বঙ্গ বিজেপিতে বড় রদবদল হলো শনিবারের বারবেলায় । আর সেই রদ-বদল এ রাহুল সিনহা কে বধ করে মসনদ দখল করলেন মুকুল রায় ও তার ঘনিষ্ঠ অনুগামী অনুপম হাজরা । পাল্টা তোপ দাগলেন রাহুল সিনহা।তিনি জানান 40 বছর বিজেপির বিশ্বস্ত সৈনিক থাকার পরেও তৃণমূলের লোক কে দলের পদ দিতে হবে বলে তাকে সরিয়ে দেয়া হলো। সব ঘটনা উচ্চ নেতৃত্বকে তিনি জানাবেন এবং আগামী দশ বারো দিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন বলেও জানান। একদা এক সময়ের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপির সভাপতি রাহুল সিনহা কে রাতারাতি বিজেপির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে তৃণমূল থেকে আসা মুকুল রায় কে স্থলাভিষিক্ত করাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে বিজেপির রাজ্য থেকে ব্লক ও বু্থ স্তর পর্যন্ত। মুকুল রায়ের অবশ্য দাবি তাকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যা দায়িত্ব দেবেন তিনি মাথা পেতে নেবে। উল্লেখ্য কৈলাস বিজয়বর্গীয় বিজেপির পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্ব পাওয়ার পর এই কপাল খুলে যায় মুকুল রায়ের। মুকুল রায়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর । যাকে হাতিয়ার করে দিল্লি এবং আরএসএস এর সদরদপ্তর পর্যন্ত মুকুল রায় পৌঁছে যান এক নিমেষে। সাংগঠনিক বিস্তারের দক্ষতা কূটনীতিক এবং তৃণমূলের অন্দরমহল এর খবর আনতে মুকুল রায়ের জুড়ি মেলা ভার। সেটা অবশ্য বিজেপির দিল্লিওয়ালিরা ভালো করেই জানেন। 2021 এর বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার মসনদ দখল করতে তাই একমাত্র ভরসা টিম মুকুল। তাছাড়া মুকুল রায়ের সঙ্গে দিল্লির রাজনীতির সখ্যতা বেশি থাকায় গোষ্ঠী যুদ্ধে অনেকটা পিছিয়ে বাংলার সাবেক বিজেপি নেতারা। রাহুল সিনা তার মধ্যে অন্যতম। ইতিমধ্যেই মেঘালয়ের রাজ্যপাল পদ শেষ হওয়াত পশ্চিমবঙ্গে মাটি পেতে রাজনীতির আঙিনায় নেমে পড়েছেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়ের দাদা তথা বিজেপির নেতা তথাগত রায়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন তা নিয়ে বিজেপির রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মধ্যে দড়ি টানাটানি চলছে। তার প্রথম অধ্যায় শুরু হতেই ছিটকে পড়লেন রাহুল সিনহা। বিজেপি রাজ্য রাজনীতিতে এত বড় রাজনৈতিক বলিদান বিগত দুই দশকেও লক্ষ করা যায়নি।স্বাভাবিকভাবেই দলের অভ্যন্তরে নব্য বিজেপি ও পুরাতন বিজেপির মধ্যে সংঘাত যে নতুন মাত্রা নেবে তা বলার অবকাশ থাকে না। প্রশ্ন হলো রাহুল সিনহা কি তাহলে একদা বিজেপির আলো রানী সরকার দের মত তৃণমূলে যোগদান করবে মুকুলের বদলা নিতে ? 10- 12 দিন অপেক্ষা করতে হবে সেই উত্তরের জন্য। মুকুল ঝরে এমনিতেই বিতশ্রদ্ধ রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। যদিও দিলীপ ঘোষের সঙ্গে রাহুল সিনার সম্পর্ক ভালো নয়।কারণ রাহুল সিনহা কে রাজ্য সভাপতি থেকে সরিয়ে দিলীপ ঘোষ কেই সভাপতি করা হয়েছিল । সেই থেকেই সম্পর্কে ফাটল। কিন্তু দিল্লির কানেকশন ভালো হওয়াতে মুকুল রায় রাজ্য নেতৃত্ব কে টপকে দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে রাজনৈতিক বশীকরণ করতে সক্ষম হয়েছেন। শনিবারের বারবেলা সেই শুভ সন্ধিক্ষণ এর সদ্ব্যবহার করতে ও ছাড়লেন না রাজনৈতিক সুযোগ সন্ধানী মুকুল রায়। লোকসভা নির্বাচনে 18 টি আসন বিজেপির ঝুলিতে আনার পরে মুকুল রায়ের ওপরে আস্থা বারে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের। কঠোর সংরক্ষণবাদী দিলীপ ঘোষ কিংবা রাহুল সিনহারা কোণঠাসা হয়ে পড়ে তখনই। বিধান সভাতে ও সেই ম্যাজিক মুকুলকে পেতে চায় বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। তাই রাতারাতি দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থলাভিষিক্ত করলেন মুকুল রায় কে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আউটপুট চান যা এতদিন বঙ্গ বিজেপির পুরনো নেতৃত্বকে দিয়ে হচ্ছিল না। তাই লোকসভা নির্বাচনে আশা বহির্ভূত ফল এনে দেওয়া মুকুলের ওপরেই আস্থা ও ভরসা বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের।
Saturday, 26 September 2020
Author: subhajit
Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.


0 coment rios: