Friday, 2 October 2020

গান্ধী জয়ন্তীতেই মহাত্মা গান্ধীর অপমান, অনলাইন চিলি চিকেন বিপণনে নিরামিষাশী গান্ধীজি ও জাতীয় পতাকার ব্যবহার সোশ্যাল মিডিয়ার বিজ্ঞাপনে

আজীবন নিরামিষাশী ও ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাসে অহীংস আন্দোলনের প্রতিকৃত মহাত্মা গান্ধীর ১৫০ তম জন্ম জয়ন্তিতেই জাতীর জনক মহাত্মা গান্ধীজির ও দেশের ত্রিবর্ণ জাতীয় পতাকার সঙ্গে এক কোলাজ ফ্রেমে চিলি চিকেনের রসালো রেসিপির বিপণনের বিজ্ঞাপন করে জাতীর জনক মহাত্মা গান্ধীকে চরম অপমান ও অবমাননার নজির গড়লো ক্লাব ভোরদে নামে একটি সংস্থা।  বিশেষ করে রিয়েলেস্টেট, হসপিটালিটি, এডুকেশন, হেল্থ কেয়ার সহ একাধিক  ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বহুজাতিক এই কোম্পানি অম্বুজা নেওটিয়া গোষ্ঠীর স্পন্সরশীপে ক্লাব ভরদে নামের একটি অনলাইন রেস্টুরেন্ট সার্ভিস সংস্থার এই বিজ্ঞাপন সোস্যাল মিডিয়া তে দেখে রীতিমত ক্ষোভে ফেটে পড়েন বাংলার ভোজন রসিক বাঙালি বুদ্ধিজীবীরাও। শিক্ষিত মহলের মানুষ তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দার ঝড় তুলেছেন আম্বুজা নেওটিয়া গোষ্ঠীর ক্লাব ভর্দের বিরুদ্ধে। তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও বিদ্যোজনেরা। সাহিত্যিক ও কবি গৌড় মিত্র জানান প্রথমে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না পড়ে ছবি দেখে আঁতকে উঠলাম । ৭০ এর ঘরে বয়স আমার। জীবনে প্রথম এই ঘটনা দেখলাম মাছ মাংসের খাবারের  আইটেমের বিজ্ঞাপনে গান্ধীজি ও জাতীয় পতাকার ব্যবহার। মহাত্মা গান্ধী গুজরাটের মানুষ এবং আজীবন নিরামিষাশী ছিলেন। তাকে চিলি চিকেন কিম্বা রেশমি কাবাবে টানা মানে জাতীর জনকের অপমান করা। এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে ঐ সংস্থাকে। প্রবীণ শিক্ষাবিদ তথা বারাসাত পৌরসভার প্রশাসক সুনীল মুখোপাধ্যায় বলেন বহুজাতিক কোম্পানি গুলি মুনাফা লাভের উদ্দেশ্যে দেশের সংস্কৃতিকে ধ্বংস করতে চাইছে। মানুষকেই সচেতন হতে হবে এবং এদের বয়কট করে সমস্বরে এর প্রতিবাদ করতে হবে। টলিউডের খ্যাতনামা অভিনেতা রাজ ভট্টাচার্য বলেন বিজ্ঞাপনটি শালীনতা ছাড়িয়েছে। এটা সোস্যাল মিডিয়া বা অন্য কোথাও প্রকাশ করার আগে সেন্সার করা উচিৎ ছিল। দেশের মানুষ এটা ভালো নজরে নেবে না। প্রাক্তন ফুটবলার পার্থ ঘোষ দস্তিদার জানান সত্যাগ্রহ আন্দোলনে জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্ব দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় মোহন দাস করম চাঁদ গান্ধীর অবদান ভারতের প্রতিটি মানুষ স্মরণ করে শ্রদ্ধার সঙ্গে। কিন্তু সেই শ্রদ্ধার মানুষের অপমান হলে শাস্তি ও জরিমানা দুই হওয়া উচিৎ। আমি কেন যেই মানুষ এটা দেখবে বা শুনবে সবাই প্রতিবাদ করবে। তবে বিজ্ঞাপন সোস্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে দেবার আগে সরকারের অনুমতি নেওয়ার নিয়ম করা উচিৎ। জনপ্রিয় চিকিৎসক ডা: প্রিয়নজিত কুমার কয়াল বলেন খাবার হোক বা অন্য কোনো কিছু ব্যবসায়িক বিজ্ঞাপন বা বিপণনের ক্ষেত্রে মনীষীদের ছবি ব্যবহার না করাটাই ভালো। কেউ যদি এটা করে থাকে তাহলে সেটা অন্যায়। দেশের স্বাধীনতার জন্য যারা আত্মবলিদান দিয়েছেন তাঁদের অসম্মান করলে সে কোম্পানী হোক আর ব্যক্তি তাকে সাধারণ মানুষ ছেড়ে কথা বলবে না। ইতিমধ্যেই এই বিজ্ঞাপনকে ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে অনেক। বিশিষ্ট আইনজীবী তুহিনা সিনহা রায় চৌধুরী জানান ঐ কোম্পানীর বিরুদ্ধে সরকারী স্তরে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিৎ । এগুলো চলতে থাকলে নতুন প্রজন্মের ছেলে মেয়েরা কি শিক্ষা পাবে ? আধুনিকতা মানে দেশের শিক্ষা সংস্কৃতিকে ধ্বংস করা নয় বরং ঐতিহ্যকে রক্ষা করে রাখা।  গান্ধী জয়ন্তীতে অনলাইন খাবারের ব্যবসায় গান্ধীজির ছবি ব্যবহার করে চিলি চিকেন বিক্রী করা অন্যায়। ব্যবসায়িক স্বার্থে গান্ধীজিকে অপমান করা হয়েছে। এর তীব্র প্রতিবাদ করছি। এমন প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে সর্বত্র। কিন্তু কোন সাহসে গান্ধীজি কে অপমান করার সাহস দেখালেন ক্লাব ভর্দে ? বহুবার বিজ্ঞাপনে দেওয়া ফোন নাম্বারে কল করেও তার উত্তর পাওয়া যায়নি।                              ক্রমশ.........

 


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: