Friday, 9 October 2020

করোনা আক্রান্ত প্রবীণ ও প্রখ্যাত অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক

 

করোনা আক্রান্ত প্রবীণ ও প্রখ্যাত অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক। তিনি গত সোমবার করোনা ভাইরাস সংক্রমিত হয়ে দক্ষিণ কলকাতার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি হন। তিনি এমনিতেই সিওপিডি পেসেন্ট ছিলেন। প্রযোজকদের চাপে পড়ে আনলক 2 থেকে তিনি বেশ কিছু অসমাপ্ত সিনেমা,সিরিয়াল ও বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। সমস্ত স্বাস্থ্য বিধি নিষেধ মেনে শুটিংয়ের কাজ করলেও শেষ রক্ষা হলো না। করোনা ভাইরাস সংক্রমিত হয়ে পরে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের শরীরে ।
শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় শুক্রবার গভীর রাতে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় কে আইটি ইউ ওয়ার্ডে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। চিকিৎসকদের দাবী তিনি সিকিৎসায় সারা দিচ্ছেন। তবে শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যার কারণে তাকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে। শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ার ফলে আরো একাধিক শারীরিক উপসর্গের উদ্ভব হয়েছে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের শরীরে। এদিকে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বেলভিউ নার্সিংহোমে গভীর রাতেই ছুটে আসেন টলীউডের কলাকুশলীরা। চরম উদ্বিগ্নতার মধ্যে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের গুণমুগ্ধ ও চলচ্চিত্র প্রেমী গোটা বাঙ্গালী তথা বাংলা। 85 বছর বয়সী অভিনেতার দ্রুত শারীরিক সুস্থতার প্রার্থনায় কলকাতার স্টুডিও পাড়া। মহানায়ক উত্তম কুমারের সমসাময়িক কাল থেকেই একই তালে আজও অভিনয়  করে দর্শকদের মনোরঞ্জন করে এসেছেন।
বিশ্ব বন্দিত চলৎচিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের অত্যন্ত স্নেহ ভাজন ছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়।অপুর সংসার থেকে ফেলুদা সব চরিত্র নিখুঁত ভাবে ফুটিয়ে তুলতে তার বিকল্প আর কেউ ছিলেন না। কখনো ভিলেনের চরিত্রে  ঝিন্দের বন্দীর ময়ূর্বাহন, আবার কখনো হীরক রাজার দেশের গুরু মশাই বা অগ্রদানী তে পেটুক বামুনের চরিত্রে অভিনয় স্পর্শ করেছে বাঙালীর সমাজ ভাবনাকে। সেলুলয়েড পর্দার বাইরেও তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন একজন কবি ও কবিতা আবৃত্তিকার হিসাবে। ভালো ছবি আঁকতেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। দেশে বিদেশে তিনি জীবনে অনেক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পুরস্কার পেয়েছেন। কিন্তু মনে কিছু একটা আক্ষেপ ছিল তার। আজীবন বামপন্থী মানুষিকতার মানুষটি কখনো নিজের সার্থে রাজনৈতিক মতবাদ পরিবর্তন করেন নি।তার জন্য স্টুডিও পাড়ায় সৌমিত্র বাবুকে কম ঝক্কি পোহাতে হয় নি। কিন্তু অনায়্যের কাছে তবুও মাথা নত করেনি। অভিনেতা অনিল চট্টোপাধ্যায় এর মৃত্যুর পর শিল্পী সংসদের দায় দায়িত্ত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন সৌমিত্র বাবু। স্টুডিও পাড়ার যে কোন সমস্যা নিয়ে গেলে কাউকে তিনি সমাধান না করে ফিরিয়ে দেন নি আজ পর্যন্ত। তার এই অকৃত্রিম ভালোবাসা আর দায়িত্ত্ব বোধ তাই মধ্যরাতে সকলকে বাধ্য করেছে হৃদয়ের টানে বেলভিউ তে ছুটে আসতে।


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: