রাজ্য চাইছে, ১৩ তারিখেই মেট্রো রেল চলুক।
ওই সময় জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষা। পরীক্ষার্থীদের স্বার্থে সরকার এই তারিখের কথা বলেছে। বিষয়টি নিয়ে মেট্রো কর্তৃপক্ষও চিন্তা–ভাবনা করছেন।
মেট্রো রেল ফের চালু হওয়ার কথা ১৪ অথবা ১৫ সেপ্টেম্বর। তবে রাজ্য ও মেট্রো–কর্তারা মনে করছেন, মেট্রো রেলের ভিড় সামলানোই বড় চ্যালেঞ্জ। কীভাবে ভিড় সামলানো যায়, তা নিয়ে বৃহস্পতিবার নবান্নে রাজ্য সরকারের সঙ্গে মেট্রো–কর্তাদের বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। শুক্রবার ফের রাজ্য সরকার ও মেট্রো কর্তৃপক্ষ বৈঠকে বসছেন। বৈঠক থেকে সমাধানসূত্র বেরোলেই রেল বোর্ডের কাছে চাওয়া হবে পুনরায় মেট্রো চলাচলের অনুমতি। কলকাতা মেট্রো রেল সূত্রে খবর, বৈঠক খুবই ভাল হয়েছে। ভিড় সামলাতে রাজ্য সরকারের তরফেও প্রতিশ্রুতি মিলেছে সব রকম সহযোগিতার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও চাইছেন, দ্রুত শুরু হোক মেট্রো পরিষেবা।
প্রাথমিক ভাবে ঠিক হয়েছে, মেট্রো স্টেশনগুলির বাইরের ভিড় সামলাবে কলকাতা পুলিশ। এমনকী প্রয়োজনে তারা মেট্রোর স্টেশনের ভিতরেও ভিড় নিয়ন্ত্রণে আরপিএফ–কে সাহায্য করবে। কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন ও আবাসন মন্ত্রকের পাঠানো আদর্শ আচরণবিধি বা এসওপি ধরেই এদিনের বৈঠকে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে মেট্রো–কর্তারা নিজেদের মধ্যেও আলোচনা করেন। ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গেছে। প্রতিটি মেট্রো স্টেশনেই বসেছে একাধিক স্যানিটাইজার মেশিন। প্ল্যাটফর্মে যাত্রীদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়ে সচেতন করতে স্টিকার লাগানো হয়েছে। প্রতিটি কোচেই যাত্রীদের আসনে সামাজিক দূরত্ববিধি মেনে আসন খালি রাখার স্টিকারও লাগানো হয়েছে। মেট্রোর গেটগুলিতে থাকবে থার্মাল স্ক্যানার। উত্তর–দক্ষিণ ও পূর্ব–পশ্চিম, উভয় মেট্রো রুটেই থাকবে একই বন্দোবস্ত। নিয়মিত প্ল্যাটফর্ম স্যানিটাইজ করা হবে। মানা হবে সমস্ত স্বাস্থ্যবিধি। আরোগ্য সেতু অ্যাপ যাত্রীদের জন্য বাধ্যতামূলক। এমনকী কোনও যাত্রীর শরীরে করোনার উপসর্গ থাকলে তঁাকে হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ এসেছে দিল্লি থেকে।
সমস্যা হয়েছে স্মার্টকার্ড নিয়ে। মেট্রো সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই লক্ষাধিক মানুষের কাছে রয়েছে স্মার্টকার্ড। তঁারা যদি ভিড় করেন, তবে সামলানো মুশকিল। আপাতত নতুন করে স্মার্টকার্ড বিক্রি না করা হলেও, পুরনো কার্ডের ভিড় সামলানোই তঁাদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। স্মার্টকার্ড হাতে যাত্রীরা এলে তঁাদের কীভাবে ফেরানো যাবে, বৈঠকে এ বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। টোকেন বিক্রির পাশাপাশি মেট্রো সূত্রে খবর, আপাতত নতুন করে কার্ড বিক্রিও তঁারা করবেন না। কিন্তু পুরনো কার্ডই তঁাদের অফিস–টাইমে সমস্যায় ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা। কারণ দিল্লির গাইডলাইন অনুযায়ী প্রতিটি ট্রেনে সর্বাধিক মাত্র ৪৫০ জন যাত্রী উঠতে পারবেন। স্টেশনেও ভিড় নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এ বিষয়ে সমাধানসূত্রে পৌঁছোতেই শুক্রবার আবার বৈঠক। ভিড় নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি ছাড়া, মেট্রো সূত্রে খবর, বাকি সব বিষয়েই একমত উভয় পক্ষ। রাজ্য সরকারও বেশ আগ্রহী দ্রুত মেট্রো চলাচল শুরু করতে।
এসওপি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বেশির ভাগ নির্দেশিকা পালনে আগেই প্রস্তুতি নিয়েছিলেন মেট্রো কর্তৃপক্ষ। স্টপেজ নিয়েও কোনও সমস্যা হবে না বলে তঁারা মনে করছেন। দিল্লির পাঠানো এসওপি–তে কন্টেনমেন্ট জোনে মেট্রোর স্টপেজে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। কিন্তু এখন কলকাতা মেট্রোর কোনও স্টপেজ কন্টেনমেন্ট জোনে নেই।
এদিনের বৈঠকে রাজ্য সরকারের তরফে মুখ্য সচিব রাজীব সিন্হা, স্বরাষ্ট্র সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত ছিলেন। মেট্রোর তরফে প্রিন্সিপ্যাল চিফ অপারেশন ম্যানেজার সাত্যকি নাথ–সহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
Friday, 4 September 2020
Author: subhajit
Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.


0 coment rios: