্রথম শরীরে ধারণ করেছিলেন। গোটা দুনিয়া যেভাবে করোনা ত্রাসে কাঁপছে, তাতে ভ্যাকসিনের জন্য যে অধীর অপেক্ষায় রয়েছেন সবাই, তা বলাই বাহুল্য। এর মাঝেই করোনা ভ্যাকসিনের মানব পরীক্ষার জন্য এগিয়ে আসার ইচ্ছেপ্রকাশ করলেন টলিউডের খ্যাতনামা পরিচালক তথা অভিনেত্রী চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়। অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্স অর্থাৎ AIIMS-এর তরফে মানব শরীরে যে করোনা ভ্যাকসিনের পরীক্ষা হতে চলেছে, তাতেই যোগ দেওয়ার ইচ্ছেপ্রকাশ করেছেন চূর্ণী। শুধু তাই নয়, সূত্রের খবর বলছে, ইতিমধ্যেই জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত সিনে-পরিচালক সংশ্লিষ্ট অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্স-এর সঙ্গে ই-মেল পাঠিয়ে যোগাযোগ করেছেন তিনি। কারণ, দেশের এবং মানবতার স্বার্থে নিজেকে করোনা ভাইরাস ভ্যাকসিনের পরীক্ষায় উৎসর্গ করতে চান চূর্ণী।
পরিচালক তথা অভিনেত্রী চূর্ণী অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সের করোনা ভ্যাকসিনের হিউম্যান ট্রায়ালের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্বের শিডিউল দেখে সোমবারই আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন ই-মেল মারফৎ। দেশ এবং মানবজাতির স্বার্থে এই কঠিন সময়ে পরিচালক যেভাবে নিঃস্বার্থে এগিয়ে এসেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। প্রসঙ্গত, চলতি বছরই আন্তর্জাতিক মাতৃ দিবসে ‘নির্বাসিত’ পরিচালক চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায় একটি ফেসবুক পোস্টে হিউম্যান ট্রায়ালের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করার ইচ্ছেপ্রকাশ করেছিলেন। আর সেই ভাবনা থেকেই সোমবার অর্থাৎ ২০ জুলাই স্বেচ্ছায় আবেদন জানিয়ে ফেললেন AIIMS-এ।
বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ বাঁচা-মরা নিয়ে ভাবছেন। স্বপ্ন দেখছেন এক করোনামুক্ত পৃথিবীর। করোনা আক্রান্ত কিংবা সুস্থ হয়ে উঠেছেন এমন মানুষ পরস্পরের প্রতি সহমর্মীতার হাত বাড়াচ্ছেন। বিভিন্ন দেশে ভ্যাকসিন আবিষ্কারের চেষ্টাও চলছে। থেমে নেই ভারতও। আর মানবতার স্বার্থে সেই কর্মযজ্ঞেই এবার যোগ দিলেন চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়।
নিয়মানুযায়ী, হিউম্যান ট্রায়ালে অংশগ্রহণকারীদের শারীরিক কোনও সমস্যা তো নয়ই, কোভিড আক্রান্ত হওয়াও চলবে না। উপরন্তু বয়সসীমাও বেঁধে দেওয়া রয়েছে- ১৮ থেকে ৫৫ বছর। বেশ কিছু শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই ভ্যাকসিন ট্রায়ালের সুযোগ পাবেন তাঁরা।
বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিংয়ের মৃত্যুশোক এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি ভক্তকূল। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় হওয়া মামলার তদন্তও চলছে। এর মধ্যেই প্রকাশ হচ্ছে নানা তথ্য। কখনো অন্যান্য তারকাকে অভিযুক্ত করা, কখনো সুপারস্টারদের বিল বোর্ড ভাঙচুর। তবে মুম্বাই পুলিশ তাদের অনুসন্ধানের পর সুশান্ত আত্মহত্যা করেছেন বলেই নিশ্চিত করেছে। কিন্তু তার আত্মহত্যার জন্য বলিউডের স্বজনপ্রীতিকে দায়ী করছেন ভক্তরা। এরই জের ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বড় বড় রাঘব বোয়ালদের।
নজরদারি আর অভিযোগ থেকে বাদ যাননি পরিচালক শেখর কাপুর, আদিত্য চোপড়াসহ নানা জন। নানা কারণে কোণঠাসা হয়ে পড়া এবং অকারণে সিনেমা থেকে বাদ পড়ার কারণে বিষণ্ণতায় ভুগছিলেন আমির খানের বিখ্যাত সিনেমা পিকেতে আনুষ্কা শর্মার বিপরীতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করা সুশান্ত রাজপুত। এসব কারণেই এখন তদন্তের সূত্র হয়ে উঠেছে পুলিশের। তাকে আত্মহত্যার মতো পরিস্থিতির দিকে যেতে বাধ্য করারে পেছনে কাদের হাত রয়েছে সেটিই এখন দেখা হচ্ছে।
কিন্তু সুশান্ত ভক্তরা এবার ছুটছে অন্য দিকে। বিশ্ব বিখ্যাত অশরীরি বিশেষজ্ঞ স্টিভ হাফকে সুশান্তের আত্মার সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ করে আসছিলেন তার ভক্তরা। এটি সম্ভব হলে সুশান্তের মৃত্যু রহস্য উন্মোচন করা সম্ভব হবে বলে মত তাদের। প্রথমে স্টিভ রাজি না হলেও পরে তিনি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে কাজ শুরু করেন। সুশান্তের আত্মার সঙ্গে কথা বলেছেন বলে দাবি করেছেন তিনি।
গত দশ বছরে স্টিভ কয়েক হাজার মানুষের আত্মার সঙ্গে কথা বলেছেন। স্টিভ গোটা পৃথিবীতে কয়েক মিলিয়ন ভক্ত যোগাড় করেছেন। তার ইউটিউব চ্যানেলে ১৮ লাখ সাবস্ক্রাইবার রয়েছে। তিনি নিজেকে আত্মাদের সঙ্গে কথা বলার এই পদ্ধতির আবিষ্কারক বলে দাবি করে থাকেন।
স্টিভ দাবি করেছেন, স্প্রিট বক্সের মাধ্যমে যোগাযোগ করেন সদ্য প্রয়াত বলিউড অভিনেতা সুশান্তের আত্মার সঙ্গে। এসময় তিনি বেশ কিছু প্রশ্ন করেন তার আত্মাকে এবং এসব প্রশ্নের উত্তরও দিয়েছে সুশান্তের আত্মা। এমন দাবি করে সেই কথোপকথনের ভিডিওটি ইউটিউবে প্রকাশ করেছেন স্টিভ।
স্টিভের প্রকাশিত ভিডিওতে কথোপকথনটি পাঠকের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো;
স্টিভের দাবি করা কথপোকথন তুলে ধরা হলো:
স্টিভ সুশান্ত রাজপুতের আত্মাকে উদ্দেশ্য করে প্রথমেই বলেন, ‘আমি তোমার কাজের সঙ্গে আপনার অভিনয়ের সঙ্গে পরিচিত নই। আমি সিনেমা জগতের কেউ নই। কিন্তু আমি তোমার মৃত্যুর পর দেখলাম অনেক মানুষ তোমাকে ভালোবাসে। পৃথিবীতে তোমার অনেক ভক্ত রয়েছে।’
স্টিভ প্রশ্ন করেন, ‘তুমি কি তোমার ভক্তদের উদ্দেশ্যে কিছু বলতে চাও? তুমি এখন বলতে পারো। আমি এ কাজ (আত্মাদের সঙ্গে কথা বলা) করছি গত দশ বছর যাবত। আমি এই ডিভাইস আবিষ্কার করেছি এবং তোমাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি তোমার সঙ্গে কথপোকথনের জন্য। তুমি যদি তোমার ভক্তদের সঙ্গে কথা বলতে চাও তাদের জন্য কোনো বার্তা দিতে চাও তবে তুমি এটি করতে পারো খুব সহজেই। তুমি কি আমাকে শুনতে পাচ্ছো সুশান্ত? তুমি ব্যস্ত না থাকলে আমার সঙ্গে যোগ দিতে পারো।’
উত্তরে সুশান্ত রাজপুত বলেন, ‘আমি এখন কথা বলার জন্য প্রস্তুত। আমি ব্যস্ত নই।’
এরপর শুরু হয় সাক্ষাৎকার। এই সাক্ষাৎকারের ভিডিও প্রকাশ করেন স্টিভ হাফ। ভিডিওতে দেখা যায় স্টিভকে আর শোনা যায় স্টিভের বক্তব্য অন্যদিকে যন্ত্র থেকে বেরিয়ে আসে সুশান্তের গলা।
প্রশ্ন (স্টিভ): তুমি কি মনে করতে পারো কিভাবে মৃত্যু হয়েছে?
উত্তর (সুশান্ত): ওরা সবাই আমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গিয়েছিল হাসপাতালে।
প্রশ্ন (স্টিভ): তুমি (অন্য কাউকে মনে করে) কি সুশান্তের সঙ্গে দেখা করেছো?
উত্তর (সুশান্ত): আমরা ভ্রমণে আছি এখন।
প্রশ্ন (স্টিভ): তুমি (অন্য কাউকে মনে করে) কি আমাকে সুশান্তের সঙ্গে কথা বলিয়ে দিতে পারবে?
উত্তর (সুশান্ত): আমিই বলছি। আমি এখন কথা বলার জন্য প্রস্তুত।
স্টিভ সুশান্তকে প্রশ্ন করার আগে বলেন,‘আমি ভালোবাসায় বিশ্বাস করি। ভালোবাসাই হচ্ছে জীবনের একমাত্র উপাদান। তোমার এমন অনেক ভক্ত আছে যারা তোমাকে ভালোবাসে। তোমার সাক্ষাৎকার করার জন্য তোমার ভক্তরা হাজার হাজার মেইল করছে আমাকে। অনেক অনুরোধ করছে। অনেক মেইল এখনো আসছে। তারা তোমাকে ভিন্নভাবে হলেও দেখতে চায়। তবে এটি আমাকে খুবই মর্মাহত করেছে কারণ আমি কখনো তোমার সিনেমা দেখি নাই। তোমার ভক্ত নই। তাই আমার তোমার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। তবে আমার তোমার সঙ্গে যোগাযোগ করার এই স্প্রিট বক্স (স্টিভের আবিষ্কৃত অশরীর সঙ্গে কথা বলার যন্ত্র) দিয়ে তোমার সঙ্গে যুক্ত হয়েছি।
যতক্ষণ তুমি (সুশান্ত) অপরপাশে থাকছেন ততক্ষণ আমি তোমার সঙ্গে এই আলোচনা চালিয়ে যেতে চাই। এই যোগাযোগ গোটা মানবজাতির জন্য আশীর্বাদ। তাদের পক্ষ থেকে আমি আত্মাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। তোমার সঙ্গেও।
প্রশ্ন (স্টিভ): তুমি এভাবে পৃথিবীর সঙ্গে যুক্ত হতে পারার বিষয়টাকে কিভাবে দেখছেন?
উত্তর (সুশান্ত): এটা খুবই ভালো হয়েছে হাফ।
প্রশ্ন (স্টিভ): তুমি বলছো, তুমি খুবই সুখে আছো। সত্যিই তাই?
উত্তর (সুশান্ত): হ্যা, আমার ভক্তদের বলো আমি স্বর্গে আছি।
প্রশ্ন (স্টিভ): তুমি স্বর্গে কি দেবতার সঙ্গে আছো?
উত্তর (সুশান্ত): দেবতারা স্বর্গের অল্প আলোতে রয়েছেন।
প্রশ্ন (স্টিভ): তুমি তাহলে অন্য স্বর্গে দেবতার চেয়ে দূরে ভিন্ন পাশে রয়েছো?
উত্তর (সুশান্ত): তারা আমাকে (স্টিভ) দেখতে পাচ্ছে। আমি দেবতার সঙ্গে দেখা করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছি।
প্রশ্ন (স্টিভ): তোমার অনেক ভক্ত আমাকে বলেছে তারা তোমার জন্য প্রার্থনা করছে যেন তুমি দেবতার সাক্ষাৎ পাও।
উত্তর (সুশান্ত): তুমি কি বলতে পারো, ভক্তদের জন্য আমার কী বলা উচিৎ?
প্রশ্ন (স্টিভ): তুমি কি বলতে চাও তাদের, তুমি বলতে পারো এখনই। অবশ্যই আমি তোমাকে অনেক পছন্দ করি এখন। প্রার্থনা করি তোমার জন্য।
উত্তর (সুশান্ত): আমি এখন যাচ্ছি। আমি স্বর্গে একটু বিশ্রাম নিতে যাব।
প্রশ্ন (স্টিভ): তোমাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ সুশান্ত। ধন্যবাদ আমাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য।
উত্তর (সুশান্ত): আমরা এখন যাওয়ার জন্য প্রস্তুত।
প্রশ্ন (স্টিভ): তুমি কি এখনো আমার সঙ্গে আছো?
উত্তর (সুশান্ত): আমি এখন হাটছি।
প্রশ্ন (স্টিভ): অনেক মানুষ তোমার মৃত্যু সম্পর্কে জানতে চায়। তারা বলছে, মৃত্যুর সময় তোমার সঙ্গে অনেক খারাপ কিছু হয়েছে। তুমি কেন আত্মহত্যার মতো পথ বেছে নিলে? তুমি কি সেখানে এখন তোমার নিজস্বতা যা তুমি চাও তা পেয়েছো?
উত্তর (সুশান্ত): পেয়েছি। কারণ আমিতো মানুষ।
প্রশ্ন (স্টিভ): ঠিক আছে। তুমি কি তোমার মৃত্যু সম্পর্কে কিছু বলতে পারবে? মানুষ জানতে চায় বিস্তারিত।
উত্তর (সুশান্ত): এ প্রসঙ্গ বাদ দাও।
প্রশ্ন (স্টিভ): বাদ দেব? এখানে দুটি স্প্রিট বক্স আছে আত্মাদের সাক্ষাৎকার নেয়ার জন্য। আমি তোমার সঙ্গে কথা বলছি একটিতে। কিন্তু অন্যটিতে দেখতে পাচ্ছি তোমার পাশেই একজন শুয়ে আছে মেঝেতে। কে সে?
উত্তর (সুশান্ত): এখানে আমার বাবা।
প্রশ্ন (স্টিভ): আমি কি সত্যিই দেখতে পাচ্ছি?
উত্তর (সুশান্ত): হ্যা আমার দেবতার সঙ্গে।
প্রশ্ন (স্টিভ): তিনি মেঝেতে শুয়ে আছেন?
উত্তর (সুশান্ত): তাদের ছবি।
প্রশ্ন (স্টিভ): সুশান্ত আমি তোমাকে অনুভব করতে পারছি। তুমি এখানেই আছো। সব ভালোবাসা তোমার জন্য আমি উৎসর্গ করছি। হাজার হাজার মানুষ তোমার জন্য শোক প্রকাশ করছেন। তারা তোমার অর্জনের প্রশংসা করছেন। একই সঙ্গে তোমার চলে যাওয়ায় দুঃখ পেয়েছে ভক্তরা। সত্যি বলতে সুশান্ত, তোমার ভক্তদের ভালোবাসা আমাকে উদ্বুদ্ধ করেছে তোমার সঙ্গে যুক্ত হতে। এই পৃথিবী তোমাকে ভালোবাসে।
তোমার অশরীরি শক্তি এবং আমার শক্তি ও জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে আমরা আবারও যুক্ত হতে চাই। তুমি যদি তোমার কোনো বন্ধু বা ভক্তের জন্য কোনো উপদেশ দিতে চান তাদের যদি সহযোগিতা করতে চাও তবে আমি সে কাজে তোমার সঙ্গি হতে চাই।
উত্তর (সুশান্ত): সেটি মৃত্যুর পর।
প্রশ্ন (স্টিভ): আমি জানি তুমি মৃত। কিন্তু তুমি এখন আমার সঙ্গে, পৃথিবীর সঙ্গে কথা বলছো। মানুষের মাঝে চেয়ে দেখো, প্রিয় মানুষের কখনো মৃত্যু হয় না। আমি মানুষের জীবনের ধারনা বদলে দিতে চাই। তাই গত কয়েকবছর যাবত কাজ করে যাচ্ছি। যেন মানুষ ভাবতে পারে তাদের প্রিয়জন ভিন্নভাবে বেঁচে আছে। তারা মরে যায়নি।
প্রশ্ন (স্টিভ): সব ঠিক আছে সুশান্ত। আমি তোমার শক্তি অনুভব করছি এই কক্ষের মধ্যে। আমি গত রাতেও তোমার শক্তি সম্পর্কে বুঝতে পেরেছি। এবং এটি আমার নিজস্ব শক্তির সঙ্গে অনেক মিল রয়েছে।
প্রশ্ন (স্টিভ): তুমি (সুশান্ত) তো ছিলে গতরাতে তাই না?
সুশান্ত (উত্তর): হ্যা আমিই ছিলাম।
প্রশ্ন (স্টিভ): অনেক ভালোবাসা তোমার জন্য সুশান্ত। আমার বন্ধু তুমি। ধন্যবাদ। তোমার শান্তি কামনা করছি।
তার পর ভিডিওতে শোনা যায় একটি নারী কণ্ঠে ভেসে আসে। এবং সাক্ষাৎকারটি শেষ হয়।
তখন স্টিভ বলে ওঠেন, এটি শেষ হলো। এই নারী কণ্ঠ জানিয়ে দিলো আমার আর সুশান্তের কথপোকথন শেষ হওয়ার কথা।
সুশান্তের এবং স্টিভ হাফের এই সাক্ষাৎকার প্রকাশ করা ভারতীয় ইংরেজি ভাষার গণমাধ্যমটির পক্ষে বলা হয়, ‘আমরা এই সাক্ষাৎকারটিতে উল্লেখিত কোনো তথ্যই সত্য বলে মেনে নিচ্ছি না। তবে এটি আমরা প্রকাশ করেছি সুশান্তের ভক্তদের সান্ত্বনা দেওয়ার উদ্দেশে। আমরা আশা করছি, এই সাক্ষাৎকারটি পাঠক স্বাভাবিকভাবেই নেবেন। এবং তারা এটি পড়ে সুশান্তের জন্য প্রার্থনা করবেন। যেন সে মৃত্যুর পরের জীবনে ভালো থাকে।
উল্লেখ্য, সুশান্ত সিং এর বিষয়ে স্টিভের প্রকাশিত এই ভিডিও’র তথ্য নিয়ে সময় নিউজের নিজস্ব কোনো মতামত নেই। সুশান্ত যেহেতু একজন তুমুল জনপ্রিয় ব্যক্তি ছিলেন। তার অনেক ভক্তরা রয়েছেন। এজন্য তার সম্পর্কে প্রকাশিত তথ্যটি এর পাঠকের জন্য তুলে ধরা হয়েছে মাত্র।