Saturday, 3 October 2020

দক্ষিণ ২৪ পরগণার কুলতলিতে বাঘের আতঙ্ক

দক্ষিণ ২৪ পরগণার কুলতলির মনিমোহন হালদার ঘেরি গ্রামে সুন্দরবনের জঙ্গল থেকে নদী পেরিয়ে লোকালয়ে বাঘ ঢোকায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়াল। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রথম এলাকার মানুষজন গ্রামে বাঘের উপস্থিতি লক্ষ্য করেন। সাথে সাথে আতঙ্ক ছড়ায় গ্রামে। খবর দেওয়া হয় বন দফতরকে। শুক্রবার রাতেই বন দপ্তরের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে বাঘের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেন। বাঘের পায়ের ছাপ মেলে এলাকায়। সারা রাত আগুনের মশাল জ্বেলে এলাকায় গ্রামবাসীদের নিয়ে পাহারার ব্যবস্থা করেন বন বিভাগের কর্মীরা। লোকালয়ের বেশ কিছুটা এলাকা দড়ি সুতোর নেট জাল দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়। এখনো এলাকায় বন কর্মীরা লাঠি হাতে টহলদারি চালাচ্ছেন।

তবে বন দফতর সূত্রে খবর, বাঘটি হেড়োভাঙার জঙ্গল থেকে বেড়িয়ে পাতাপচা খাল সাঁতরে লোকালয়ে ঢুকেছিল। আবারও বাঘটি গ্রামে আসতে পাড়ে বলে আতঙ্কিত এলাকার সাধারণ মানুষজন। গত দুই মাসে সুন্দবনসংলগ্ন দুই ২৪ পরগনায় বাঘের আক্রমণে ৬ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে।আহত হয়েছেন ১০ জন। নিহত ও আহতেরা প্রত্যেকে দরিদ্র্য শ্রেণীর মানুষ। কেউ মিন বা কাঁকরা ধরতে সুন্দবনসংলগ্ন নদীতে গিয়েছিল আবার কেউ বনে ঢুকেছিল মধু সংগ্রহ করতে। সেই সময় তারা বাঘের আক্রমণে আহত ও নিহত হন। বছরের পর বছর আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পরা সুন্দরবনের মানুষ রুটি রুজির টানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দৈনন্দিন নদীতে ও জঙ্গলে যায় । আর বেঘোরে প্রাণ যায় ।
সুন্দরবন অঞ্চলের কিছু  মানুষ আবার প্রাণে বাঁচতে বিকল্প জীবিকার সন্ধানে পাড়ি দেন ভিন রাজ্য অথবা দেশে। কিন্তু করোনা সংক্রমণ কালে সেপথ ও বন্ধ। রাজনৈতিক দলাদলী আর প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে অনেকে আবার বঞ্চিত হচ্ছেন নানা সরকারী সুযোগ সুবিধা পাওয়ার থেকে। তাই অগত্যা মানুষগুলি নিজের ও পরিবারের পেটের জ্বালা মেটাতে গিয়ে বাঘের পেটে চলে যাচ্ছেন।
 


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: