সাগরদীঘির বারালা অঞ্চলের চন্দনবাটি গ্রামের শিব মন্দিরটি গতকাল বাজ পড়ে মন্দিরের ছাদে এবং গৌরী পাটে ফাটল দেখা দিয়েছে ৷ এটি এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম শিবলিঙ্গ ৷ ঐতিহাসিক পাল ও সেন রাজাদের আমলে ১০০০-- ১৩০০ বঙ্গাব্দে একটা ঢিবি খুঁড়ে আবিষ্কৃত হয় এই শিবলিঙ্গটি , শিব মন্দির সৌধ এবং একটি দেওয়ালের ধ্বংসাবশেষ ৷
চন্দনবাটি গ্রামটি এক সময় নেহালিয়ার ( আজিমগঞ্জ) রায় বাহাদুর সুরেন্দ্র নারায়ণ সিংহের এস্টেটের অন্তর্গত ছিলো ৷ তখন চন্দনবাটির নাম ছিলো মৃত্যুঞ্জয়পুর ৷ পরে ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে খরা দেখা দিলে নির্মল কুমার নইলাক্ষা বড় পুষ্করিনি খননের সিদ্ধান্ত নেন এবং খনন কার্য শুরু করেন ৷ খনন কালে মাটির নীচ থেকে প্রাচীন বৃহত্তম শিবলিঙ্গ , শিব মন্দির সৌধ এবং একটা দেওয়ালের ধ্বংসাবশেষ বেরিয়ে পড়ে ৷
১৩৩৫ বঙ্গাব্দে খনন কার্য শেষ হয় এবং বহু মূল্যবান পাথর পূজোর বাসনপত্র , ধাতু ও কষ্টি পাথরের মূর্তি ও গয়না ভর্তি বড়ো বড়ো পাথরের তৈরী বাক্স পাওয়া যায়৷ শিবলিঙ্গটি উঁচু ঢিবির মধ্যে রেখে অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়ে যান ৷ তখন এই গ্রামে কোনো হিন্দু পরিবার ছিলো না ফলে পূজার্চনা ও হতো না ৷ ১৩৬০ বঙ্গাব্দে কাপড় ব্যবসায়ী রঘুনাথ সাদানীর নজরে আসে এবং বর্তমান মন্দিরটি তৈরী করেন ৷ বর্তমানে রঘুনাথ সাদানীর বংশধররা কাঁধীতে আছে ৷ সেই সময়ও পূজার্চনা করতে পারেন নি কারন তখনও কোনো হিন্দু পরিবার বা পুরোহিত এই গ্রামে ছিলো না ৷ মুসলিমরা তো আর পূজো করতে পারেনা ! তবে তখন থেকে এখন পর্যন্ত মুসলিমরা এই মন্দির তত্বাবধানে আছে ৷ পরবর্তীতে স্থানীয়দের প্রচেষ্টাতেই পার্শ্ববর্তী গ্রাম আহেরি পাড়া থেকে পুরোহিত এনে প্রতিদিনের পূজোর ব্যবস্থা করা হয় ৷ এখনো পর্যন্ত এই মন্দিরটি মুসলিম ও হিন্দুরা মিলেমিশে দেখাশুনো করে ৷ এই শিবলিঙ্গটির পুরোপুরি উচ্চতা চার ফুট , বেড় চারফুট আট ইঞ্চি , গৌরী পাটের ব্যাস চার ফুট আট ইঞ্চি এবং গৌরী পাট লম্বায় সাড়ে ছয় ফুট ৷



0 coment rios: