বিশ্বজুড়ে লকডাউনে বাড়ছে দারিদ্র, বেকারত্ব। মাথাচারা দিচ্ছে ক্ষুধা এবং অপুষ্টির মতো সমস্যা। রাষ্ট্রপুঞ্জের নতুন রিপোর্টে রীতিমতো আতঙ্কিত হতে হয়! রিপোর্ট বলছে, অতিমারীর কারণে অন্তত ১৩.২ কোটি মানুষকে না খেয়ে থাকতে হতে পারে চলতি বছরের শেষে। এই মুহূর্তে সংখ্যাটা ৬৯ কোটি, যা কিনা মোট জনসংখ্যার ৮.৯%। খাবার না পাওয়াই একমাত্র বড় সমস্যা নয়। অর্থের অভাবে আধপেটা খেয়ে বেঁচে আছেন কোটি কোটি মানুষ। লকডাউনের জেরে এই সমস্যা আরও বাড়বে বলে মনে করছে রাষ্ট্রপুঞ্জ। কাজ হারিয়েছেন কোটি কোটি মানুষ। ফলত টাকা বাঁচাতে কম দামি অপুষ্টিকর খাবার কেনার দিকেই ঝোঁক বাড়ছে! রিপোর্ট জানাচ্ছে, এই ধারা চলতে থাকলে ২০৩০ সাল নাগাদ অভুক্ত এবং অর্ধভুক্তের সংখ্যা বেড়ে ৮৪ কোটিতে পৌঁছবে।
সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২০১৯ সালে স্বাস্থ্যকর এবং পুষ্টিকর খাবার পাননি অন্তত ২০০ কোটি মানুষ। ফল, শাকসবজি কিংবা প্রোটিন জাতীয় খাবার অন্তত ৩০০ কোটি মানুষের মুখে ওঠেনি। পুষ্টির অভাবেই বিশ্বজুড়ে মারা গিয়েছে কোটি কোটি শিশু। পাশাপাশি ওবেসিটি–র সমস্যাও দেখা দিয়েছে। স্থূলতা। অর্থাৎ শরীরে মেদ জমে নানা জটিল রোগের শিকার হয়েছেন বহু মানুষ। রাষ্ট্রপুঞ্জ জানাচ্ছে, গরিবের মুখে পুষ্টিকর খাবার তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে সব দেশের সরকারকে। ক্ষুধা এবং অপুষ্টি দূর করতে বার্ষিক প্রায় ৭৫ হাজার কোটি ব্যয় করা প্রয়োজন, রিপোর্টে জানাচ্ছে রাষ্ট্রপুঞ্জ। অপুষ্টি জনিত সমস্যা বেশি এশিয়াতেই। তালিকায় পরেই রয়েছে আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ। তবে জনসংখ্যার অনুপাতে এগিয়ে অপুষ্টি বেশি আফ্রিকাতেই (১৯.১%)।
বিশ্ব খাদ্য প্রকল্পের কর্ণধার ডেভিড বিসলি বলেন, ‘করোনা তো বটেই, আবহাওয়া, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণেই না খেয়ে বাঁচতে হচ্ছে অগুণতি মানুষকে। পৃথিবীর প্রত্যেকের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার মতো সম্পদ এই দুনিয়ায় মজুত রয়েছে। পৃথিবীতে মোট জনসংখ্যা প্রায় ৭৮০ কোটির মতো। কিন্তু সব মিলিয়ে মোট কৃষি উৎপাদন অন্তত হাজার কোটি মানুষের মুখে খাবার তুলে দিতে পারে। অর্থাৎ সমস্যা জোগানে নয়। সামাজিক এবং আর্থিক অসাম্য, প্রশাসনিক ব্যর্থতাই দায়ী।’


0 coment rios: