Wednesday, 29 September 2021

পুরুলিয়া জয়পুর রাজবাড়ীর দূর্গা পূজার ইতিহাস

 


পুরুলিয়া : বছরের ৩৬১ দিন ব্যাংকের লকারে বন্দী থাকেন দুর্গা মা । দূর্গা পুজোর মা আসেন পুলিশি প্রহরার মধ্যে । চারদিন পুজো শেষে আবার ফিরে যান ব্যাংকের লকারে । প্রাচীন ঐতিহ্য ও আচারবিধি বজায় রেখে দক্ষিণবঙ্গের প্রান্তিক পুরুলিয়া জেলায় জয়পুরের রাজবাড়ীতে এভাবেই পুজো হয়ে আসছে । এই পূজোর অন্যতম আকর্ষণ হলো সোনার দূর্গা মূর্তি পুজো । দূর্গা পূজোর টানা চারদিন জেলা পুলিশের নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রাজ পরিবারে বিরাজমান হয়ে পুজো নেন মা ।

ইংরেজির ১৬০০ সালে উজ্জ্বয়নী থেকে রাজা জয়সিংহ পুরুলিয়া এসে এই এলাকার মুন্ডা সর্দার খামার মুন্ডাকে হত্যাকে হত্যা করে মুন্ডাদের ইষ্টদেবী খাঁড়াকে ছিনিয়ে নিয়ে, শক্তির দেবী হিসেবে বিনা মূর্তিতেই কলা বৌ হিসেবে পুজো করার রীতি প্রচলন করেন । তারপর পুড়ে ছাই হয়ে যায় গোটা ঘর । সেই সময় রাজা কাশিনাথ সিংহ মানত করেন সোনার প্রতিমা তৈরী করে তাতে রুপার চালচিত্র লাগিয়ে মায়ের পুজো করবেন । 

তারপরই সোনার বিগ্রহ তৈরীর জন্য বেনারসের স্বর্ণ শিল্পীদের ডেকে পাঠিয়ে ১ সের সোনার দ্বিভুজা দূর্গা মূর্তি ও দেড় মন রুপার চালচিত্র তৈরী করান । সেই থেকে মহা ধুমধামের সঙ্গে সোনার বিগ্রহ ও রুপোর চালচিত্র পুজো আসছে জয়পুর রাজবাড়ীতে । কিন্তু ১৯৭০ সালে একদল ডাকাত হানা দেয় রাজবাড়ীতে । তৎকালীন জেলা পুলিশ সুপারের উদ্যোগে রাজবাড়ীর দূর্গার স্বর্ণ বিগ্রহের নিরাপত্তা দিতে চালু হয় বিশেষ ব্যবস্থা । ঠিক হয় পূজোর পাঁচ দিন ছাড়া ৩৬১ দিন কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে বিগ্রহকে ব্যাংকের লকারে রাখা হবে । সেই থেকে আজও পর্যন্ত পূজোর পাঁচ দিনের জন্য ব্যাংক থেকে কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পূজোর চারদিন দিন আনা হয় রাজবাড়িতে ।



কিন্তু এবার বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে করোনা। বিগত বছর থেকে করোনা আবহে সাধারণ মানুষের ভিড় এড়াতে সোনার দুর্গা ও রুপোর চালচিত্রকে আনা হয়না রাজবাড়িতে । তবে পুজো হয় প্রাচীন ঐতিহ্য ও রীতিনীতি মেনেই।


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: