দার্জিলিং থানায় কর্তব্যরত শহীদ পুলিশ আফিসার অমিতাভ মালিকের আজ তৃতীয় মৃত্যু বার্ষিকী । 2017 সালের 13 অক্টোবর গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনের নেতা বিমল গুরুং কে ধরতে গিয়ে গুরুংয়ের দুষ্কৃতী বাহিনীর হাতে নৃশংস ভাবে খুন হন তরুণ পুলিশ অফিসার অমিতাভ মালিক। কর্ম সূত্রে তিনি দার্জিলিঙে থাকলেও অমিতাভ মালিকের বাড়ী উত্তর 24 পরগনা জেলার মধ্যমগ্রাম পৌরসভার 7 নম্বর ওয়ার্ডের হুমাইপুরে । মঙ্গলবার দুপুরে দ্যা ওয়ালের ক্যামেরা হাজীর হয়েছিল মালিক বাড়ীর অন্দর মহলে। মালিক বাড়ীর হাল হকিকত জানতে শহীদ পুলিশকর্মী অমিতাভ মালিকের বাবা সৌমেন মালিক,মা গঙ্গা মালিক ও ছোট ভাই অরুণাভ মালিকের সাথে কথা আমরা কথা বললাম। প্রত্যেকের গলায় শোনা গেল শুধু আক্ষেপের কথা।
বাবা সৌমেন মালিকের অভিযোগ আমার ছেলে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব রকম সাহায্য করবে বলে মালিক পরিবারকে আশ্বাস দিলেও তা অসম্পূর্ণ থেকে গেছে । সৌমেন বাবুর দাবী ছেলে অমিতাভর এলআইসির নমিনি ছিলেন তিনি আর পেনশনের নমিনি ছিল মা গঙ্গা মালিক। কিন্তু কোন অজ্ঞাত কারণে তার কোনো কিছুই তারা পাননি। এমনকি ছেলের জিনিসপত্র গুলো দার্জিলিং থানার পুলিশ পৌঁছে দেয় নি মধ্যমগ্রামের বাড়ীতে। মা গঙ্গা মালিকের আর্তি আমার ছেলে চলে গেছে কিন্তু তাঁর ব্যবহৃত জিনিসপত্র গুলো যদি সরকার আমাদের কাছে পৌঁছে দিত তাহলে ছেলের শেষ স্মৃতি আকরে ধরে বাকি জীবন টা কাটিয়ে দিতাম।
স্থানীয় প্রতিবেশীদের
অভিযোগ অমিতাভ মালিকের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী বিউটি দত্ত আর কোনো রকম সম্পর্ক রাখেন না শ্বশুর বাড়ীর সঙ্গে। অমিতাভর বাবা মা ভাই কেমন আছে খোঁজ নিয়েও দেখে না। উল্টে অমিতাভর স্থাবর অস্থাবর টাকা পয়সা সব কিছু হাতিয়ে নিয়েছে অন্যায় ভাবে। দার্জিলিং পুলিশের কয়েকজন অফিসার এর সঙ্গে যুক্ত। বিউটি দত্ত আবার সংসার পেতেছে যখন তখন অমিতাভর কোনো কিছুর ওপর আর অধিকার থাকা উচিৎ নয়। কিন্তু পুলিশের একাংশ এই ঘৃণ্য চক্রান্তের সঙ্গে যুক্ত আছে বলেও অভিযোগ করেন অমিতাভর পাড়া প্রতিবেশীরা। অমিতাভর বাবা সৌমেন বাবু পেশায় রাজ মিস্ত্রির কাজ করতেন। গরীবানা মতে সংসার চালিয়ে অমিতাভ ও অরুণাভ কে লেখাপড়া শেখানো থেকে মানুষ করা সব কিছু করেছেন ঐ সামান্য আয় থেকেই। জীবনে সঞ্চয় বলে ঐ দুই ছেলে এবং দুই কামরার বাড়ী। রাজ্য সরকার ছোট ছেলে অরুণাভ মালিক কে রাজ্য সরকারের প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের অফিসে গ্রুপ সি কর্মী হিসাবে অস্থায়ী পদে চাকরী দিয়েছে। কিন্তু তা তিন বছর কেটে গেলেও স্থায়ী করণ করা হয় নি। সেই বিষয়েও দুশ্চিন্তা মালিক পরিবারে। কারন অমিতাভ ছিল মালিক পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি। তার মৃত্যুতে গভীর আর্থিক সঙ্কটে পড়ে বাবা মা ও ভাই। বয়স বৃদ্ধি ও শারীরিক নানা সমস্যার কারণে সৌমেন বাবু আর আগের মত কাজ করতে পারেন না। তাই রোজগারের শেষ ভরসা অরুণাভ মালিক। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে কথা বলতে চান মালিক পরিবার। শোনাতে চান তাঁদের প্রতি বঞ্চনা ও অসহায়তার কথা। বঞ্চিত,উপেক্ষিত বা অবহেলিত যে বিশেষণই যুক্ত করা হোক নাকেন সন্তান হারা মা বাবার কাছে সবটাই যেন ক্ষুদ্র তিলের সমান। না পাওয়ার যন্ত্রণাটা এখন মালিক বাড়ীর ক্ষোভের আগুন অনেকটা তুষের আগুনের মত চাঁপা রয়েছে তা যে কোনো দিন বিস্ফোরিত হতে পারে।




0 coment rios: