Friday, 24 July 2020

ইরানের উড়োজাহাজকে ‘তাড়া’ করল মার্কিন যুদ্ধবিমান, তারপর...


সিরিয়ার আকাশসীমায় মার্কিন যুদ্ধবিমানের বিরুদ্ধে ইরানি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজকে তাড়া করার অভিযোগ উঠেছে। ওই ঘটনায় ভিডিওসহ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইরানের বিভিন্ন গণমাধ্যম।
ইরানের বার্তা সংস্থা আইআরআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়, বেসরকারি এয়ারলাইনস ‘মাহান এয়ার’–এর একটি যাত্রীবাহী বিমান সিরিয়ার আকাশসীমায় থাকার সময় এফ-১৫ মডেলের মার্কিন একটি যুদ্ধবিমান এর খুব কাছাকাছি চলে আসে। আর একটু হলেই দুই বিমানে সংঘাত হতো বলে দাবি করা হচ্ছে। ঠিক ওই সময়ই ইরানের উড়োজাহাজের পাইলট দ্রুত উচ্চতা পরিবর্তন করে সেটিকে নিচে নামিয়ে নেন। এতে প্রচণ্ড ঝাঁকুনিতে ওই যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, বিষয়টি এমন নয়। মার্কিন সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ক্যাপ্টেন বিল আরবান বলেন, তাঁদের ওই যুদ্ধবিমান ইরানি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজকে কোনো বাগড়া দেয়নি। আনুমানিক এক হাজার মিটার নিরাপদ দূরত্বে ছিল। এটি নিয়মিত টহলে ছিল। কারণ, সিরিয়া ও জর্ডান সীমান্তে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আল-তানফ রয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত ভিডিও চিত্রে ইরানের উড়োজাহাজের এক যাত্রীকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখা যায়। আরেকজনের মাথায় ব্যান্ডেজ দেখা গেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এ ঘটনায় অনেক যাত্রী মেঝেতে ছিটকে পড়েছিলেন। এ ছাড়া যাত্রীদের খুচরো মালামাল ছড়িয়ে–ছিটিয়ে পড়ে।
আল–জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, মাহান এয়ারের ওই উড়োজাহাজটি তেহরান থেকে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে যাচ্ছিল। সিরিয়ার আকাশসীমায় ওই ঘটনা ঘটলেও উড়োজাহাজটি নিরাপদে বৈরুতে পৌঁছাতে পেরেছে। আজ শুক্রবার এটি আবার তেহরানে ফেরে।
বার্তা সংস্থা আইআরআইবির সঙ্গে মাহান এয়ারের ওই উড়োজাহাজে থাকা দুই যাত্রী কথা বলেন। তাঁদের একজনের ভাষ্য, ‘আমি বলতে পারব না এরপর আর কী ঘটেছিল। একটি কালো বিমান আমাদের কাছাকাছি চলে আসে। এতে আমাদের উড়োজাহাজ ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। ছাদের সঙ্গে আঘাত লেগে আমার মাথা ফেটে যায়।’
অপর এক যাত্রী বলেন, ‘সেটি একটি যুদ্ধবিমান ছিল। আক্ষরিক অর্থে এটি আমাদের উড়োজাহাজের সঙ্গে লেগে গিয়েছিল। আমরা নিজেদের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলি আর ওপর-নিচ আছাড় খেতে থাকি।’
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্বাস মৌসাভি বলেন, এই ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে তাঁর দেশ। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ও আইনি ব্যবস্থা নেবেন তাঁরা।

শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: