রবীন্দ্র সরোবরে এবছর ছট পুজো করতে না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ ছট পুজোর পূজারীরা। তাদের মধ্যে অন্যতম দীপক কুমার ও সুনীল কুমার ত্রিপাঠি মতো যারা ছট পুজো করেন। তারা জানিয়েছেন তারা বছর বছর ধরে এই রবীন্দ্র সরোবরে ছট পুজো করে আসছে। কিন্তু এবছর সুপ্রিম কোর্টের রায়ে তারা প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। তারা জানিয়েছেন এই ছট পুজো এখানে না করতে পারায় তারা ভীষণ ভাবে দুঃখিত। এর পাশাপাশি তাঁরা দাবি জানিয়েছেন ছট পূজো হয়ে যাবার পর পুরো রবীন্দ্র সরোবর তারা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে দেয়। এমনকি বর্তমানে চ্যানেল গুলিতে যে সমস্ত খবর দেখানো হচ্ছে সেই সমস্ত ছবিগুলি 2017, 2018 সালের। 2019 সালে তারা কোন রকম বাজি ফাটানো এবং রবীন্দ্র সরোবর জলাশয় পুরোপুরি ভাবে পরিষ্কার করে দিয়েছিলেন।
ইচ্ছাকৃতভাবে এই কাজ করছে বলেও তারা দাবি জানিয়েছেন। এই রবীন্দ্র সরোবরে ছট পুজো না করতে পারলে তাহলে তারা কোথায় করবেন বলে প্রশ্ন তুলেছেন ?যে সমস্ত কৃত্রিম জলাশয় তাদের জন্য করে দেওয়া হয়েছে সেখানেও তাদের অনেক সমস্যা রয়েছে বলে দিন তারা তুলে ধরেছেন। তারা জানিয়েছেন যে সমস্ত কৃত্রিম জলাশয় করা হয়েছে প্রথমত সেগুলি অনেকেই তাদের বাড়ি থেকে দূরে । বাড়ি থেকে অতদূরে তারা কীভাবে যাবেন। তার পয়সা কে দেবে? তাছাড়া যে সমস্ত কৃত্রিম জলাশয় করা হয়েছে সেগুলি অত্যধিক ছোট। অনেক সংখ্যক লোক সেখানে জমায়েত হয়ে কখন পুজো দিতে পারবেন না। এছাড়া ছট পুজো দিতে হলে পুরোপুরিভাবে জলে ডুবে পুজো দিতে হয়।
কিন্তু যে কৃত্রিম জলাশয় করা হয়েছে তাতে হাঁটু পর্যন্ত জল থাকে। তাহলে কিভাবে তাদের পুজো সম্পূর্ণ হবে? তা নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে তারা জানিয়েছেন এই কৃত্রিম জলাশয় বলা হয়েছিল সমস্ত জায়গায় করা হবে। কিন্তু তা একদমই করা হয়নি ।নির্দিষ্ট কতগুলি জায়গায় করা হয়েছে। এবং তা অনেক দূরে দূরে। তাদের পক্ষে যাওয়া সম্ভব নয়। তাহলে কি তারা পুজোর দেবেন না ?তারা এখনো দাবি জানাচ্ছেন তাদের জন্য যেন রবীন্দ্র সরোবর খুলে দেওয়া হয় ।এই জলাশয়ে তারা প্রত্যেক বছরের মতো পুজো দেবেন ।কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সেইমতো এদিন সকাল থেকেই রবীন্দ্র সরোবর পুরো জায়গাটি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং টিনের বেড়া দিয়ে পুরোপুরিভাবে জায়গাটি ঘিরে ফেলা হয়েছে।
রবীন্দ্র সরোবরে পুজো না দিতে পারায় আক্ষেপ প্রকাশ করছেন তারা সবাই। তারা জানিয়েছেন তারাই একমাত্র শুধু পরিবেশ দূষণ করেন? ছট পূজা বিকেলবেলা 4 ঘন্টা এবং সকালবেলা দু'ঘণ্টা। তাদের এই পুজো 6 ঘণ্টার মধ্যে কি পরিবেশ দূষিত হয়ে যায়? আর যদি তাও হয, পুজো হবার পর তাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে পুরোপুরিভাবে রবীন্দ্র সরোবর পরিষ্কার করে দেওয়া হয়। এত কিছু সত্ত্বেও তাদের কেন রবীন্দ্র সরোবরের পুজো করতে দেওয়া হবে না বলে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।





0 coment rios: