ফুটবল নিয়ে কোনও আলোচনা হলেই বিশেষজ্ঞরা বলে ওঠেন, স্থানীয় ফুটবলার না থাকার জন্যই বাংলার ফুটবলের মান দিন দিন কমছে। এই যুক্তি কেউ মানেন। কেউ মানেন না। এতদিন বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকমভাবে সংরক্ষণ দেখা গিয়েছে। কিন্তু বাঙালি ফুটবলারদের তুলে আনার জন্য এভাবে সংরক্ষণ সিষ্টেম চালু করা, আগে কখনও দেখেনি ভারতীয় ফুটবল। আইএফএ (IFA) সচিব জয়দীপ মুখোপাধ্যায় বাঙালি ফুটবলারদের বাঁচানোর জন্য সেই সংরক্ষণ পদ্ধতিই এবার শুরু করবেন ঠিক করেছেন।
দু’বছর আগেও প্রিমিয়ার ‘এ’ ডিভিশনে প্রথম দলে একজন অনূর্ধ্ব-২১ জুনিয়র ফুটবলার রাখার নিয়ম ছিল। সেটাও আর নেই। নতুন সচিব জয়দীপ প্রিমিয়ার ‘এ’ ডিভিশনে ফের জুনিয়র ফুটবলার কোটা ফিরিয়ে আনাই শুধু নয়, বাঙালি ফুটবলারদের জন্য ‘সংরক্ষণ’ করে তাক লাগিয়ে দিতে চাইছেন। ঠিক করেছেন, ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান যে ডিভিশনে খেলে, সেই প্রিমিয়ার ডিভিশন ‘এ’-তে প্রথম এগারোয় দু’জন জুনিয়র ফুটবলার রাখা বাধ্যতামূলক করবেন।
তবে চমকটা অন্য জায়গায়। আইএফএ সচিব চাইছেন, এই দু’জন জুনিয়র ফুটবলারকেই বাঙালি হতে হবে। অর্থাৎ, যাঁদের পাসপোর্টে জন্মস্থান বাংলা থাকবে, সেই ফুটবলারদেরই এই জুনিয়র কোটায় খেলাতে পারবে মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল। এমনকী, জুনিয়র ফুটবলারের কোটায় বয়সটাও কমিয়ে দেওয়ার ইচ্ছে রয়েছে তাঁর। চাইছেন, অনূর্ধ্ব-২১-এর বদলে অনূর্ধ্ব-১৯-এর কোটা করতে।
জয়দীপের সিদ্ধান্ত শুনে রীতিমতো আলোড়ন পড়ে গিয়েছে ময়দানে। প্রত্যেকেরই বক্তব্য, বাঙালি ফুটবলারদের তুলে আনার জন্য দারুণ উদ্যোগ নিতে চলেছেন তিনি। কিন্তু জয়দীপ কেন এরকম সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ভাবছেন? আইএফএ সচিব বললেন, “আইএফএ সচিব হিসেবে যেখানেই যাই, সবাই হতাশার সঙ্গে বলেন, ভাল বাঙালি ফুটবলার আর উঠে আসছে না। ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান ছেড়ে দিন। ছোট ক্লাবগুলোতেও এখন ভিন রাজ্যের ফুটবলার ছড়াছড়ি। আমরা যদি ঘরোয়া লিগেও স্থানীয় ফুটবলারদের খেলার সুযোগ না দিই, তাহলে বাঙালি ফুটবলাররা উঠে আসবে কী করে? আমার মনে হয় না, প্রিমিয়র ‘এ’ ডিভিশনে যদি দু’জন জুনিয়র বাঙালি ফুটবলার খেলানোর কোনও নিয়ম করি, কারও তরফ থেকে কোনও অসুবিধা আসতে পারে। এতে বাংলার ফুটবলারদেরই ভাল হবে।”


0 coment rios: