Friday, 18 September 2020

ভবানী ভবনে ভারতী, বঙ্গজননীর বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন স্বঘোষিত জঙ্গল জননী, অস্বস্তিতে শাসক দল

ভবানী ভবনে শুক্রবার সাত সকালেই হাজির প্রাক্তন পুলিশ কর্তী ভারতী ঘোষ। হাজিরা দেওয়ার আগেই সংবাদ মাধ্যমের সামনে তার ঘোষিত বঙ্গজননী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন বর্তমান স্বঘোষিত জঙ্গল জননী ভারতী ঘোষ। রাজ্য স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান কার্যালয় ভবানী ভবন এর উঠোনে দাঁড়িয়ে  রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে খুন,মিথ্যা মামলা প্রভৃতির অভিযোগ তোলেন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেই। পুরনো একটি মামলার তদন্তের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে আজ ভারতী ঘোষ কে ভবানী ভবনে ডাকাহয়। 
ভবানী ভবনে ঢোকবার আগে তিনি বলেন, আমার নামে আলিপুরদুয়ারে 43/2019 একটা কেস করা হয়েছে । 18 মাস হয়ে গেছে কোনো দিন আমাকে কখনো ডাকা হয়নি । যত বিধানসভা ভোট এগিয়ে আসছে ততই আমাকে ডাকার পরিমান বাড়ছে।  এই কোভিড-19 পরিস্থিতির মধ্যে অনলাইনের মাধ্যমে কথা বলা যেত। কিন্তু আমাকে হ্যারাজমেন্ট করবার জন্য তা করা হয়নি।  বারবার করোনা এর মধ্যে ডাকা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন মমতা ব্যানার্জী এর হাত রক্ত মাখা হাত। জঙ্গল মহলে প্রচুর মানুষ কে মারা হচ্ছে, ফলস কেসে ফাঁসিয়ে দেওয়া হচ্ছে, এর হিসাব ভগবান নেবে । এদিনের ভারতী ঘোষের এই উক্তি স্বভাবতই চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে শাসকদলের কপালে। একসময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গুড বুকে থাকা ভারতী ঘোষ যে এইভাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেবেন বিরোধী দলের আসনে বসে তা স্বপ্নেও কেউ কোনোদিন ভাবতে পারেনি। এই ভারতী ঘোষ ই এক সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে মা ডেকেছিলেন পুলিশ সুপারের চেয়ারে বসেই। সেই ভিডিও বার্তাও ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। তার পরেই অনেক পুলিশ আধিকারিক কে টপকে রাতারাতি ডিআইজি পশ্চিমাঞ্চল পদে আসীন হন ভারতী ঘোষ। সিপিএম থেকে শুরু করে মাওবাদী সবকিছু দমনে সিদ্ধহস্ত ছিল ভারতী ঘোষ। তাই তিনি খুব তাড়াতাড়ি কাছের লোক হয়ে গিয়েছিলেন শাসকদলের। কিন্তু কোনো এক অজ্ঞাত কারণে ভারতী দেবির সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায়।
সেই সুযোগে মুকুল রায়ের তৎপরতায় শুরু হয় বিজেপির রাজনৈতিক ঘর গোছানোর পালা। মুকুল রায় ঘনিষ্ঠ ভারতী ঘোষ যোগদান করে বিজেপিতে। লোকসভা নির্বাচনের আগে থেকেই রাজনৈতিক দলবদল খানিকটা হলেও হাওয়া দেয় বিজেপির পালে। লোকসভায় জঙ্গলমহলে ভোটের ভালো ফলাফল উঠে আসে ভারতীর হাত ধরে। তারপরেই বঙ্গজননীর পাল্টা নিজেকে প্রস্তুত করে নেন জঙ্গল জননী হিসেবে। দুঁদে আইপিএস ভারতী ঘোষ শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের ছত্রছায়া ছাড়ার পর তিনি একাধিক মামলায় জর্জরিত হয়ে ওঠেন। শাসকদলের রোষানল থেকে বাদ যায়নি তার স্বামী ও গাড়ির চালক এমনকি ব্যক্তিগত দেহরক্ষীরাও। প্রশ্ন উঠেছে ভারতী ঘোষ কি বলতে চাইছেন ? 2009 থেকে 2011 সাল পর্যন্ত কিংবা তার পরেও 2012, 2013, 2014 সালেও কি কোনো রাজনৈতিক গুপ্তহত্যা হয়েছে জঙ্গলমহলে ? এই খুন বা মিথ্যা মামলার ষড়যন্ত্রে কারা জড়িত ছিলেন তার তথ্য তাহলে গোপন রাখার চেষ্টা কেন । তবে কি সোনা কান্ড, ফেক এনকাউন্টার, মাওবাদীদের অর্থ লুঠ, সারদার গোপন তথ্য ধামা চাপা দেওয়া প্রভৃতি বিষয়ে যখন ভারতীর আঁতে ঘা লাগছে তখন শাসক দলের সব তথ্য ও চক্রান্ত ফাঁস করে দিচ্ছে । স্বাভাবিকভাবেই রাজ্য পুলিশের সদর দপ্তর ভবানী ভবন এর উঠোনে দাঁড়িয়ে ভারতীর ঘোষের বক্তব্য শাসক দলকে অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে।


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: