Wednesday, 22 July 2020

উচ্চমাধ্যমিকে ১৫০ পরীক্ষার্থীর ১৩০ জন ফেল !


এটা পাশের নয় ফেলের রেকর্ড।টালিগঞ্জ অশোকনগর হাইস্কুলের বাণিজ্য শাখার প্রায় সব পড়ুয়াই ‘‌অকৃতকার্য’‌ হয়েছে উচ্চমাধ্যমিকে। এই শাখায় স্কুলটিতে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৫০ জন। তার মধ্যে ১৩০ জন পড়ুয়াই ‘‌ফেল’‌।
স্কুলের বক্তব্য, মার্কশিট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত এ ব্যাপারে তাঁরা কিছু বলতে পারবেন না। এই ঘটনা অপ্রত্যাশিত। সোমবার স্কুলের সামনে বিক্ষোভ দেখান পড়ুয়া এবং অভিভাবকেরা। বিক্ষোভ দেখায় ডিএসও–ও। বিক্ষোভকারী অভিভাবকেরা পরে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জির সঙ্গে দেখা করেন। তিনি তাঁদের সংসদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের বক্তব্য, এভাবে ফেল করা পড়ুয়াদের পাশের দাবিতে বিক্ষোভ বরদাস্ত করা হবে না।

এই পড়ুয়াদের প্রথম ও দ্বিতীয় ভাষা–সহ বাণিজ্যের বিজনেস স্টাডিজ এবং কম্পিউটার পরীক্ষা হয়েছিল। বাকি ছিল হিসাবশাস্ত্র এবং কস্টিং অ্যান্ড ট্যাক্সেশন পরীক্ষা। অনলাইনে যে ফলাফল প্রকশিত হয়েছে তাতে দেখা গেছে, এদের নামের পাশে নম্বরের জায়গা ফাঁকা। শুধু লেখা রয়েছে ‘‌কনট্যাক্ট ইয়োর ইনস্টিটিউশন’‌। অর্থাৎ স্কুলের সঙ্গে সেই পড়ুয়াদের যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। সংসদ সূত্রে জানা গেছে, যাদের নামে পাশে ‘‌কনট্যাক্ট ইয়োর ইনস্টিটিউশন’ লেখা রয়েছে, তারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি। অনুত্তীর্ণ হওয়ার খবর অনলাইনে দেখে অনেকের মনে হতাশা বা বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে। তাই স্কুলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। মার্কশিটে নম্বরের সবিস্তার উল্লেখ থাকবে।

এক ছাত্রীর অভিযোগ, তারা এত খারাপ পরীক্ষাও দেয়নি যে পাশ করতে পারবে না। যে দুটি বিষয়ের পরীক্ষা হয়েছে, সেগুলি ছিল ‘‌স্কোরিং’‌। কমপক্ষে ৪০ থেকে ৬০ নম্বর উঠে যাওয়ার কথা। তা ছাড়া ১০, ১৫ বা ২০ জন অকৃতকার্য হতে পারে, কিন্তু একসঙ্গে ১৩০ জন কী করে ফেল করে?‌ একই বক্তব্য পড়ুয়াদের অভিভাবকদেরও। তাঁদের অভিযোগ, নিশ্চয়ই কোথাও কিছু গোলমাল হয়েছে। অভিভাবকদের দাবি, এই পড়ুয়াদের টেস্টের রেজাল্ট ভালই ছিল।
রাজেশ গুপ্তা নামে এক অভিভাবক বলেন, ‘‌এই ১৩০ জনের মধ্যে অনেক ভাল ছেলেমেয়েও আছে। স্কুল কিছু বলছে না। গোটা বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রীকে জানালে তিনি সংসদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। আমরা মঙ্গলবার সংসদে যাব।’‌ সংসদের সভানেত্রী মহুয়া দাস সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, ‘‌ফেল করে পাশ করানোর দাবিতে বিক্ষোভ দেখালে বরদাস্ত করা হবে না। প্রয়োজন মনে করলে এরা স্ক্রুটিনি, রিভিউ এবং তথ্য জানার অধিকার আইনে খাতা দেখানোর আবেদন করতে পারে।’

শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: