‘প্রতিবার ধর্মতলার সভায় সব মিলিয়ে ৩০ লক্ষ লোকের কাছে পৌঁছোনো যেত। এবার ভার্চুয়াল সভা করে ৫০ লক্ষের বেশি কর্মীর কাছে পৌঁছোতে পেরেছি। রাজ্যের সমস্ত বুথে দলের কর্মীরা সকালেই শহিদ দিবস পালন করেছেন। প্রতিটি ব্লক অফিসে পতাকা তোলা হয়েছে।’
মঙ্গলবার কালীঘাটের বাড়ি থেকে ২১ জুলাই উপলক্ষে ভার্চুয়াল সভা করে এই বক্তব্য পেশ করেন দলনেত্রী মমতা ব্যানার্জি। তিনি এদিন তাঁর সরকারের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেন। বলেন, ‘বাংলায় বেকারের সংখ্যা ৪০ শতাংশ কমেছে। আরও কর্মসংস্থানের জন্য সবে পরিকল্পনা শুরু করেছিলাম। কোভিডের জন্য বন্ধ রাখতে হল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমাদের সরকার আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ করবে। উন্নয়ন হয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকা দিয়ে আরও উন্নয়ন হবে।
দিল্লিতে গেলে আগে শোনা যেত বাংলা ছাগলের তৃতীয় ছানা। বাংলা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আরও ১১টি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হচ্ছে। ‘দিদিকে বলো’ জনসংযোগ কর্মসূচিতে ৬ লক্ষ মানুষকে পেনশন করে দিয়েছি। ন্যায্যমূল্যে ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে। শুধু ১০০ দিনের কাজেই নয়, বাংলা অধিকাংশ প্রকল্পে প্রথম স্থানে আছে। আমফান, বুলবুলে ক্ষতিগ্রস্ত আড়াই লক্ষ পরিবার সাহায্য পেয়েছে। কেন্দ্র পচা চাল দিচ্ছে। আমরা ভাল চাল দিচ্ছি। ক্ষুদ্রশিল্পকে আরও সাহায্য করা হবে। ১০০ দিনের কাজে ৫২ হাজার কোটি টাকা এর মধ্যে খরচ হয়েছে। কেন্দ্র কোনও টাকা দিচ্ছে না। শুধু বড় বড় কথা বলে। আশা–র মেয়েদের ৩ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। ভবিষ্যতে আরও কিছু দেওয়ার ইচ্ছে আছে। চেষ্টা করব, কাউকে চাইতে হবে না।’
অন্যদিকে, এদিন ধর্মতলায় ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তৃণমূলের নেতারা। ছিলেন দলের মহাসচিব পার্থ চ্যাটার্জি, রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, মালা রায়, তুষার শীল। প্রত্যেকেই বক্তব্য পেশ করেন। এরপর নেতারা চলে যান যে যঁার নিজের এলাকায়। বিজয়গড়ে অরূপ বিশ্বাস, চেতলায় ফিরহাদ হাকিম, বেহালা পশ্চিমে পার্থ চ্যাটার্জি, চন্দনা ভট্টাচার্য, শশী পাঁজা, চন্দননগরে ইন্দ্রনীল সেন শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। সামাজিক দূরত্ব মেনে, মাস্ক পরে, দলের কর্মীরা চন্দননগরে ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে সুশৃঙ্খলভাবে বসে নেত্রীর বক্তব্য শুনেছেন বলে জানিয়েছেন ইন্দ্রনীল। বেশিরভাগ জায়গায় কর্মীরা এদিন কর্মসূচি পালন করেছেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে, মাস্ক পরে দলনেত্রীর বক্তব্য শুনেছেন।
কালীঘাটের মোড়ে শহিদ দিবস পালন করেন কার্তিক ব্যানার্জি। কালীঘাট মিলন সঙ্ঘ ক্লাব প্রাঙ্গণে দলনেত্রীর ভার্চুয়াল সভার বক্তৃতা শোনার জন্য কয়েকটি টিভি লাগানো হয়। সংবাদমাধ্যমের জন্য ৫টি টিভি মনিটর লাগানো হয়। সকাল থেকে বাংলার বিভিন্ন ব্লকে রবীন্দ্রসঙ্গীত, দেশাত্মবোধক গান বাজানো হয়, কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ–উদ্দীপনা ছিল চোখে পড়ার মতো। নিষ্ঠার সঙ্গে তাঁরা শহিদ দিবস পালন করেন, পতাকা তোলেন, নেত্রীর বক্তব্য শোনেন।
মমতা ব্যানার্জির বার্তা সবার কাছে পৌঁছে দিতে স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের উদ্যোগে পাড়ায় পাড়ায় জায়ান্ট স্ক্রিন, মাইক লাগানো হয়েছিল। পার্টি অফিসের বাইরে মঞ্চও তৈরি করা হয়। কোথাও কোথাও বক্তৃতা শুনতে দাঁড়িয়ে পড়েছেন পথচলতি মানুষও। অনেকে মোবাইলে রেকর্ডও করে রাখেন। অনেকে বাড়িতে বসে মোবাইলে শুনেছেন।
তৃণমূল ভবনের সামনে মন্ত্রী জাভেদ খানের উদ্যোগে জায়ান্ট স্ক্রিন লাগিয়ে স্বাস্থ্য বিধি মেনে মাস্ক পরে, নিজেদের মধ্যে দূরত্ব বজায় রেখে তৃণমূল কর্মীরা মমতার বক্তব্য শোনেন। দক্ষিণ কলকাতায় সুব্রত মুখার্জি, ওয়ার্ড কোঅর্ডিনেটর সুদর্শনা মুখার্জি শহীদ দিবস পালন করেন। গিরিশ পার্কের সামনে স্মিতা বক্সি, সঞ্জয় বক্সি, সৌম্য বক্সির উদ্যোগে, বেলেঘাটায় ওয়ার্ড কোঅর্ডিনেটর অলকানন্দা দাস ও অলোক দাসের উদ্যোগে শহিদ দিবস পালন করা হয়। বিধাননগরে শহিদদের স্মরণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্যোক্তা ছিলেন বিধাননগরের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী। ২০৬ নম্বর বাসস্ট্যান্ডের কাছে ১৩ জন শহিদের নামে চারাগাছ পোঁতা হয়।


0 coment rios: