মায়ের করোনা উপসর্গ, মিললো না অ্যাম্বুলেন্স, গামছা বেঁধে মাকে বাইকে বসিয়ে হাসপাতালে নিয়ে গেল ছেলে।
বাড়ির বড় দাদা ও বৌদির করোনা আক্রান্ত ভর্তি আছে পাঁশকুড়া করোনা হাসপাতলে। বাড়ির সকলের লালা রস পরীক্ষা হয়েছে। রিপোর্ট এখনো হাতে আসেনি। কিন্তু মায়ের কয়েকদিন ধরে শ্বাসকষ্ট ও জ্বর রয়েছে। সেই জন্য গ্রামীণ আশা কর্মীর সাহায্য চেয়েছিলেন কোলাঘাটের ছাতিনদা গ্রামের ওই যুবক। স্বাস্থ্যকর্মীরা ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আসার কথা জানান। সেই মতন শনিবার ১১ জুলাই কোলাঘাট উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে মাকে নিয়ে বাড়ির ছোট ছেলে চিকিৎসার জন্য যায়। কিন্তু ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে জানায় যে করোনা করোনা উপসর্গ রয়েছে সেখান থেকে পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালেটি হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেয় কোলাঘাট ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডাক্তার । কিন্তু করোনা উপসর্গ থাকায় কোন গাড়ি নিয়ে যেতে রাজি হয়না। মেলেনি সরকারি ও। কোলাঘাটের বিডিওর দ্বারস্থ ও হয় ওই পরিবার। ওই পরিবারের অভিযোগ যে বিডিও সরকারি অ্যাম্বুলেন্স এর ব্যবস্থা করে দিতে পারেননি।
ইতিমধ্যে ক্রমশ অসুস্থ হয়ে পড়ে ওই মহিলা ।বাধ্য হয়ে বাড়ির ছোট ছেলে মায়ের চিকিৎসার জন্য ঝুঁকি নিয়ে মোটর বাইকে মাকে বসিয়ে গামছা দিয়ে বেঁধে পাঁশকুড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সরকারি গাফিলতির চরম নিদর্শন দেখল কোলাঘাটের এলাকাবাসী। যদিও কোলাঘাটের বিডিও মদনমোহন মণ্ডল জানান যে ব্লকের হাতে যে অ্যাম্বুলেন্স ছিল সেটা দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ড্রাইভার মারা গিয়েছে। আর যেই গাড়িটি ছিল সেটা রোগী বহন করছে। তিনি বলেন আমি কিছুক্ষণ ওয়েট করতে বলি ।কিন্তু ওরা ধৈর্য হারিয়ে নিজেরাই নিয়ে চলে যায়। তবে এ ধরনের ঘটনা আর হবেনা । আমরা দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করছি যাতে রোগীরা দ্রুত পরিষেবা পায় । এখন প্রশ্ন উঠেছে তাহলে কি ব্লক প্রশাসন আগে থেকে সচেতন ছিলনা? কেন এত বড় একটি ব্লক একটি মাত্র অ্যাম্বুলেন্স ওপর নির্ভরশীল থাকবে। প্রতিদিন করোনা প্রভাব বাড়ছে কোলাঘাট ব্লক এলাকায়। ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্র কেন তার মা কে পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে মোটর বাইকে করে নিয়ে যাওয়ার জন্য পারমিশন দিল। বা কেন আটকালো না সেই মুহূর্তে। প্রশ্ন তুলেছে আক্রান্তের বাড়ির আত্মীয়-পরিজন। এই মুহূর্তে মা ও ছেলে দুজনেই পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালেটি হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে।


0 coment rios: