ভাঙ্গড় আছে ভাঙ্গড়েই। তৃণমূল কংগ্রেসের সংখ্যালঘু সেল জনসভায় ভিড় টানতে মিছিলে যুক্ত করলো ডিজে বাজনার সঙ্গে অশ্লীল,চটুল উদ্দাম নাচগান যা ইসলাম বিরুদ্ধ আচরণ। স্তম্ভিত সুস্থ সংস্কৃতির ধারক ইসলাম সমাজ। ফের তৃণমূলের সভায় চটুল নাচের পুনরাবৃত্তি ভাঙড়ের বুকে। বছর কয়েক আগে ১লা জানুয়ারি তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা দিবসের দিন ভাঙড়ে তৃণমূলের সভা মঞ্চ থেকে চটুল নাচ পরিবেশিত হয়েছিল। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তোলপাড় হয়েছিল রাজ্য রাজনীতি। সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হল গতকাল শনিবার দুপুরে ভাঙড়ের শোনপুরে তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের ডাকে কেন্দ্রের কৃষি বিরোধী নীতির প্রতিবাদে আয়োজিত জন সভায়। সেই জন সভায় ভাঙড়ের তৃণমূল নেতা নান্নু হোসেন উপস্থিত ছিলেন। সভায় যোগ দিতে এসেছিলেন দক্ষিন ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূলের সভাপতি শুভাশিস চক্রবর্তী। আর সেই সভাস্থলেই চলল চটুল নাচ। ভোজপুরি গানের সাথে চটুল নাচে মাতলেন তৃণমূল কর্মীরা।
তারমধ্যে মিছিলের আকর্ষণ বাড়াতে ভাড়া করে আনা ডিজের সঙ্গে অশ্লীল পোষাক পরে অর্ধনারীর উদ্দাম নৃত্য। করোনা আবহে যখন শারীরিক দূরত্বের বিধিনিষেধ মেনে চলতে বলা হচ্ছে,তখন সেই সরকারি নির্দেশিকাকে উপেক্ষা করে সভা করছে তৃণমূল। আর সেই সভায় উদ্দাম অশ্লীল নাচে মেতেছেন তৃণমূল কর্মীরা। একদা আরাবুলের গড় ভাঙ্গড়ে রেজ্জাক মোল্লা ও আরাবুল দুজনেই গোষ্ঠী কোন্দলে তৃণমূলের শীর্ষ নেতাদের বিরাগভাজন হন। কিন্তু বিকল্প হিসেবে যাদের হাতে দলের বেটন তুলে দেওয়া হয়েছে তারা তো আরো ভয়ঙ্কর। ঘটনার পর থেকেই ক্ষোভ বিক্ষোভ কখনো দলের অভ্যন্তরে ও আবার কখনো প্রকাশ্যে চলে এসেছে। ঘটনার খবর জানাজানি হতেই বিরূপ প্রতিক্রিয়া মিলেছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্ম প্রচারক মৌলানা বা মৌলবিগণের। তাদের দাবি ইসলাম ধর্ম হলো শান্তি, সৃষ্টি,কৃষ্টি,শৃঙ্খলা ও ভক্তির প্রতীক। ভোটের লোভে নেতারা তাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ কে এটা বুঝতে হবে। না হলে বিপদ হবে। নাম গোপন রাখার শর্তে ভাঙ্গড়ের এক জামে মসজিদের ইমাম সাহেব বলেন গতকাল রাতেই শুনেছি, শোনপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের সংখ্যালঘু সেলের জনসভা ছিল। তাতেই ছেলে পুলেরা তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও পুলিশের সামনেই তারস্বরে ডিজে বাজিয়ে অশ্লীল পোষাক পড়ে নাচা নাচি করেছে। আসলে বেকার যুবক যুবতীদের কাজের তাগিতকে ভুলিয়ে দিতে শুধু তৃণমূল কংগ্রেস নয় প্রায় সব রাজনৈতিক দল এই একই পন্থা অবলম্বন করে। নতুন কর্মসংস্থান নেই কোটি কোটি যুবক যুবতীদের ভবিষ্যত অনিশ্চিত। এই জ্বালা ভোলাতে রাজনৈতিক নেতাদের একমাত্র টোটকা ওষুধ হলো অশ্লীল বিনোদন অবৈধ মাদক নেশা। শুধু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ নয় এই চক্রান্তের শিকার হচ্ছেন সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের মানুষ জনও। আসলে সাধারণ মানুষকে দিনের পর দিন ধোঁকা দিচ্ছে শাসক বিরোধী সব রাজনৈতিক দলের নেতারা।
আর আমরা সবাই জাহান্নামে যেতে বসেছি। কিন্তু সংখ্যালঘু মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষের উন্নোয়নে র জন্য যে সংখ্যালঘু সেল গঠন করে ছিল তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু উন্নয়নের বদলে যদি সেই সংখ্যালঘু সেল ইসলাম বিরুদ্ধ কাজ করে বা এইভাবে অশ্লীল শিক্ষা সংস্কৃতিতে ঠেলে দিয়ে মুসলমান সম্প্রদায়ের তর তাজা যুবকদের বিপথে পরিচালিত করতে শুরু করে তাহলে তাদের কখনোই ইতিহাস ক্ষমা করবে না। সামনে 2021 রাজ্য বিধান সভার নির্বাচন। তার আগে লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে হারিয়ে যাওয়া মাটি ফিরে পেতে বিশাল অঙ্কের সোখালঘু ভোটকে গ্রাস করতে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস আর কি কি টোটকা ওষুধ সেবন করায় সেটাই এখন দেখার বিষয়।

0 coment rios: