Sunday, 12 July 2020

এ কেমন প্রধান শিক্ষক! পড়ানোর নামে একের পর এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি(ভিডিও)


ফের বাংলাদেশে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগ। কোচিং সেন্টারে পড়ানোর নামে একাধিক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করেছেন ওই শিক্ষক। অভিযোগ এমনই। এ বিষয়ে ৬ মিনিটের একটি পুরোনো ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিয়োর ভিত্তিতেই নেটিজেনরা অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তি দাবি করেছেন।


ভাইরাল ওই ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, একটি ঘরে অভিযুক্ত শিক্ষক কয়েকজন ছাত্রীকে পড়াচ্ছেন। আর পড়াতে-পড়াতেই তিনি ছাত্রীদের নানান স্পর্শকাতর স্থানে হাত রাখছেন। এমনকী ছাত্রীর ঠোঁট টেনে নিজের মুখের কাছে আনছেন। স্বাভাবিক কারণেই ছাত্রীরা বিব্রত বোধ করছে। আর তিনি বেত হাতে নিয়ে তাদের সামনে ঘোরাঘুরি করছেন।
অভিযুক্ত ওই শিক্ষক বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সোনার বাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল হক সরদারের। তিনি ওই স্কুলের পাশেই ঘর ভাড়া নিয়ে ছাত্রীদের পড়াতেন। ওই কোর্চিং সেন্টারে পড়তে আসা ছাত্রীদের যৌন হয়রানির এই ভিডিয়োটি ২০১৬ সালের জুন মাসের। সেই সময়ও ভিডিয়োটি ভাইরাল হয়েছিল। তখনও এ নিয়ে হৈচৈ শুরু হয়েছিল। করোনা আবহে ফের ওই ভিডিয়ো নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

     

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শিক্ষক নুরুল হকের ওই আপত্তিকর ভিডিও নিয়ে বরিশাল মহিলা পরিষদ ও মহিলা অধিদপ্তরের নেতৃবৃন্দরা ২০১৬ সালেই প্রশাসনের কাছে শাস্তি দাবি করেছিল। পরে স্থানীয় প্রশাসনের তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঝুমুর বালার মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষক নুরুল হকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। সেইসঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রক থেকেও ওই বছরের জুলাই থেকে অভিযুক্ত শিক্ষকের বেতন-ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেইসঙ্গে তাঁকে ওই বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয়। যদিও ২০১৯ সালের মে মাসে অভিযুক্ত শিক্ষক বেতন-ভাতা চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রকের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে একটি মামলা দায়ের করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই শিক্ষক দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে আসেননি। তবে উপজেলার শিকারপুর ইউপি চেয়ারম্যান সরোয়ার হোসেন ওই বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি হওয়ার পর হঠাতই শিক্ষক নুরুলকে আবারও ওই বিদ্যালয়ে দেখা যায়। এমনকী শিক্ষা মন্ত্রকের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশে করোনা মহামারীর আগেও শিক্ষক নুরুল অবৈধভাবে ওই বিদ্যালয়ে ক্লাস নিয়েছেন বলে অভিযোগ।


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: