অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির কোভিড ভেক্টর ভ্যাকসিন ভারতেই তৈরি করছে পুণের সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া। জুলাই থেকে অগস্টের মধ্যে সেই ভ্যাকসিন ভারতের বাজারে নিয়ে আসতে পারেন বলে দাবিও করেছেন সেরামের সিইও আদর পুনাওয়ালা। তারই মাঝে সেরামের তৈরি নিউমোনিয়ার ভ্যাকসিন ড্রাগ কন্ট্রোলের অনুমোদন পেয়ে গেল। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি নিউমোনিয়ার ভ্যাকসিন প্রথম ভারতের বাজারে নিয়ে এল সেরামই।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক সূত্রে খবর, সেরামের তৈরি নিউমোনিয়ার ভ্যাকসিনের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিকাল ট্রায়ালে সাফল্য মিলেছে। ভ্যাকসিন ট্রায়ালের প্রতিটি পর্যায়ের তত্ত্বাবধান করেছে কেন্দ্রের অধীনস্থ ‘স্পেশাল এক্সপার্ট কমিটি’ (এসইসি)। ট্রায়ালের রিপোর্ট খতিয়ে দেখেই ভ্যাকসিনে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে দেশের ড্রাগ কন্ট্রোল।
কোভিড সংক্রমণের সঙ্গে অনেক মিল রয়েছে নিউমোনিয়ার। তবে কোভিড-১৯ যেমন আরএনএ ভাইরাস ঘটিত রোগ, নিউমোনিয়ার কারণ ব্যাকটেরিয়া। তবে ব্যাকটিরিয়া ছাড়াও ছত্রাক ও ভাইরাসঘটিত কারণেও শরীরে দানা বাঁধতে পারে নিউমোনিয়া। এর নানা প্রকারভেদ রয়েছে। নিউমোক্কাল পলিস্যাকারাইড ব্যাকটেরিয়ার স্ট্রেন ব্যবহার করে ভ্যাকসিন বানিয়েছে সেরাম।
করোনার মতোই উপসর্গ দেখা যায় নিউমোনিয়ার ক্ষেত্রেও। ধুম জ্বর, প্রবল কাশি, বুকে সংক্রমণ এর প্রাথমিক উপসর্গ। সংক্রমণ গভীরে ছড়ালে তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। মূলত ক্রনিক ঠান্ডা লাগা, বুকে শ্লেষ্মা জমে থাকার কারণেই এই অসুখ ছড়াতে শুরু করে। শীতের সময় শুষ্ক আবহাওয়ায় নিউমোনিয়া সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া কিংবা ভাইরাস আরও বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। সামান্য ঠান্ডা লাগা থেকেও কেউ কেউ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, মূলত, বয়স্ক ও শিশুরাই এই রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। তাই দেখা যাচ্ছে, সার্স-কভ-২ ভাইরাসের সংক্রমণ হলে খুব সহজেই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে রোগী। বুকে ব্যথা, শ্বাসের সমস্যা শুরু হচ্ছে। তীব্র প্রদাহ বা ইনফ্ল্যামেশন হচ্ছে ফুসফুসে। অনেকের ক্ষেত্রে আবার ফুসফুসে রক্ত জমাট বাঁধতেও দেখা যাচ্ছে।



0 coment rios: