সাত লক্ষ টাকা মুক্তিপণ না পেয়ে পূর্ব বর্ধমানের গলসীতে পঞ্চায়েত সদস্যের শিশুপুত্রকে খুন করে ডিভিসির ক্যানেলে ফেলে দিল অপহরণকারীরা। খবর জানাজানি হতেই সাঁকো গ্রামে অভিযুক্তদের বাড়ি ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেয় উত্তেজিত গ্রামবাসীরা। ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গলসী থানার বিশাল পুলিশবাহিনী। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে গ্রেপ্তার 6 জন অভিযুক্ত গ্রামবাসী। বুধবার বিকেলে অপহরণ করা হয়।গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যের ৯ বছরের শিশুকে এবং ৭ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
গলসীর সাঁকো গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য বুদ্ধদেব দলুইয়ের ৯ বছরের শিশুপুত্র সন্দীপকে অপহরণের পর ৭ লক্ষ টাকা চেয়ে বাড়িতে ফোন আসে বাবা বুদ্ধদেব দলুইয়ের মোবাইলে। দিন আনা দিন খাওয়া পঞ্চায়েত সদস্য বুদ্ধদেব বাবু সাত লক্ষ টাকা দেবার মত সামর্থ্য তার নেই বলে জানান অপহরণ কারীদের। এর পরে মুক্তিপণের টাকার পরিমাণ কমে যায় এবং দ্বিতীয় বার ফোন করে ৩ লক্ষ টাকা দাবি করে অপহরণকারীরা।মুক্তিপণের পাশাপাশি অপহরণ কারীদের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারী দেওয়া হয় এব্যাপারে পুলিশ বা প্রতিবেশীদের জানালে শিশুপুত্রকে মেরে ফেলা হবে। পরিবারের সূত্রে জানা গেছে বুধবার সাঁকো গ্রামে মনসা পুজো ছিল। বিকেলে পাড়াতে বাড়ির কাছেই সন্দীপ মনসা মন্দিরে যায় পূজোর প্রসাদ খেতে। তারপর থেকেই তার আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। সন্ধ্যায় গোটা পাড়ায় খোঁজাখুজি শুরু হয়। কিন্তু কোথাও সন্দীপের খোঁজ পাওয়া যায় নি। এরপর রাতে মুক্তিপণ চেয়ে বুদ্ধদেব বাবুর মোবাইলে ফোন করা হয়।
সন্দীপ দলুই স্থানীয় স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। বাবা বুদ্ধদেব দলুই প্রাক্তন গলসী ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য। কিন্তু বর্তমানে তিনি সাঁকো গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য। বৃহস্পতিবার গোটা বিষয়টি গলসী থানায় লিখিত ভাবে অভিযোগ জানানো হয়। গলসী থানার পুলিশ তদন্তে নেমে মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। শুত্রুবার সাতসকালে ডিভিসির সেচখালের জল থেকে হাত পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার হয় সন্দীপ দলুইয়ের নিথর দেহ। অপহরণ ও খুনে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যে গলসী থানার পুলিশ স্থানীয় সাঁকো মেটে পাড়া এলাকার তিন জনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের নাম সুব্রত মাঝি ওরফে বাদশা, বাড়ি সাঁকো ডোমপাড়ায়। বাকী আর এক জন অভিযুক্তের নাম জয়ন্ত বাগ ওরফে নিরঞ্জন, বাড়ি মেটেপাড়ায়। তৃতীয় জনের নাম মঙ্গলদীপ দলুই ওরফে বাবু, বাড়ি সাঁকোর মেটেপাড়া।
আজ শুক্রবার ভোর বেলায় মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার পর ক্ষিপ্ত গ্রামবাসীরা অভিযুক্তদের বাড়িতে হামলা চালায় ও বাড়িঘর আসবাবপত্র ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। গ্রামে উত্তেজনা থাকায় এলাকায় পুলিশ টহল দিচ্ছে। তবে এই খুনের ঘটনার পিছনে শুধুই মুক্তিপণ দাবী করেছেন অপহরণকারীরা না অন্য কোন রাজনৈতিক হিংসার কারণ আছে তার তদন্তে নেমেছে গলসী থানার পুলিশ।



0 coment rios: