Tuesday, 21 July 2020

শহীদ দিবসে শহীদ হবার উপক্রম গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে



শহীদ দিবস পালন করতে গিয়ে শহীদ হবার উপক্রম। তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠী সংঘর্ষের জেরে উত্তাল অশোকনগর পুরসভার দু নম্বর ওয়ার্ড। মঙ্গলবার দুপুরে একুশে জুলাই শহীদ দিবস পালন করাকে কেন্দ্র করে কে পতাকা তুলবে তাই নিয়েই তুমুল সংঘর্ষ বাধে।



গোষ্ঠী সংঘর্ষে গুরুতর জখম হন তিন জন এদের মধ্যে বাপন রায় নামে একজন তৃণমূল কর্মীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদেরকে অশোকনগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই অশোকনগর পৌরসভার প্রাক্তন পুরপ্রধান সমীর দত্ত ও বর্তমান প্রধান প্রবোধ সরকারের মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চলে আসছে।




2016 সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রকাশ্য জনসভায় দলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই গোষ্ঠী দ্বন্দ জেলা সভাপতি তথা খাদ্য মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ও বারাসাতের সাংসদ ডাক্তার কাকলি ঘোষ দস্তিদার কে নির্দেশ দেন আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে এবং দ্রুত তা মিটিয়ে ফেলতে। কিন্তু বলাই সার কে শোনে কার কথা। অশোক নগর এলাকায় তৃণমূলের রাজনৈতিক সমীকরণ অন্য কথা বলে। এখানে বর্তমান বিধায়ক ধীমান রায়, প্রাক্তন পুরপ্রধান সমীর দত্ত ও আহত দুই নম্বর ওয়ার্ডের কনভেনর বাপন রায় বারাসাতের সাংসদ ডাক্তার কাকুলী ঘোষ দস্তিদারের অনুগামী বলে পরিচিত। অন্য দিকে তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা খাদ্য মন্ত্রী জ্যোতি প্রিয় মল্লিকের অনুগামী হলেন বর্তমান অশোক নগর পুরসভার প্রশাসক প্রবোধ সরকার ও তার গোষ্ঠীর শিবু দে ও বিল্টু সেনরা।
এলাকা দখল থেকে শুরু করে নানা ইস্যুতে প্রতিদিন এই দুই গোষ্ঠীর বোমাবাজি, গোলাগুলি, ভাঙচুর, লুটপাট, অবরোধ-বিক্ষোভ এবং মারামারিতে এলাকার সাধারণ মানুষ অতিষ্ট হয়ে উঠেছেন। 1993 সাল থেকে আজ পর্যন্ত 21 জুলাই দলীয় কর্মীদের আত্মবলিদানের দিন  হিসাবে ও শোকের দিন হিসাবে পালিত হয় বাংলা জুড়ে। কিন্তু সেই শহীদ দিবসে ও অশোক নগর এলাকায় শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠী কোন্দলের  ব্যতিক্রম কিছু ঘটেনি । সকাল থেকেই অশোকনগর পৌরসভার 2 নম্বর ওয়ার্ডে সমীর দত্ত অনুগামী ওয়ার্ড কমিটির কনভেনার বাপন রায় একুশে জুলাই শহীদ দিবস পালনের জন্য আমতলায় তোড়জোড় শুরু করেন। কিন্তু তাতে সদলবলে এসে বাধা দেন ওই ওয়ার্ডে অপর প্রবোধ সরকার অনুগামী গোষ্ঠীর তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী শিবু দে এবং বিল্টু সেন। শুরু হয় বচসা ও ব্যাপক মারামারি। আহত বাপন রায়ের অভিযোগ তৃণমূল কংগ্রেসের শিবু দে, বিল্টু সেনরা দলবল নিয়ে তার বাড়িতে চড়াও হয় এবং তাঁকে ব্যাপক মারধর করে। প্রবোধ সরকারের পাল্টা অভিযোগ তাদের গোষ্ঠীর চারজন তৃণমূল কর্মী ও গুরুতর জখম হয়েছেন। এই ঘটনার রেশ চলে বেশ কয়েক ঘণ্টা। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এলাকার সাধারণ বাসিন্দারা।খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় অশোক নগর থানার বিশাল পুলিশবাহিনী। আহতদের দেখতে অশোকনগর স্টেট জেনারেল হাসপাতাল পৌঁছায় অশোকনগরের বিধায়ক ধীমান রায়। তিনি গোষ্ঠী সংঘর্ষের কথা স্বীকার করে নেন এবং আগামী দিনে যাতে এগুলো না ঘটে সেদিকে দেখবেন বলে আশ্বাস দেন। যদিও এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তবে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা থাকায় পুলিশ পিকেটিং করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে খবর অশোকনগর পৌরসভার 2 নম্বর ওয়ার্ডের আমতলা এলাকায় একটি শহীদ বেদী আগেই নির্মাণ করা হয়েছিল। তখন সেটা ছিল সমীর দত্তর অনুগামীদের দখলে। পরে প্রবোধ সরকার পৌরপ্রধান হবার পর তা চলে যায় প্রবোধ সরকারের অনুগামীদের দখলে। কিন্তু এবছর সেই শহীদ বেদীতে শহীদ দিবসে পালন করতে না গিয়ে আমতলা তেই পুরনো শহীদ বেদীর কাছে একটি নতুন শহীদ বেদী তৈরি করেন সমীর দত্তের অনুগামী বাপন রায়। এই দুই শহীদ বেদীর রেষারেষির কারন ও ফলা ফল মঙ্গলবার চাক্ষুষ করলেন অশোকনগরের মানুষ। প্রবোধ সরকারের অভিযোগ একই ওয়ার্ডের একই এলাকায় একই জায়গায় পাশাপাশি দুটি শহীদ বেদী তৈরি হলে তা অত্যন্ত দৃষ্টিকটু ও দলীয় শহীদ দের পক্ষে অপমানজনক লাগছিল। শিবু বিল্টু ভবতোষ রা সেটারই প্রতিবাদ করতে গিয়েছিল। তখন তাদের ওপর চড়াও হয় সমীর দত্তের অনুগামী বাপন রায়রা। তাদের মারে গুরুতর জখম হয়েছেন আমাদেরও চার তৃণমূল কর্মী। তাদেরকেও একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়েছে। শহীদ দিবসে এমন ঘটনা অনভিপ্রেত। এদিকে হাবরা ও অশোকনগর এলাকায় এই সর্বজনবিদিত গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে গত লোকসভা নির্বাচনে দুই বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির ভোটব্যাঙ্ক বৃদ্ধি পেয়েছে বলে স্থানীয়দের ধারণা। সামনে বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের সংঘর্ষ ততো তীব্র হচ্ছে। অশোকনগরের আমজনতা অবশ্য এলাকায় শান্তি ফেরানোর জন্য পুলিশ ও প্রশাসনের ওপর ভরসা করে আছেন।

শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: