রাত পোয়াতে না পোয়াতেই রাজ্যজুড়ে গোষ্ঠীর সংঘর্ষে জেরবার বিজেপির বঙ্গসেনা। লড়াই শুরু নব্য বিজেপি ও পুরনো বিজেপির মধ্যে। রবিবার সকালে তার রেষ এসে পড়ল উত্তর 24 পরগনার বসিরহাটে বিজেপির সাংগঠনিক কর্মী সভায়। সকাল দশটা নাগাদ বসিরহাটের টাকি রোড লাগোয়া শোনপুকুর ধারে একটি অনুষ্ঠান বাড়িতে কর্মীসভার আয়োজন করেছিলেন বিজেপির সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তারক ঘোষ। কর্মী সভায় যোগদান কিছু লোকজন। সেই সময় বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক মৃত্যুঞ্জয় কর্মকার তার অনুগামীদের নিয়ে আচমকা কর্মীসভায় ঢুকে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। ভাঙচুর করা হয় সভার চেয়ার টেবিল সিলিং ফ্যান থেকে শুরু করে কর্মীসভার যাবতীয় সাজ-সরঞ্জাম। এরপর ঘর থেকে সমস্ত কর্মীদের বার করে জেলাস সাংগঠনিক সভাপতি তারক ঘোষ কে একা ঘরে আটকে রেখে বাইরে থেকে তালা মেরে দেন বিক্ষুব্ধ কর্মীরা। সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বসিরহাট থানার বিশাল পুলিশবাহিনী। বিজেপির বিবদমান দুই গোষ্ঠীর কর্মী-সমর্থকদের নিরস্ত্র করে অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আনে। বসিরহাটের সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তারক ঘোষের অভিযোগ তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় ও মারধর করা হয়।
হামলাকারীদের বিরুদ্ধে বসিরহাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। আবার যুব মোর্চার নেতা মৃত্যুঞ্জয় কর্মকারের পাল্টা অভিযোগ তৃণমূলের সঙ্গে যোগসাজশ করে তারক ঘোষ বিজেপি কে ধ্বংস করছে। বসিরহাটের সর্বত্র মন্ডল সভাপতি পদ থেকে পুরনো বিজেপি নেতা কর্মীদের সরিয়ে সিপিএম, কংগ্রেস ও তৃণমূলের থেকে আসা লোকদের সভাপতি বানাচ্ছে। যা দলের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকারক ও পুরনো বিজেপি কর্মীদের পক্ষে অত্যন্ত অপমানজনক। এই অন্যায় ও অবিচার কোনমতে মেনে নেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেন মৃত্যুঞ্জয় বাবু। গতকাল শনিবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মুকুল রায়কে বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি পদে আসিন করে প্রমোশন দেয়ার পাশপাশি রাহুল সিনহা কে কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদকের পদ থেকে সরিয়ে সেই জায়গায় অনুপম হাজরা কে স্থলাভিষিক্ত করার পরেই দলের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেন রাহুল সিনহা। আজ ফের বসিরহাটে বিজেপির পুরনো কর্মীরা জেহাদ ঘোষণা করলেন তৃণমূল থেকে আসা সদ্য বিজেপি নেতা মুকুল রায় অ্যান্ড কোম্পানির বিরুদ্ধে।



0 coment rios: