Friday, 4 December 2020

শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতার নিরাপত্তারক্ষী প্রত্যাহার

 

জেলা পরিষদের খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা অমূল্য মাইতির নিরাপত্তারক্ষী প্রত্যাহার করে নিল জেলা পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে তার দুজন নিরাপত্তারক্ষীকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন অমূল্য মাইতি। শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ হওয়ার কারণেই অমূল্য মাইতির এই নিরাপত্তারক্ষীদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে বলে মনে করছেন তিনি। 

এর আগে ২০১৫ সালে বিদ্যুৎ কর্মদক্ষ থাকাকালীন প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছিল তার নিরাপত্তারক্ষী। সে সময় পুলিশ সুপার ছিলেন ভারতী ঘোষ। আবারো নিরাপত্তারক্ষী প্রত্যাহার করে নেওয়ায় কিছুটা ক্ষুন্ন হয়েছেন অমূল্য মাইতি। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ যখন জেলা পরিষদ থেকে সবং এর বাড়িতে আসার পরে তার নিরাপত্তা রক্ষীদের কাছে ফোন আসে সবং থানায় গিয়ে রিপোর্টিং করতে হবে। সেই মতো থানায় চলে যায় তারা। তারা যাওয়ার আগেই অমূল্য মাইতি বুঝে গিয়েছিলেন কি হতে চলেছে। তাই তিনি ওই দুই নিরাপত্তারক্ষীদের বলেছিলেন, আপনারা পুলিশের চাকরি করেন, আমার নয়। থানায় যাচ্ছেন সেখান থেকে যদি পুলিশ লাইন মেদিনীপুরে যেতে হয় তাহলে আমার মানবিকতার দিক থেকে আপনাদের সেখানে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করবো। যদি আপনারা আমার থেকে সেই ব্যবস্থায় রাজি থাকেন। অমূল্য বলেন, থানায় যাওয়ার পর রাত ১০ টার সময় এক নিরাপত্তা রক্ষী ফোন করে জানান, যেখানে তারা থাকতেন সেখান থেকে জিনিস পত্র নিয়ে যাচ্ছেন। সেই ঘরের চাবি তার গাড়ির চালককে দেওয়া রয়েছে। 

দু'দিন আগেই সবং প্রাক্তন ব্লক সভাপতি প্রভাস মাইতির বাড়িতে তার স্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। দেহাটি থেকে তেমাথানি পর্যন্ত শুভেন্দু অধিকারী কে নিয়ে আসতে মোটরসাইকেল বাহিনী গিয়েছিল। অমূল্য মাইতি তারপরের দিন অভিযোগ করেছিলেন যারা শুভেন্দু অধিকারী কে নিয়ে আসতে বাইক নিয়ে গিয়েছিলেন তাঁদের তিন-চারজনের বাড়িতে হামলা করা হয়েছে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দলের মধ্যে শুরু হয় কোন দল। তাছাড়া এলাকায় মাস্ক-স্যানিটাইজার বিতরণে শুভেন্দু অধিকারী ছবি ব্যবহার করতেন অমূল্য মাইতি। কর্মধ্যক্ষ অমূল্য মাইতির বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে এর আগে। তার সাথে সাংসদ মানস ভুঁইয়া মধ্যে যে দূরত্ব রয়েছে সে সম্পর্কে অবগত রয়েছেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি খড়গপুর শহরের প্রশাসনিক সভায় যোগ দিতে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অমূল্য মাইতি কে আশ্বস্ত করেছিলেন। এবং গীতা ভূঁইয়াকে নির্দেশ দিয়েছিলেন সবাইকে নিয়ে একসাথে চলার। অমূল্য মাইতি এলাকায় শুভেন্দু অধিকারী ঘনিষ্ঠ হওয়ার কারণে তার নিরাপত্তারক্ষী সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে মনে করলেও তৃণমূলের জেলা নেতারা তা মানতে অস্বীকার করেছেন। জেলা এক নেতার কথায়, কখন কাকে কার জন্য নিরাপত্তারক্ষী প্রয়োজন তা ঠিক করেন পুলিশ আধিকারিকরা। কার নিরাপত্তারক্ষী তুলে নেওয়া হলো সেটা আমাদের বলার বিষয় নয়।


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: