Saturday, 25 July 2020

৪.২ লাখ কোভিড টেস্টের রেকর্ড একদিনে, কমেছে মৃত্যুহার


জুন মাস থেকেই দিনে গড়ে দু’লাখ করোনা পরীক্ষা করার পরিকল্পনা নিয়েছিল ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)। সেই সংখ্যা তো পূরণ হয়েছেই, কোনও কোনও দিন তিন লাখের বেশিও কোভিড টেস্ট হয়েছে দেশে। শনিবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের পরিসংখ্যাণে দেখা গেছে, শুক্রবার ২৪ জুলাই দেশজুড়ে করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে চার লাখের বেশি। আইসিএমআরের হিসেবে ৪ লাখ ২০ হাজার ৮৯৮। এখনও অবধি যা সর্বাধিক।
দেশে করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ১৩ লাখ ছাড়িয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই রেকর্ড ভেঙে নতুন সংক্রমণ ধরা পড়ছে ৪৫ হাজার থেকে ৪৯ হাজারের মধ্যে। দেশের মোট ১ হাজার ৩০৭টি ল্যাবরেটরিতে করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। তার মধ্যে ৯০৫টি সরকারি ল্যাবরেটরি ও ৪০২টি বেসরকারি ল্যাবরেটরি রয়েছে। কেন্দ্রের হিসেব বলছেন, দেশে করোনা পরীক্ষা এতটাই বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে যার কারণেই আক্রান্তদের দ্রুত চিহ্নিত করা যাচ্ছে। দৈনিক সংক্রামিতের সংখ্যাও তাই বেশি দেখাচ্ছে।
কেন্দ্রের হিসেবে এখনও অবধি দেশে মোট কোভিড টেস্ট হয়েছে ১ কোটি ৫৮ লক্ষ ৪৯ হাজার ৬৮টি। ল্যাবরেটরির সংখ্যাও আগের থেকে বেড়েছে। সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে মার্চে দেশের ১২১টি ল্যাবরেটরিতে করোনা পরীক্ষা শুরু হয়েছিল। এখন সেই জায়গায় ল্যাবরেটরির সংখ্যা হাজারের বেশি। গোড়ায় রিয়েল টাইম আরটি-পিসিআর (রিভার্স ট্রান্সক্রিপটেজ পলিমারেজ চেইন রিঅ্যাকশন) টেস্টেই করোনা সংক্রমণ ধরা হত। এখন সেই জায়গায় অ্যান্টিজেন টেস্ট, ট্রুন্যাট টেস্ট শুরু হয়েছে। অ্যান্টিবডি টেস্ট বা সেরো সার্ভে করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে।
দিল্লির সেরো সার্ভের রিপোর্ট ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে। দেখা গেছে ২৩ শতাংশ করোনা রোগীর রক্তে অ্যান্টিবডি পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংখ্যা এখনও কম হলেও আশা রয়েছে। কারণ একটা গোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে করোনার অ্যান্টিবডি তৈরি শুরু হয়ে গেছে। যার থেকে অনুমান করা যায়, হার্ড ইমিউনিটি তৈরির পথে এগোচ্ছে দিল্লির কোনও কোনও এলাকা।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের হিসেব বলছে, দেশে এখন কোভিড পজিটিভিটির হার ১১.৬১%। পজিটিভিটি রেট হল মোট যত সংখ্যক কোভিড টেস্ট করা হয়েছে তার মধ্যে যতজনের শরীরে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে তার শতাংশের হিসেবে। ১১ জুলাই থেকে আজ অবধি কোভিড পজিটিভিটি রেট ১০% থেকে বেড়ে ১১% এ এসে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পজিটিভিটি রেট বেশি হওয়া মানে আরও বেশি সংখ্যক কোভিড টেস্টের প্রয়োজন। কারণ যত বেশি টেস্ট করা হবে তত বেশি সংখ্যক করোনা রোগীদের চিহ্নিত করা যাবে। সেই সঙ্গেই কনট্যাক্ট ট্রেসিং বাড়লে আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসাদের আলাদা করে শনাক্ত করা যাবে। যেহেতু বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ করোনা রোগীই উপসর্গহীন, তাই টেস্ট ও কনট্যাক্ট ট্রেসিং বাড়লে উপসর্গহীন বা অ্যাসিম্পটোমেটিক রোগীদেরও খুঁজে বার করা যাবে।
সরকারি হিসেবে, দেশে এখন কোভিড সংক্রমণে মৃত্যুহার ২.৩৫%। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় যা সবচেয়ে কম। তবে চিন্তা বাড়াচ্ছে এফেকটিভ রিপ্রোডাকশন নম্বর তথা ‘আর নম্বর’ (R Value) । এই আর নম্বর এখনও একের নীচে নামেনি। বরং আগের তুলনায় কিছুটা বেড়ছে। গত সপ্তাহেই দেশের আর নম্বর ছিল ১.১৭। এই আর নম্বর কমলে দেশে অ্যাকটিভ করোনা রোগীর সংখ্যাও কমে যাবে। পাশাপাশি, একজন আক্রান্তের থেকে বেশিজনের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানোর হারও কমবে। ট্রান্সমিশন রেটও একটা স্থিতিশীল পর্যায়ে চলে আসবে। যে মুহূর্তে দেশের কোভিড ট্রান্সমিশন রেট স্থিতিশীল হবে, আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধিও কমতে থাকবে।

শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: