ট্রাংক খুলতেই চোক্ষু চড়ক গাছ আধিকারিকদের। বেড়িয়ে এলো কাড়াকাড়ি টাকা। রাজ্যের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) অভিযান। মাদক পাচারের টাকা উদ্ধার করতে গিয়ে রীতিমতো চোখ কপালে এসটিএফ আধিকারিকদের। জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে শহরের দুই প্রান্তে এসটিএফের আইসি বিশ্রাশ্রয় সরকারের নেতৃত্বে দুটি পৃথক অভিযান চালায় স্পেশাল টাস্কফোর্স। প্রথম অভিযানটি শিলিগুড়ি পুরনিগমের ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের আশরফনগরের ইসকন মন্দির রোডের বাড়িতে চালানো হয়। আর দ্বিতীয়টি শিলিগুড়ি সংলগ্ন ফুলবাড়িতে।
অভিযোগ, মুর্শিদাবাদের তিনজন যুবক ইসকন মন্দির রোডের একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে মাদক পাচার এবং বিক্রির ব্যবসা জাঁকিয়ে বসে ছিল। খবর পাওয়া মাত্রই এদিন রাতে অভিযান চালায় এসটিএফ আধিকারিকরা। কিন্তু অভিযানের আগেই কোনওক্রমে খবর পেয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় অভিযুক্ত দুই পাচারকারী। এরপর ওই বাড়িতে তল্লাশি চালালে লক্ষাধিক টাকার ব্রাউন সুগার। পাশাপাশি উদ্ধার হয় একটি টাকা গোনার মেশিন। মেশিনটি উদ্ধার হতেই সন্দেহ হয় এসটিএফ আধিকারিকদের। এরপর ওই বাড়িতে চিরুনি তল্লাশি চালালে বাড়ির একটি পরিত্যক্ত ঘর চোখে পরে আধিকারিকদের। সেই ঘরের একটি ভাঙা খাটের নীচ থেকে উদ্ধার হয় একটি ট্রাঙ্ক ভর্তি টাকা। টাকার অংক ১৭ লক্ষ ২৫ হাজার। বিগত কয়েক মাস ধরেই মুর্শিদাবাদের ওই যুবকরা লালগোলা থেকে উন্নত মানের ব্রাউন সুগার এনে ইসকন মন্দির রোড সাপ্লাই দিত। আর মাদক বিক্রি করার সেই টাকা যাতে কেউ বুঝতে বা খুঁজে পেতে না পারে সেজন্য মাটির মধ্যে বাক্সবন্দি করে পুতে রাখত। টাকা ও মাদক উদ্ধার হলেও অভিযুক্তদের উদ্দেশ্যে খোঁজ শুরু করেছে এসটিএফ।
অন্যদিকে এদিন শিলিগুড়ি সংলগ্ন ফুলবাড়ীতে অভিযান চালায় এসটিএফ। অভিযানে সনু কুমার এবং সঞ্জয় নামে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। দুজনেই হরিয়ানার বাসিন্দা।তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ৫২টি সিম, দেড় লক্ষ টাকা এবং বেশ কিছু মোবাইল। ধৃতরা গুয়াহাটি থেকে কলকাতার দিকে যাচ্ছিল। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে একটি চারচাকা গাড়িও। অভিযোগ, ধৃতরা সাইবার ক্রাইমের সঙ্গে জড়িত। উপভোক্তাদের ফোন করে এটিএম কার্ডের নম্বর হাতিয়ে টাকা লুঠ করত। ধৃতদের শনিবার আদালতে তোলা হবে।



0 coment rios: