ডাইনি অপবাদ দিয়ে অত্যাচার চালানো হচ্ছিল চন্দ্রকোণা শহরের মল্লেশ্বরপুরের তিন মহিলার উপর। সেই অত্যাচার থেকে পরিত্রাণ পেতে পুলিসের শরণাপন্ন হলেন তাঁরা। শনিবার দুপুরে তাঁরা কাঁদতে-কাঁদতে চন্দ্রকোণা থানায় পৌঁছান এবং পুলিসের কাছে অত্যাচারীদের নাম উল্লেখ করে একটি অভিযোগও দায়ের করেন। ঘাটাল মহকুমা পুলিস জানিয়েছে, আমরা চন্দ্রকোণা শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ড মল্লেশ্বরপুরে একই পরিবারের সদস্য তিন মহিলার কাছ থেকে একটি অভিযোগ পেয়েছি। পুলিস ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
নির্যাতিত তিন মহিলার নাম লালি হেমব্রম, লক্ষ্মী হেমব্রম এবং মামণি হেমব্রম। লক্ষ্মী হেমব্রম শাশুড়ি এবং বাকি দু’জন তাঁর বউমা। লক্ষ্মীদেবী বলেন, আমাদের পাড়ার কোনও কিছু সমস্যা হলেই ডাইনি অপবাদ দিয়ে আমাদের তিনজনের উপর নানা ধরনের অত্যাচার করা হচ্ছে। প্রতিদিনই নানা অজুহাতে মারধর করা হচ্ছে। বারবার পাড়ায় মিটিং করে গ্রামছাড়া করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। লালি হেমব্রম ও মামণি হেমব্রম বলেন, আমরা হাতে-পায়ে ধরে বললেও কোনও কথা শোনা হচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়েই এদিন আমরা পুলিসের শরণাপন্ন হয়েছি।
যখন তখনই তাদের মারধর করে গ্রামের বাসিন্দারা, এলাকায় কারও মৃত্যু হলে ওই পরিবারের মহিলাদের দায়ী করা হয় বলেও তারা জানান, এমনকি এই নিয়ে শনিবার চরম পর্যায়ে পৌঁছায় পরিস্থিতি।খবর পেয়ে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে যায় চন্দ্রকোনা থানার পুলিশ। পুলিশ গ্রামের লোকজনকে বোঝানোর কাজ করে শনিবার সন্ধা পর্যন্ত ৷ এবিষয়ে স্থানীয় আদিবাসী সমাজ ভারত জাকাত মাঝি পরগনা মহলের নেতা ধ্যানচাঁদ মুর্মু বলেন- ডাইনি বলে কোনো কিছু হয় না ৷ তবে গ্রামের লোকেদের কিছু ভুল ধারনার কারনে এটা হয়েছে ৷ আমরা পুলিশকেও বলেছি দেখতে,, নিজেরাও বোঝানোর চেষ্টা করছি ৷




0 coment rios: