Thursday, 3 December 2020

আমগাছে একইসাথে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার যুবক-যুবতীর দেহ, চাঞ্চল্য এলাকায়

গ্রামের পুকুর পারে আম গাছে একই সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হল যুবক-যুবতীর দেহ।একই ওড়নায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলতে দেখা যায় তাদের। প্রাথমিক ভাবে তাদের প্রেমিক যুগল মনে করা হলেও বাড়ির এবং এলাকার লোকেদের দাবি তাদের একসাথে কোনোদিন ঘুরতে দেখা যায়নি।ফলে কারণ নিয়ে তৈরী হয়েছে ধোঁয়াশা।ঘটনাটি ঘটেছে মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নং ব্লকের কুশীদা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত নসরপুর মাঠের একটি পুকুরের ধারে।ঘটনার ফলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
আত্মঘাতী ওই যুবকের নাম পবিত্র সিংহ (১৭)। বাড়ি কুশীদা গ্রাম পঞ্চায়েতের কুতুবপুর গ্রামে। আত্মঘাতী যুবতীর নাম নিরূপা সিংহ ( ১৫)।বাড়ি কুতুবপুর গ্রামেই ।মেয়ের বাড়ি সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মত খাওয়া,দাওয়া করে তারা কাল তারা ঘুমিয়েছিল।নিরূপা তার বোনের সাথে এক ঘরে ঘুমোয়।সকালে উঠে তার মা মনু সিংহ দেখেন মেয়ে নিরূপা ঘরে নেই।তারপরেই ওই দুঃসংবাদ আসে।এদিকে ছেলের বাড়ির সূত্রে জানা যায় কাল ট্রাক্টরে করে জমির ধান আনতে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল।কিন্তু তারপর থেকে তার আর দেখা পাওয়া যায়নি। ফোন করলে ফোনেও পাওয়া যায়নি। সকালবেলা বাড়িতে খবর আসে ছেলে আত্মঘাতী হয়েছে গ্রামেরই আর এক যুবতীর সাথে।তবে এই ঘটনায় হতবাক সকলেই।কারণ তাদের মধ্যে সম্পর্কের কথা পরিবার বা এলাকার কেউ জানত না। একসাথে কোনোদিন ঘুরতেও দেখা যায়নি। শুধু মেয়ের বাড়ি থেকে তাদের একটি ঘনিষ্ঠ যুগল ছবি উদ্ধার হয়েছে।নশরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজেন সিংহ প্রাতঃভ্রমণে গিয়ে প্রথম দেখেন এই ঘটনা।তারপর এলাকাবাসী এবং তাদের বাড়ির লোককে খবর দেন।
মৃত যুবকের ভাই বিক্রম  জানান," গতকাল সন্ধ্যে বেলা জমির ধান ট্রাক্টরে আনার জন্য জমি গেছিল দাদা। কিন্তু পরে জমিতে গিয়ে আমি  দাদাকে দেখতে পায়নি।ফোন করলেও ফোনে পায়নি। আমরা ভাবি  হয়ত কোথাও গেছে।অবশেষে সকালে এই খবর আসে। কিন্তু ওই মেয়ের সাথে  দাদার সম্পর্কের ব্যাপারে আমি কিছু জানি না।"মেয়ের মামা নিত্যানন্দ সিংহ বলেন, " ছেলে,মেয়ে দুজনেই খুব ভাল ছিল।ওদের মধ্যে কোনো সম্পর্ক ছিল জানতাম না।কিভাবে কি হল ভেবে পাচ্ছি না। "এইভাবে গ্রামের দুই যুবক যুবতীর আত্মহত্যার ঘটনায় যথেষ্ট চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়।ঘটনাস্থলে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত করে দেখছে।


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: