সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে গেলে করোনা সন্দেহে দুর্ব্যবহার ও হয়রানি হতে হবে। টাকায় টাকা খরচ হয় প্রাণ ফেরে কম। তাই বিকল্প হিসেবে জীবন-মরণ সমস্যা নিয়ে গরীব গুর্বো সাধারণ মানুষ ছুটছেন তুকতাক,ওঝা, ফকির,গুনীন ও গ্রামীণ টোটকা ওষুধের দিকে। ফলে লক ডাউনের বাজারেও রমরমা প্রত্যন্ত গ্রামের ওঝা, ফকির, গুনিনদের। দীর্ঘ্য দিন ঝাড়ফুঁক, তুকতাক ওঝা ফকির গুনীন দের রমরমা ব্যবসা বন্ধ থাকার পর করোনা রোগের দৌলতে ফের তাদের পসার কিঞ্চিৎ বেড়েছে। তাদের কেরামতি ও বাড়ছে সমান তালে। তাই সাপে কাটা থেকে অন্যান্য ছোট-বড় সব অসুখের গ্রাম বাংলার মানুষের ভরসা এখন স্থানীয় ওঝা, ফকির ও গুনিনরা। যারফলে জীবিত সাপে কাটা রুগীকে নিয়ে কেরামতি দেখাতে গিয়ে মৃত্যু হচ্ছে জীবিত রোগীর।
এমনই সাপে কাটা রোগীকে ওঝার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে মৃত্যু ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ালো উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার মাটিয়া থানার কোড়া পূর্ব পাড়া এলাকায়। মৃত রোগীর নাম শফিকুল দফাদার এবং তার স্ত্রী খাদিজা ইসলামের তিনিও সাপের কামড় খেয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। উত্তর আধুনিকতাবাদের যুগে এই ধরনের কুসংস্কারাচ্ছন্নে মানুষ আজও ডুবে রয়েছে তার জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত এই ঘটনা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান বসিরহাট মহকুমার মাটিয়া থানার কোড়া পূর্ব পাড়ার বাসিন্দা শফিকুল দফাদার ও তার স্ত্রী খাদিজা বিবি মঙ্গল বার রাতে মশারির মধ্যে ঘুমাচ্ছিলেন। রাত দুটো নাগাদ কিছু একটা শব্দ শুনে তাদের ঘুম ভেঙে যায়। ঘুম ভেঙে লাইট জ্বালিয়ে দেখতে পান মশারির মধ্যে একটি বিষধর কেউটে সাপ শুয়ে রয়েছে। শফিকুল বাবু তিনি তার ছেলেকে ডাকেন ছেলে বাইরে বেরিয়ে সাথে সাথে লাঠি নিয়ে এসে সাপটিকে মেরে ফেলেন। এমত অবস্থায় শফিকুল দফাদারের স্ত্রী অসুস্থ বোধ করেন। দেখা যায় তার মাথায় সাপে দংশন করেছে। সাথে সাথে গভীর রাতে শফিকুল দফাদার তার স্ত্রীকে নিয়ে স্থানীয় ও ওঝার বাড়িতে যান। ওদের বাড়িতে গিয়ে ঝাড়ফুঁক করানোর পরে স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি আসেন।বাড়িতে এসে তার স্ত্রী আবারো অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি আবারও স্ত্রীকে ওঝাড় বাড়িতে নিয়ে যান গতকাল বুধবার সারা দিন চলে ওঝার কেরামতি। স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওঝার বাড়িতে গিয়ে তিনিও ঝাড়ফুঁক করেন। অবশেষে ঝাড়ফুঁকে মৃত্যু হয় শফিকুল দফাদারের। এদিকে শফিকুল দফাদারের স্ত্রী খাদিজা বিবিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মানুষ যে আজ ও কুসংস্কার এর মধ্যে ডুবে রয়েছে একবিংশ শতাব্দীতে এত আধুনিক চিকিৎসা এখনো যে মানুষ কুসংস্কার এর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসতে পারিনি তার জ্বলন্ত উদাহরণ তার দৃষ্টান্ত বসিরহাটের ঘটনা। আজ বৃহস্পতিবার মৃতদেহ কবর দেয়া হবে। উত্তর 24 পরগনা যুক্তিবাদী বিজ্ঞান মঞ্চ সদস্য রঞ্জিত মুখার্জি বলেন এটা খুব দুঃখজনক এত আধুনিক চিকিৎসা থাকতে কেন ওঝার বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছে মানুষ ভাববার বিষয় ।চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে হয়তো বেঁচে যেতেন এই নিয়ে মানুষকে আরো বেশী সচেতন করা উচিত।


0 coment rios: