অবৈধ ভাবে রাস্তার পাশের সরকারী বনসৃজন প্রকল্পের বন দপ্তরের লাগানো কয়েক কোটি টাকার গাছ কেটে বিক্রী করে দেবার অভিযোগ খোঁদ তৃণমূল পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের বিরুদ্ধে । ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদ জেলার সাগরদীঘি ব্লকের বারালা গ্রাম পঞ্চায়েতে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ বারালা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান নেবুল চন্দ্র মার্জিত কৃষ্ণপুর গ্রামের রাস্তার দুই পাশের সরকারী গাছ বিনা টেন্ডারে বল পূর্বক রাতের অন্ধকারে চোরাই কাঠের কারবারীদের কাছে বিক্রী করে দেয়। যার মূল্য কয়েক কোটি টাকা। বহু মূল্যের প্রায় ১০/১৫ বছরের শিশু,মেহগনি,সাল ও সেগুন গাছ গুলি রাতের অন্ধকারে ইলেক্ট্রিকের করাত দিয়ে কেটে ক্রেন দিয়ে বড়ো ট্রাকে ভর্তি করছিল।
খবর পেয়ে লাঠি সোটা নিয়ে তাড়া করলে কাঠ চোরদের দল পালায়। তবে কাঠ পাচারকারীদের মধ্যে একজন ধরা পরে যায় গ্রামবাসীদের হাতে।তাকে গনধোলাই দিতেই পঞ্চায়েত প্রধানের নাম উঠে আসে। এরপর পুলিশ এসে আটক গাছ চোরকে গ্রামবাসীদের হাত থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। যদিও আটক গাছ চোরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গ্রামবাসীরা আরো জানতে পারেন প্রায় ১৪৫ টি বড়ো গাছ কাঠ চোরাকারবারিদের কাছে গোপনে বিক্রীর পরিকল্পনা করেন গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান নেবুল চন্দ্র মার্জিত নিজেই । যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় 7 কোটি টাকা। রাত পোয়াতেই এ সম্পর্কে গ্রামবাসীরা স্থানীয় ব্লক অফিসে বিডিও কে ও সাগরদিঘি থানায় লিখিত অভিযোগ জানাতে গেলে শাসক দল তৃণমূল পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বলে স্থানীয় ব্লক প্রশাসন বা থানা কোন অভিযোগ গ্রহণ করেনি এবং কোনো ব্যবস্থায় গ্রহণও করেনি বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের। গ্রামবাসীদের দাবী পঞ্চায়েত প্রধান, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, বিডিও ও স্থানীয় থানার পুলিশ সকলেই এই মূল্যবান গাছ চুরির ঘটনায় যুক্ত। যৌথ উদ্যোগে এই কাজ করছে বলে এদের মধ্যে এত স্বামন্বয় ও যোগসাজস।এই ঘৃন্ন অপরাধের বিচার চেয়ে মুর্শিদাবাদ জেলার জেলা শাসকের দ্বারস্থ হয়েছেন গ্রামবাসীরা। যদিও এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকেই প্রধান পলাতক। বাড়ীতে গিয়েও কোনো খোঁজ খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে ৭ কোটি টাকার রফা করে বেপাত্তা তৃণমুল কংগ্রেস পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান স্বাভাবিক ভাবেই অসস্তিতে তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব । যদিও এই বিষয়ে জেলা তৃণমূলের কেউ মুখ খুলতে চায় নি। কৃষ্ণপুর গ্রামের বিজেপি, বামফ্রন্ট, কংগ্রেস সহ সব বিরোধী দলের নেতারা অবশ্য এক যোগে গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানকে গ্রেফতারের পাশাপাশি ব্লক ও থানার পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ও বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবী করেছেন।



0 coment rios: