Tuesday, 13 October 2020

পূর্ব বর্ধমান জেলায় পূজা প্যান্ডেলে সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা, পূজা উদ্যোক্তাদের রাত পাহারার ব্যবস্থার নির্দেশ পুলিশ সুপারের



সন্ত্রাসবাদী হামলা কিম্বা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাবাজদের ষড়যন্ত্র  সব কিছু ঠেকাতে রাত জেগে পূজা উদ্যোক্তাদের মণ্ডপ পাহারা দেবার নির্দেশিকা জারি করলেন পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায়। পাশাপাশি তিনি বলেন, আমাদের উৎসবের আবহকে নষ্ট করার জন্য কিছু কিছু শক্তি তৎপর আছে এবং কিছু কুচক্রী সক্রিয় তাই আমাদের সাবধানে থাকতে হবে,যাতে সম্প্রীতির বাতাবরণ নষ্ট না হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পূর্ব বর্ধমান জেলার পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে সমন্বয় বৈঠক করে জেলা প্রশাসন। সেই সভা মঞ্চ থেকেই পুলিশ সুপার এই সতর্কবার্তা জারি করেন।

  সম্প্রতি রাজ্যে বেশ কয়েকটি জেলায় লস্কর-ই-তৈবা, জামাত, মুজাহিদীন সহ একাধিক জঙ্গী সংগঠনের জেহাদীরা বেশ সক্রিয়। উত্তর 24 পরগনা বসিরহাট, মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, বীরভূম, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান জেলায় অতি সক্রিয় বলে এনআইএর দাবি। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন জেহাদী জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশের এসটিএফ ও এনআইএ। কোনভাবেই যেন রাজ্যের শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত না হয়, মানুষ নিরাপদে শারদ উৎসব কে আনন্দ মুখর ভাবে পালন করতে পারে তার জন্য আগাম অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করল পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ। আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তাই উৎসবের দিন গুলিতে আগাম সর্তকতা বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিলেন পূর্ব বর্ধমান জেলার পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায়। এদিন তিনি পূজা উদ্যোক্তাদের জানান প্রত্যেক থানা এরিয়া পুলিশের সাথে যোগাযোগ রেখে পূজার শুরুর দিন থেকে বিসর্জনের দিন পর্যন্ত রাত পাহারার ব্যবস্থা করতে হবে। পালা করে কমিটিকে পাহারাদারদের নাম থানাকে জানাতে হবে। এছাড়াও পুলিশ পেট্রোলিং ও প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে পুলিশ পাহারা আরো বৃদ্ধি করা হবে পুজোর ক'দিন।পুজোর সময় বর্ধমান শহরের  জিটি রোডের আলোগুলো জ্বালানোর ব্যবস্থা করার আর্জি জানানো হলো পুজো কমিটিগুলির সমন্বয় বৈঠকে।

 মঞ্চ থেকে আর্জি শুনে দ্রুত এই বিষয়ে পদক্ষেপ করতে বললেন জেলাশাসক বিজয় ভারতী । এছাড়াও কোভিড পরিস্থিতিতে কিভাবে পুজো করতে হবে সেই নিয়েও  আলোচনা হয়। 
এদিনের  সংস্কৃতি লোকমঞ্চের  বৈঠকে ছিলেন জেলাশাসক বিজয় ভারতী, অতিরিক্ত জেলাশাসক অরিন্দম
নিয়োগী, রজত নন্দা, পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রণব রায় সহ প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগের আধিকারিকরা। সভার শুরুতে কিভাবে পুজোর জন্য আবেদন করতে হবে সেই বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। এরপর মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রণব রায় কোভিড প্রোটকল মেনে পুজো করার বিষয়ে আলোচনা করেন। প্যাণ্ডেলে ভিড় না করা, মাস্ক ব্যবহার করা, মণ্ডপ জীবাণুমুক্ত করা সহ একাধিক বিষয়ে আবেদন করা হয় স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে। 

বিদ্যুৎ,অগ্নিনির্বাপন এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ তাদের নিয়ম নীতি নিয়ে আলোচনা করেন। সভার শেষের দিকে উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন প্রশ্ন উত্তর পর্বের মধ্যেই জিটি রোডে আলো না থাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নবাবহাট সংলগ্ন নেতাজীনগর সার্বজনীন দূর্গাপুজা কমিটির কর্তা প্রণবেশ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন গোলাপবাগ থেকে নবাবহাট পর্যন্ত রাস্তার আলো জ্বলে না। পুজোর সময় আলোগুলি যাতে জ্বলে সেই ব্যপারে নজর দিলে ভালো হয়। সকলেই এই মতকে সমর্থন করেন। ঘটনাকে মেনে নেন স্বয়ং জেলাশাসক। জবাবে জেলাশাসক বলেন, ‘ঠিকই বলেছেন। পুরসভাকে বলব,পুজোর আগে রাস্তায় গর্ত, লাইট, ড্রেন এই ব্যপারগুলো একটু দেখে নিন’। উল্লেখ্য,দীর্ঘদিন ধরেই জিটি রোডের মাঝে উচ্চ বাতিস্তম্ভের আলোগুলি বন্ধ। পুলিশ লাইন এলাকা, গোলাপবাগ থেকে নবাবহাট পর্যন্ত জিটি রোড সন্ধ্যা নামলেই আঁধারে ডুবে যায়। জেলা শাসককের আশ্বাসে খুশি পুজো উদ্যোক্তারা। জেলা শাসক বলেন, পুজোর দিনগুলিতে কোন সমস্যা যাতে না হয় তারজন্য প্রশাসনের তরফে হেল্পলাইন চালু থাকবে। স্বাস্থ্যদপ্তর হেল্পলাইন চালু করেছে। এছাড়াও কোভিড পরিস্থিতি মোকাবিলা, পুজো এবং আইন শৃঙ্খলার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত সরকারী কর্মীদের পুজোর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। 

 তবে পূর্ব বর্ধমানের মত রাজ্যের সর্বত্র প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে পূজা উদ্যোক্তাদের নির্দিষ্ট করা স্বেচ্ছাসেবকদের  রাত পাহাড়ার ব্যবস্থা থাকছে কিনা সেটাই এখন দেখার। প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের কাছে কি কোন আগাম খবর আছে যে সন্ত্রাসবাদীরা এই ধরনের হামলা করতে পারে। শুধু কি রাত পাহারাতেই সেই সমস্যার সমাধান হবে ? যারা পূজা প্যান্ডেলে হামলা করতে পারে তাদের কেন এখনো পুলিশ চিহ্নিত করতে পারছে না। উৎসবমুখর বাঙালীর শারদ উৎসব ভালভাবে কাটুক এটাই সবার প্রার্থনা। কিন্তু শারদীয়া মরসুমে পূর্ব বর্ধমানের পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায়ের পূজা প্যান্ডেলের হামলার আশঙ্কা নতুন করে যে একটা আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করল গোটা রাজ্যের মানুষের মধ্যে তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।

শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: