Showing posts with label বিশ্ব. Show all posts
Showing posts with label বিশ্ব. Show all posts

Tuesday, 18 May 2021

স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের নথি চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার বাংলাদেশের সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম

স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের নথি চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার বাংলাদেশের সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নথি চুরির অভিযোগে গ্রেফতার বাংলাদেশের উদীয়মান সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম।

বাংলাদেশের রোজিনা ইসলাম নামের একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিককে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মামলায় কারাগারে পাঠানে হয়েছে। সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে মঙ্গলবার বেলা এগারোটার দিকে আদালতে তোলা হয়। বাংলাদেশে প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে রিমাণ্ডে নেয়ার জন্য পুলিশের আবেদন নামঞ্জুর করে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানরোর নির্দেশ দিয়েছে।
আজ সকালে তাকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে হাজির করে পুলিশের পক্ষ থেকে পাঁচ দিনের রিমাণ্ডের আবেদন করা হয়েছিল।রোজিনা ইসলামের পরিবারের পক্ষ থেকেও জামিনের আবেদন করা হয়েছিল।তবে পুলিশের রিমাণ্ড আবেদন নিয়ে শুনানির পর আদালত তা নামঞ্জুর করে এবং রোজিনা ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।রোজিনা ইসলামের পক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন, জামিন আবেদনের ওপর আগামী বৃহস্পতিবার শুনানি হবে বলে তাদের জানানো হয়েছে।সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের আওতায় মামলা করা হয় গত রাতে।সেই মামলায় তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় নথি চুরি এবং অনুমতি ছাড়া সেই নথির ছবি তোলার অভিযোগ আনা হয়েছে।তাকে আজ সকাল আটটার দিকে আদালতে নেয়া হয়েছিল। কিন্তু আদালত বসেছিল ১১টার দিকে।
গতকাল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নথি চুরির চেষ্টা ও মোবাইল ফোনে ছবি তোলার অভিযোগে স্বাস্থ্য সচিবের পিএস-এর কক্ষে তাকে পাঁচ ঘণ্টার মতো আটকে রাখা হয়েছিল।সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যাচ্ছে তাকে গলা চেপে ধরে রেখেছেন সচিবালয়ের এক নারী কর্মকর্তা।অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে করা মামলায় রোজিনা ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।এক পর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে মেঝেতে পরে যান। এর পর রাত আটটার দিকে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সচিবালয় থেকে ঢাকার শাহবাগ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।চিকিৎসা দের সাথে কথা বলে সেখান থেকে বের করে এনে সরাসরি তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে সাংবাদিকরা অভিযোগ করেন।রাতে শাহবাগ থানার সামনে বিভিন্ন মিডিয়া কর্মীরা অবস্থান করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।গত মধ্যরাতের দিকে রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধিতে চুরির অভিযোগে এবং ১৯২৩ সালের অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে রাষ্ট্রীয় গোপন নথি সরানো ও অনুমতি না নিয়ে ছবি তোলার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।রোজিনা ইসলাম স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন করার জন্য নানা সময়ে আলোচিত হয়েছেন।

রোজিনা ইসলামকে নিয়ে কি ঘটেছে সেটি জানাতে আজ সকাল ১১ টার দিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ডাকা এক প্রেস ব্রিফিং বয়কট করেছে স্বাস্থ্যখাত এবং সচিবালয় বিটে কাজ করা সাংবাদিকরা।এই ব্রিফিং বয়কটের সিদ্ধান্ত আগেই জানিয়েছিল বাংলাদেশ হেলথ রিপোটার্স ফোরাম।তারা ব্রিফিং-এ উপস্থিত হয়ে রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা করার প্রতিবাদ জানিয়ে ব্রিফিং কক্ষ থেকে বের হয়ে যান।এসময় উপস্থিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা তাদের বসার আহবান জানান।তবে সাংবাদিকরা প্রতিবাদ করেন এবং সবাই বের হয়ে যান।



Thursday, 24 September 2020

তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কেন্দ্রের কালা কৃষক বিরোধী বিলে বিরুদ্ধে  বিক্ষোভ কর্মসূচি

তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কেন্দ্রের কালা কৃষক বিরোধী বিলে বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কর্মসূচি

 

আজ বৃহস্পতিবার সারা রাজ্যের সমস্ত গ্রামের হাটে বাজারে রাজ্য কৃষাণ  ক্ষেতমজদুর তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কেন্দ্রের কালা কৃষক বিরোধী বিলে বিরুদ্ধে  বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছে।  আগামী কাল ও শুক্রবার গান্ধী মূর্তির পাদদেশে কলকাতার মমতা ব্যানার্জির নির্দেশে বেলা ১১টা থেকে ৪ঃ৩০টা পর্যন্ত অবস্থান বিক্ষোভে বসবেন রাজ্য কৃষাণ ক্ষেত মজুর তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি বিধায়ক বেচারাম মান্নার নেতৃত্বে রাজ্যের কয়েক হাজার কৃষক মজুদুর।সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায় ও কৃষাণ ক্ষেত মজুর তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি বিধায়ক বেচারাম মান্না।গণতন্ত্রকে হত্যা করা হচ্ছ বলে দাবি তাদের।

Saturday, 5 September 2020

স্নোডেনের ফাঁস করা সেই নজরদারির কর্মকাণ্ড অবৈধ

স্নোডেনের ফাঁস করা সেই নজরদারির কর্মকাণ্ড অবৈধ


 আমেরিকার প্রভাবশালী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির (এনএসএ) গোপন নজরদারি কর্মসূচিকে অবৈধ বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। সাত বছর আগে এনএসএর সাবেক ঠিকাদার স্নোডেন গোয়েন্দা নজরদারি কর্মসূচির বেআইনি কার্যকলাপ ধরে ফেলেন ও কর্মকাণ্ডের প্রামাণ্য তথ্য ফাঁস করেন। এ ঘটনা বিশ্বজুড়ে আলোচিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের একটি আপিল আদালত ওই কর্মসূচিকে অবৈধ বলেন। একই সঙ্গে মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা যাঁরা প্রকাশ্যে এটির পক্ষে ছিলেন, তাঁরা সত্য বলছিলেন না বলে উল্লেখ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের আপিল আদালত জানিয়েছেন, গোপনে লাখো আমেরিকান টেলিফোন রেকর্ড সংগ্রহ করার ওই কর্মসূচি বিদেশি গোয়েন্দা নজরদারি আইন লঙ্ঘন করেছে এবং এটি অসাংবিধানিক হতে পারে।ওই ঘটনার পর ২০১৩ সালে রাশিয়ায় পালিয়ে যান স্নোডেন। তাঁকে মস্কোতে নির্বাসিত জীবন যাপন করতে হয়েছে। মোটা বেতনের চাকরি, সুন্দরী মেয়েবন্ধু, আয়েশি জীবন ছেড়ে স্বদেশ থেকে পালাতে বাধ্য হন তিনি। সরকার তাঁর বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে মামলা করেছে। রাজনীতিক ও ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা তাঁকে আখ্যায়িত করেছেন বিশ্বাসঘাতক, রাষ্ট্রদ্রোহী, এমনকি চোর বলে। মার্কিন আপিল আদালতের রুলের পর টুইটারে বলেছেন, গোয়েন্দা সংস্থার অভ্যন্তরীণ নজরদারির প্রমাণসহ সর্বসাধারণের কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্তের সত্যতা এ রুলের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। স্নোডেন টুইটারে পোস্ট করা একটি বার্তায় বলেন, ‘আমি কখনো ভাবিনি যে আদালত এনএসএর কার্যক্রমকে বেআইনি হিসেবে তীব্র নিন্দা করবে এবং এ রুল আমাকে তাদের মুখ উন্মোচনের জন্য প্রশংসা করবে, তা দেখার জন্য বেঁচে থাকব।’আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, আদালতের এ রুল আমাদের প্রাইভেসি অধিকারের জয়। এটি সহজবোধ্য যে এনএসএর ব্যাপক মার্কিন নাগরিকদের ফোনের তথ্য সংগ্রহ সংবিধান লঙ্ঘন। প্রমাণ রয়েছে যে এনএসএ গোপনে মার্কিন টেলিফোন রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটাবেইস তৈরি করছিল। কে, কীভাবে, কখন এবং কোথায় মোবাইল কল করছে, তা ডেটাবেইস করে রেখেছিল গোয়েন্দারা। ২০১৩ সালে গার্ডিয়ান পত্রিকা প্রথম ওই তথ্য ফাঁস করে। স্নোডেনের তথ্য ফাঁসের আগে পর্যন্ত শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জনসম্মুখে তথ্য সংগ্রহের বিষয়টি অস্বীকার করে এসেছেন। তাঁরা দাবি করে এসেছেন, তাঁরা মার্কিন নাগরিকদের জেনেশুনে কোনো তথ্য সংগ্রহ করেন না। কিন্তু স্নোডেন ব্রিটেন ও আমেরিকার মূলধারার দুটি সংবাদপত্রের সাংবাদিকদের মাধ্যমে আমেরিকার জনগণসহ বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকের ব্যক্তিগত টেলিফোন আলাপ গোপনে রেকর্ড করছে এনএসএ। যাঁদের করের টাকায় রাষ্ট্র চলে, যাঁদের ভোটে সরকার নির্বাচিত হয়, তাঁদের চলাফেরা থেকে শুরু করে সব কাজের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি করছে সরকার।স্নোডেন একসময় সিআইএ ও এনএসএর সঙ্গে ঠিকাদার হিসেবে কাজ করার সময় নিজের কম্পিউটারে গোপনে কপি করে নেন এনএসএর বিপুল পরিমাণ তথ্য। ২০১৩ সালে তাঁর যোগাযোগ ঘটে আমেরিকান আইনজীবী ও সাংবাদিক গ্লেন গ্রিনওয়াল্ডের সঙ্গে, যিনি তখন ব্রিটেনের দৈনিক গার্ডিয়ানের জন্য লিখতেন। স্নোডেন সে সময় কর্মরত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপে, আমেরিকান নিরাপত্তা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাজ অ্যালান হ্যামিল্টনের কর্মী হিসেবে, যে প্রতিষ্ঠানটি ছিল এনএসএর ঠিকাদার। এনএসএর ‘টপ সিক্রেট’ শ্রেণির বিপুল পরিমাণ তথ্যের ভান্ডার দৈনিক গার্ডিয়ানের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন স্নোডেন। তাঁর দেওয়া প্রামাণ্য তথ্যের ভিত্তিতে ২০১৩ সালের জুন মাসে গ্লেন গ্রিনওয়াল্ড গার্ডিয়ানে লিখতে শুরু করেন ধারাবাহিক প্রতিবেদন। আমেরিকান শাসকদের মাথায় বাজ পড়ে, ক্রোধে ফেটে পড়ে হোয়াইট হাউস। এডওয়ার্ড স্নোডেন হন তাঁর স্বদেশের সরকারের কাছে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড আমেরিকান’। তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক হুলিয়া জারি করে আমেরিকার সরকার।

টাইফুনে হতাহতের জন্যে দায়ী কর্মকর্তাদের শাস্তি পেতে হবে: উত্তর কোরিয়া

টাইফুনে হতাহতের জন্যে দায়ী কর্মকর্তাদের শাস্তি পেতে হবে: উত্তর কোরিয়া

উত্তর কোরিয়ায় টাইফুনে হতাহতদের রক্ষায় ব্যর্থতার জন্যে স্থানীয় কর্মকর্তাদের ভয়ঙ্কর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে শনিবার দেশটির ক্ষমতাসীন দলের পত্রিকা রডং শিনমুনের খবরে বলা হয়েছে, বেশ কিছু হতাহতের কারণে নেতৃবৃন্দ দায়িত্বহীনতার জন্যে নগর ও প্রাদেশিক কর্মকর্তাদের শাস্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে টাইফুন মেসাকের কারণে উত্তর কোরিয়া জুড়ে প্রবল বৃষ্টিপাত হয়েছে। ভিডিও ফুটেজে কাঙউন প্রদেশের উনসন শহরের রাস্তাঘাট তলিয়ে যেতে দেখা গেছে। এতে হতাহত হয়েছে বেশ কিছু লোক। তবে ঠিক কতোজন আহত, নিখোঁজ কিংবা মারা গেছে তা সুনির্দিষ্টভাবে খবরে উল্লেখ করা হয়নি।

তবে পত্রিকার খবরে আরও বলা হয়, কিম জং উনের নেতৃত্বাধীন ওয়ার্কাস পার্টি অব কোরিয়ার নির্দেশনা সত্ত্বেও কর্মকর্তারা ঝুঁকিতে থাকা সম্পদসমূহ সার্বিকভাবে চিহ্নিত এবং বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এ কারণে দায়ীদের দলীয়, প্রশাসনিক ও আইনীভাবে মারাত্মক শাস্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

ভারত-চীন সংঘাতে ফের মধ্যস্থতার প্রস্তাব ট্রাম্পের

ভারত-চীন সংঘাতে ফের মধ্যস্থতার প্রস্তাব ট্রাম্পের


লাদাখ সীমান্তে ভারত-চীন সংঘাত নিয়ে ফের মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাশাপাশি ভারত-চীন সংঘাতের পরিস্থিতিকে 'কদর্য' (ন্যাস্টি) বলে মন্তব্যও করেছেন ট্রাম্প।

শুক্রবার হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ের সময় ট্রাম্প বলেছেন, আমরা যদি কিছু করতে পারি... আমরা এ বিষয়ে যুক্ত হতে আগ্রহী এবং সাহায্য করতে চাই। আমরা চীন-ভারতের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। চীন এবং ভারতের প্রতি সম্মান রেখে বলছি আমরা সাহায্য করতে প্রস্তুত। 

ট্রাম্প এর আগেও দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। যদিও ভারত ও চীন-উভয় দেশই সেই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছিল।

 

ইরাক থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান রাশিয়ার

ইরাক থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান রাশিয়ার


ইরাক থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করার জন্য ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া। মার্কিন সরকার ইরাক থেকে কিছু সেনা সরিয়ে নিচ্ছে বলে খবর প্রকাশিত হওয়ার পর মস্কো এ আহ্বান জানাল।

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা মস্কোয় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে থেকে বিশেষ করে ইরাকের মাটি থেকে সেনা প্রত্যাহার হবে আমেরিকার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ।

তিনি বলেন, ইরাকে মার্কিন সেনা উপস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের এ দেশটিতে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বয়ে আনতে পারেনি বরং উল্টো গোটা অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে।

রাশিয়ার এই কূটনীতিক আরও বলেন, এখন পর্যন্ত মার্কিন কর্মকর্তারা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করার যে ঘোষণা দিয়েছেন তার বেশিরভাগই বাস্তবায়িত হয়নি।

তবে সেসব ঘোষণাকে পেছনে ফেলে ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা বাস্তবায়ন করা হবে বলে মারিয়া জাখারোভা আশা প্রকাশ করেন।

 

করোনার ভয় কাটাতে এই কফিনে শুয়ে থাকেন জাপানিরা

করোনার ভয় কাটাতে এই কফিনে শুয়ে থাকেন জাপানিরা


প্রায় সাড়ে ৬ ফুট লম্বা কাঠের কফিন। ওপরটা কাঁচে ঢাকা। এমন কফিনে শুনে করোনাভীতি দূর করছে জাপানিরা! দেশটির একটি নাট্য সংগঠন এই উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতি সপ্তাহে জাপানের টোকিও শহরের মানুষদের জন্য এর আয়োজন করা হচ্ছে। 

কফিনটিতে শুয়ে সাউন্ড বক্সে শোনা যাবে ভৌতিক গল্প। দেখা যাবে ভুত আর জম্বিরাদের। যারা একে অন্যের সঙ্গে মারামারি করছে। লম্বা ভৌতিক আঙুল দিয়ে খোঁচাচ্ছে। এমন সব ভৌতিক কাণ্ড-কারখানা। টানা ১৫ মিনিট এই ভৌতিক পরিবেশে থাকতে হবে। মূল বিষয় হলো- এই ভুত আর জম্বির সাজে অভিনেতারা অভিনয় করেন কফিনে শুয়ে থাকা মানুষের সামনে। উপরের স্বচ্ছ লাঁচের জন্য ভেতর থেকে সব দেখতে পান মানুষটি।

আত্মহত্যার আগে ৪ আত্মীয়কে গুলি করে হত্যা কানাডীয় নাগরিকের

আত্মহত্যার আগে ৪ আত্মীয়কে গুলি করে হত্যা কানাডীয় নাগরিকের

 

কানাডার ওন্টারিও শহরে বন্দুকধারী এক ব্যক্তি আত্মহত্যার আগে গুলি করে তার চার আত্মীয়কে হত্যা করেছে। 

পুলিশ জানিয়েছে, মাইকেল লাপা নামে ৪৮ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি একাই সবাইকে গুলি করে হত্যা করে এবং পরে আত্মহত্যা করে। 

তদন্তকারীরা বলছেন, লাপা যে বাড়িতে থাকত ওই বাড়ির লোকজন সবাই তার আত্মীয়। ওই বাড়িতে সে অনাহুত ব্যক্তি ছিল।

জর্জ টুডো নামে পুলিশের একজন কনস্টেবল জানান, গোলাগুলিতে চার পুরুষ এবং এক নারী নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে দু’জনের বয়স ১৮ বছরের কম। 

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ওই বাড়িতে ৫০ বছর বয়সী এক নারীকে আহতাবস্থায় পাওয়া গেছে।

ওই এলাকায় বসবাসরত এক নারী জানিয়েছেন, গোলাগুলির সময় তিনি ঘটনা জানতে পারেন এবং সে সময়কার পরিস্থিতিকে তিনি ভয়ঙ্কর বলে বর্ণনা করেন।

লিজ ম্যাকিনটোশ নামে ওই নারী বলেন, এটি অত্যন্ত নিরিবিলি এবং শান্ত এলাকা এখানে এ ধরনের ঘটনা কল্পনাও করা যায় না। তিনি জানান, ২০ থেকে ৩০ মিনিট ধরে গুলি হয়েছে ওই বাড়িতে।

বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪

বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪

 

বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম তল্লা এলাকায় একটি মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে পৌঁছেছে। শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। আজ শনিবার সকালে ওই ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম ১৪ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দগ্ধ বাকি ২৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। অনেকের শ্বাসনালী পুড়ে গেছে। তাঁদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এর আগে উপদেষ্টা চিকিৎসক সামন্ত লাল সেন সাংবাদিকদের জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দগ্ধ ব্যক্তিদের বেশির ভাগের শরীরের ৬০ থেকে ৭০ ভাগ পুড়ে গেছে। তাঁদের বেশির ভাগের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সামন্ত লাল সেন জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দগ্ধ ব্যক্তিদের বেশির ভাগের শরীরের ৬০ থেকে ৭০ ভাগ পুড়ে গেছে। তাঁদের বেশির ভাগের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তিনি জানান, সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে ফোন করেছিলেন। তিনি দগ্ধ ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন। নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম তল্লা এলাকার বায়তুস সালাত জামে মসজিদে গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার দিকে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের সময় মসজিদে ৫০ জনের মতো মুসল্লি ছিলেন। তাঁদের সবাই কমবেশি দগ্ধ হয়েছেন। দগ্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে গুরুতর ৩৭ জনকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। যাঁরা মারা গেছেন তাঁরা হলেন, মোস্তফা কামাল, রিফাত, রাশেদ, হুমায়ুন কবির, ইব্রাহীম, জুয়েল, সাব্বির, দেলোয়ার হোসেন, জামাল , জুনায়েদ , কুদ্দুস ব্যাপারী, মাইনুদ্দিন, জয়নাল ও সাত বছরের শিশু জুবায়ের। হাসপাতালে মরদেহ হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে। বিস্ফোরণের পর মসজিদটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। মসজিদের ভেতরে থাকা ছয়টি এসির সব কটি পুড়ে গলে গেছে। মসজিদ ভবনের স্লাইডিং জানালার কাচ উড়ে গেছে, ভেতরে ফ্যান, বিদ্যুতের তার, প্যানেল বোর্ড সবকিছু পুড়ে গেছে। আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আধা ঘণ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে তারা মনে করছে, গ্যাস পাইপলাইনের লিকেজ থেকে মসজিদের ভেতরে গ্যাস জমে যায়। পরে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট বা অন্য কোনোভাবে অগ্নিস্ফুলিঙ্গের সৃষ্টি হলে সেখানে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে ও আগুন লেগে যায়।

Friday, 4 September 2020

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আসছে ৭ সেপ্টেম্বর থেকে

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আসছে ৭ সেপ্টেম্বর থেকে


 

আগামী সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) থেকে কোভিড -১৯-এর দেড় লাখের বেশি মামলা রেকর্ড করা দেশগুলোর নাগরিকদের উপর সরকার প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা জারি করবে বলে জানিয়েছে মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাতুক সেরি ইসমাইল সাবরি ইয়াকুব।

সিনিয়রমন্ত্রী (সুরক্ষা) বলেছেন, তালিকার দেশগুলোর মধ্যে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, স্পেন, ইতালি, সৌদি আরব, রাশিয়া এবং বাংলাদেশ রয়েছে। পাশাপাশি তিনটি দেশ ভারত, ইন্দোনেশিয়া এবং ফিলিপিন্সের নাম আগে ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা উচ্চ-ঝুঁকিযুক্ত বলে বিবেচিত আরও বেশি দেশকে এই তালিকায় যুক্ত করব, যার দেড় হাজারেরও বেশি ইতিবাচক মামলা রয়েছে। তাদের নাগরিকদের (মালয়েশিয়ায় প্রবেশ নিষিদ্ধ) করা হবে।

'তবে, জরুরি পরিস্থিতি বা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সাথে জড়িত যেমন- যদি কোনও ব্যক্তির দেশগুলোর মধ্যে বৈঠকের জন্য আসা দরকার হয়, তবে আমরা প্রবেশের অনুমতি দেব। তবে এতে ইমিগ্রেশন বিভাগের অনুমতির প্রয়োজন। আজ বৃহস্পতিবার তিনি বিশেষ কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্বের পরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। 

তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কোভিড -১৯-এর পরে দেড় লাখের বেশি ইতিবাচক মামলা রেকর্ড করেছে এমন দেশগুলোর বিষয়ে বিশদ ঘোষণা করবে।

গত মঙ্গলবার ইসমাইল সাবরি সে দেশগুলোতে কোভিড -১৯ মামলার বৃদ্ধির কারণে ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ভারত, ইন্দোনেশিয়া এবং ফিলিপাইন থেকে দীর্ঘমেয়াদী পাসধারীদের প্রবেশ নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে।

নিষেধাজ্ঞায় ছয়টি ক্যাটাগরির পাস হোল্ডার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যথা স্থায়ী আবাসিক স্ট্যাটাস (পিআর), মালয়েশিয়া মাই সেকেন্ড হোম প্রোগ্রাম (এমএম 2 এইচ) অংশগ্রহণকারীরা, পেশাদার ভিজিট পাস (পিভিপি) ধারক এবং আবাসিক পাসধারীরা সহ অভিবাসীরা।

মালয়েশিয়ার নাগরিকদের পত্নী এবং তাদের সন্তানদের পাশাপাশি তিনটি দেশের শিক্ষার্থী যারা মালয়েশিয়ায় ফিরে আসতে চেয়েছিল তাদেরও নিষেধাজ্ঞা ছিল।

এদিকে ইসমাইল সাবরি বলেছেন, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশ থেকে মালয়েশিয়ানদের দেশে ফিরতে দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের কোনও সমস্যা নেই। তবে মানক অপারেটিং পদ্ধতিতে (এসওপি) নির্ধারিত ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে তাদের।

নতুন এ সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, কোভিড-১৯ মহামারী মোকাবিলার জন্য জনগণ এসওপি-র অনুসরণ করে চলেছে তা নিশ্চিত করার জন্য এটি আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত হবে।

ভোটারদের দুইবার করে ভোট দিতে বললেন ট্রাম্প

ভোটারদের দুইবার করে ভোট দিতে বললেন ট্রাম্প

 


ভোটারদের দুইবার করে ভোট দিতে বলেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটির আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নর্থ ক্যারোলিনার ভোটারদের এই পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। 

তার এ পরামর্শ দেওয়ার কারণ হলো- নির্বাচনী প্রক্রিয়া, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিকমতো কাজ করছে কি না, তা যাচাই-বাছাই করা। কারণ, তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, অধিবাসীরা দুইবার করে ভোট দিতে গেলেই বুঝতে পারবে নির্বাচন কী সুষ্ঠু হচ্ছে কি না। 

ট্রাম্পের এমন পরামর্শে কঠোর সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, নর্থ ক্যারোলিনার অধিবাসীদের দুই বার ভোট দেয়ার পরামর্শ দিয়ে পুরো দেশেই ভোট জালিয়াতির মতো অপরাধ উসকে দিচ্ছেন ট্রাম্প।

এদিকে বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জো বাইডেনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ৮১ নোবেল বিজয়ী। বুধবার এক খোলা চিঠিতে তার প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন তারা। শুধু তাই নয়, শতাধিক রিপাবলিকান নেতাও ডেমোক্রেটিক পার্টির এ বর্ষীয়ান নেতার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

রাশিয়াকে গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প বন্ধের হুমকি জার্মানির

রাশিয়াকে গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প বন্ধের হুমকি জার্মানির

 


রাশিয়ার বিরোধী দল নেতা অ্যালেক্সেই নাভালনির উপর বিষাক্ত নার্ভ এজেন্ট প্রয়োগের ঘটনার জেরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাল জার্মানি। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উপর ক্ষুব্ধ জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মর্কেল বলেন, পুতিন যে ভাষা বোঝেন আমরা সেই ভাষায় কথা বলছি। নাভালনির উপর নার্ভ এজেন্ট কেন প্রয়োগ করা হয়েছে তার জবাবদিহি করতে হবে পুতিনকে। এর প্রতিবাদে আমরা রাশিয়ার সঙ্গে গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প স্থগিত রাখার বা বাতিল করার কথা ভাবছি।

মর্কেলের এই বিবৃতিতে চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে ইউরোপের রাজনীতিতে। রাশিয়া বিবৃতি দিয়েছে, নাভালনির অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় প্রেসিডেন্ট পুতিন কোনওভাবেই জড়িত নন। সন্দেহের বশে পুতিনের উপর মিথ্যে দায় চাপাচ্ছেন চ্যান্সেলর মের্কেল। তাছাড়া গ্যাস পাইপলাইনের মতো অর্থনৈতিক প্রকল্পের সঙ্গে এই রাজনৈতিক ঘটনার কোনও তুলনা বা যোগ টানা যেতে পারে না। 

যদিও রাশিয়ার বিবৃতি খারিজ করে জার্মানি জানিয়েছে, নাভালনি কোমাচ্ছন্ন এবং গুরুতর অসুস্থ। কিন্তু পাইপলাইন প্রকল্প স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে জার্মানি। 

জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মর্কেলের মুখপাত্র স্টিফেন সেইবার্ট এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, নাভালনির শরীর থেকে নেওয়া একাধিক নমুনায় সোভিয়েত জমানার রাসায়নিক হাতিয়ার নার্ভ এজেন্ট নভিচকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। জার্মান সেনার একটি গবেষণাগারে ওই স্যাম্পলগুলি বারবার পরীক্ষা করে এই বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তার মানে ইঞ্জেকশন বা খাবারের সঙ্গে মারাত্মক শক্তিশালী ওষুধ নভিচক দিয়ে অসুস্থ করে দেওয়া হয় নাভালনিকে। নাভালনির উপর এমন হামলা খুবই ন্যক্কারজনক। আমরা এই ঘটনার তীব্র ভাষায় প্রতিবাদ জানাচ্ছি। 

এরপর থেকেই রাশিয়ার সঙ্গে বহু কোটি ডলারের গ্যাস পাইপলাইনের মতো যৌথ প্রকল্প বাতিল করার দাবি জানাতে থাকেন জার্মান এমপি’রা।

উল্লেখ্য, গত ২০ আগস্ট সাইবেরিয়ার টমস্ক থেকে বিমানে মস্কো ফিরছিলেন নাভালনি। মাঝ আকাশে আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। উপায় না দেখে ওমস্ক শহরে বিমানের জরুরি অবতরণ করিয়ে শুরু হয় চিকিৎসা। নাভালনি ঘনিষ্ঠদের প্রাথমিক ধারণা, টমস্ক বিমানবন্দরে তার চায়ে বিষ মেশানো হয়েছে। চিকিৎসকরা জানান, নাভালনির স্নায়ুতন্ত্র ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছিল। কোমায় আচ্ছন্ন হন তিনি। সেটা বিষের প্রভাবে বলেই ধারণা করা হচ্ছিল। এরপর নাভালনির শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকায় তাকে জার্মানির বার্লিনে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা পরীক্ষার পর বিষ প্রয়োগের ব্যাপারটি নিশ্চিত করেন। বর্তমানে তার অবস্থার অবনতি না হলেও এখনও গভীর কোমায় আছন্ন রয়েছেন তিনি।

শব্দের চেয়েও ৫ গুণ দ্রুতগতির বিমান তৈরির প্রতিযোগিতা

শব্দের চেয়েও ৫ গুণ দ্রুতগতির বিমান তৈরির প্রতিযোগিতা


 

“আমার চাকরি জীবনের একটা বড় অংশ কেটেছে দ্রুত গতিতে উড়তে পারে এমন সব বিমান তৈরি করে,” বলছেন অ্যাডাম ডিসেল। তিনি ব্রিটিশ কোম্পানি রিঅ্যাকশন ইঞ্জিন’র যুক্তরাষ্ট্র শাখার প্রধান।

এই কোম্পানি এমন এক হাইপারসোনিক বিমান তৈরি করছে যেটি শব্দের চেয়েও পাঁচগুণ দ্রুতগতিতে উড়তে পারে। অর্থাৎ বিমানটি মাক-৫ বা প্রতি ঘণ্টায় ৬,৪০০ কিলোমিটার পথ উড়তে পারবে। মাক-১ হচ্ছে গতিমাপক সংখ্যা। শব্দ প্রতি ঘণ্টায় ১২৩৫ কিলোমিটার পথ উড়ে যেতে পারে।

এদের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে এরা এমন একটি যাত্রীবাহী বিমান তৈরি করবে লন্ডন থেকে সিডনি যেতে যার সময় লাগবে মাত্র চার ঘণ্টা। এখন সময় লাগে ২১ ঘণ্টারও বেশি। লস অ্যাঞ্জেলস থেকে টোকিও যেতে এই বিমানের সময় লাগবে মাত্র দু’ঘণ্টা।

তবে হাইপারসোনিক বিমান তৈরির গবেষণার বেশিরভাগ চলছে বেসরকারি বিমান নয়, জঙ্গিবিমান তৈরির লক্ষ্যে।

জেমস অ্যাকটন হলেন ওয়াশিংটন-ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস-এর একজন পদার্থবিজ্ঞানী। তিনি বলছেন, হাইপারসোনিক অস্ত্র তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং চীন বিভিন্ন ধরনের নকশা নিয়ে কাজ করছে।

মাক-৫ গতিতে একটি বিমান উড়ে গেলে যে পরিমাণ তাপ তৈরি হবে তা সহ্য করতে পারে এমন উপকরণ তৈরির যেমন গবেষণা চলছে, তেমনি বিজ্ঞানীরা চেষ্টা করছেন এর সাথে তাল মেলাতে পারে এমন প্রযুক্তি তৈরি করতে। এসব হিসেব মিলে গেলেই পৃথিবীর ভূমণ্ডলের ভেতর দিয়ে শব্দের চেয়ে পাঁচগুণ গতিতে উড়ে যাওয়া সম্ভব হবে বলে তারা মনে করছেন।

তবে হাইপারসোনিক বিমান তৈরির চেষ্টা কিন্তু নতুন নয়। আমেরিকা সেই ১৯৬০ সালেই এক্স-১৫ নামে একটি হাইপারসোনিক রকেট তৈরি করেছিল। এবং আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র যাকে আইসিবিএম বলা হয় সেগুলো যখন মহাকাশ থেকে আবার বায়ুমণ্ডলে ফিরে আসে তখন তার হাইপারসোনিক গতি থাকে।

এখন বিশ্ব পরাশক্তিগুলো এমন অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে যেটি বায়ুমণ্ডলের ভেতর দিয়ে উড়ে যেতে পারবে। উচ্চতাপ থেকে রক্ষার জন্য একে আর মহাশূন্যে পাঠানোর প্রয়োজন হবে না। আর এই অস্ত্র দিয়ে শুধু শহর নয়, যেসব লক্ষ্য বস্তু নড়াচড়া করতে পারে তাকেও আঘাত করা সম্ভব হবে।

হাইপারসোনিক গবেষণায় অগ্রবর্তী তিনটি দেশই এই খাতে বিপুল সামরিক বরাদ্দ ব্যয় করছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনে এক সংবাদ ব্রিফিং-এ মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর হাইপারসোনিক গবেষণা বিভাগের উপপরিচালক মাইক হোয়াইট জানান, প্রতিপক্ষ শক্তি তাদের এই ক্ষেত্রে “আমাদের শ্রেষ্ঠত্বকে চ্যালেঞ্জ করছে।” আর এটাই এই খাতে মার্কিন গবেষণাকে গতিশীল করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

হাইপারসোনিক মিসাইল তৈরির মূল সমস্যা লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করার সঠিকত্ব। আর ঠিক এই কারণেই চীনের হাতে হাইপারসোনিক ক্ষেপণাস্ত্র থাকলে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলোকে চীনা উপকূল থেকে অনেক দূর দিয়ে চলাচল করতে হবে।

হাইপারসোনিক মিসাইল যখন উড়ে যেতে থাকে তখন তাপমাত্রার কারণে মিসাইলের চারপাশে একটা গ্যাসের প্লাজমা আবরণ তৈরি হয়।

এর জন্য মিসাইলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটে। সামরিক যোগাযোগের স্যাটেলাইট মিসাইলকে আর নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না এবং লক্ষ্যবস্তু যদি চলমান হয় তাহলে মিসাইল আর লক্ষ্যভেদ করতে পারে না।

হাইপারসোনিক মিসাইলের আরেকটি বড় সমস্যা তার রাসায়নিক পরিবর্তন।

অতি দ্রুত গতি এবং উচ্চ তাপমাত্রার ফলে অক্সিজেনের অণুগুলো ভেঙে পরমাণুতে পরিণত হয়। সেটা মিসাইলের ইঞ্জিনের দক্ষতাকে অনেকখানি কমিয়ে ফেলে।

কিন্তু এরপরও হাইপারসোনিক গবেষণায় নাটকীয় অগ্রগতি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ২০১০ সালে প্রশান্ত মহাসাগরে হাঙ্গরের মুখের মতো দেখতে এক্স-৫১ হাইপারসোনিক মিসাইলের পরীক্ষা চালিয়েছে যেটি পাঁচ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে হাইপারসোনিক ছিল।

এটি অনেক উঁচু দিয়ে উড়ে যাওয়া একটি বি-৫২ বম্বার থেকে ছোঁড়া হয়। মিসাইলের সাথে লাগানো ছিল একটি বুস্টার রকেট যেটি প্রথম ধাপে মিসাইলটিকে ৪.৫ মাক গতি এনে দেয়। তারপরই মিসাইলটির নিজস্ব ইঞ্জিন চালু হয় এবং তার গতি আরও বেড়ে যায়।

হাইপারসোনিক বিমানের গবেষণায় এসব সমস্যা দূর হলেই আগামী ১৫ বছরের মধ্যে যাত্রীবাহী হাইপারসোনিক বিমান আকাশে পাখা মেলবে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।

হাইপারসোনিক বিমানে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভিআইপিরা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে পারবেন, এমন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চায় মার্কিন বিমান বাহিনী। তারা বিশেষভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য হাইপারসোনিক বিমান তৈরি করতে চায়।

সেজন্য বিমান বাহিনী অ্যাটলান্টা-ভিত্তিক একটি কোম্পানিকে দায়িত্ব দিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য ২০ জন যাত্রীবাহী একটি বিমান নির্মাণের সম্ভাবনা পরীক্ষা করে দেখার জন্য। মাক-৫ গতিতে আকাশে উড়বে যে স্বল্প ক’জন ভাগ্যবান তার সাথে যুক্ত হবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের নাম।

ভারত মহাসাগরে তেলের জাহাজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

ভারত মহাসাগরে তেলের জাহাজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড


শ্রীলঙ্কার কাছে ভারত মহাসাগরে একটি তেলবাহী জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এবং ডিজেল রয়েছে ওই ট্যাংকারে। খবর ডয়চে ভেলে’র।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই লাখ ৭০ হাজার টন অপরিশোধিত তেল এবং এক হাজার ৭০০ টন ডিজেল নিয়ে কুয়েত থেকে রওনা হয়েছিল নিউ ডায়মন্ড ট্যাংকার নামে জাহাজটি। ভারতের পারাদ্বীপে যাওয়ার পথে বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কা বন্দরের কাছে হঠাৎ আগুন লেগে যায় জাহাজটিতে।

তবে শ্রীলঙ্কা এবং ভারতের নৌসেনাদের প্রচেষ্টায় জাহাজটির আগুন আপাতত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে বলে জানা গেছে।

ট্যাংকারটিতে ২৩ জন কর্মী ছিলেন, যার মধ্যে ১৮ জন ফিলিপিনো এবং ৫ জন গ্রিক। আগুন নেভাতে গিয়ে দুজন কর্মী আহত হন বলে জানা গেছে। তার মধ্যে একজন এখনও নিখোঁজ। বাকিদের পানামার ফ্ল্যাগ লাগানো একটি জাহাজ প্রাথমিকভাবে উদ্ধার করে।

এরপরই শ্রীলঙ্কার নৌ বাহিনীর ছোট ছোট নৌকা জাহাজের সামনে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। তারা জানিয়েছে, আপাতত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে। তবে এখনও তেল লিক হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

শ্রীলঙ্কার নৌসেনার বক্তব্য, তেল লিক হলে তা মোকাবিলা করার মতো ব্যবস্থা তাদের নেই। ভারত এর মধ্যেই নৌ বাহিনীর একটি জাহাজ পাঠিয়েছে। আরও দু’টি উদ্ধারকারী জাহাজ পাঠানো হয়েছে। তেল লিক হলে ভারতীয় নৌ সেনারা সেটি মোকাবিলা করবে বলে জানা গেছে।

কিছুদিন আগেই জাপানের একটি ট্যাংকার থেকে তেল লিক করেছিল মরিশাসের কোরাল রিফে। ওই ঘটনায় কয়েক হাজার টন তেল পানিতে মিশে গেলে প্রকৃতির ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছিল। শ্রীলঙ্কার নৌ সেনারা জানিয়েছে, ফের যাতে ওই ধরনের ঘটনা না ঘটে, তার দিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে।

চীনের চেয়ে গতি বেশি বাংলাদেশের ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের

চীনের চেয়ে গতি বেশি বাংলাদেশের ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের


 

ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট স্পিডে বাংলাদেশ প্রযুক্তিপ্রেমী দেশ চীনের চেয়ে সেরা! বিশ্বজুড়ে ব্রডব্যান্ড গতির সর্বশেষ গবেষণা সমীক্ষায় এমনটিই দেখা গেছে। ২ সেপ্টেম্বর এই গবেষণার ফল  প্রকাশিত হয়।

গত বছরের জুলাই থেকে এ বছরের জুনের মধ্যে পরিচালিত এই সমীক্ষায় বাংলাদেশে প্রায় ৫০ হাজার ইউনিক আইপি পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, বাংলাদেশে গড় ইন্টারনেট স্পিড ছিল ৩.২ এমবিপিএস। এর বিপরীতে চীনে গড় ইন্টারনেট স্পিড ছিল ২.১ এমবিপিএস।

গুগলসহ কয়েকটি মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালিত এম-ল্যাবের সর্বশেষ রিপোর্টে মোট ২২১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮৪। এমনকি সিয়েরালিওন, নাইজেরিয়া এবং মালির মতো অনেক সাব সাহারান দেশেও বাংলাদেশের চেয়ে ইন্টারনেটের গড় গতি বেশি। এই তালিকায় চীনের অবস্থান ২০০তম।

তবে দক্ষিণ এশিয়াতে নেপাল (১৫০), ভুটান (১৫৯), মালদ্বীপ (১৪১), শ্রীলঙ্কা (৭২) এবং ভারতের (১০১) চেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ।

ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গতিতে তালিকার প্রথম স্থানে রয়েছে ইউরোপের একটি ক্ষুদ্র দেশ লিশটেনস্টাইন। দেশটিতে ইন্টারনেটের গড় স্পিড ২৩০ এমবিপিএস— যা ৩ মিনিটের কম সময়ের মধ্যে ৫ গিগাবাইট ফাইল ডাউনলোড করার জন্য যথেষ্ট।

শীর্ষ পাঁচ দেশের বাকি দেশগুলো যথাক্রমে হলো- জার্সি, অ্যান্ডোরা, জিব্রাল্টার এবং লুক্সেমবার্গ। এসব দেশে ৫ গিগাবাইটের একটি ফাইল ডাউনলোড করতে সময় লাগে ৩ থেকে ৬ মিনিট। অন্যদিকে তালিকার সর্বশেষ স্থানে রয়েছে দক্ষিণ সুদান। দেশটির গড় ডাউনলোড স্পিড মাত্র ০.৬ এমবিপিএস।

ফের গোটা বিশ্বের নজর বৈরুতের দিকে, এক মাস পরও ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রাণের অস্তিত্বের আভাস

ফের গোটা বিশ্বের নজর বৈরুতের দিকে, এক মাস পরও ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রাণের অস্তিত্বের আভাস


লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে এক মাস আগে। এতদিন পরও সেখানে ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত কারও অস্তিত্বের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছে উদ্ধারকারী দল জানিয়েছে।

অবিশ্বাস্য এমন সম্ভাবনার দাবি করলেন সেখানে উদ্ধার কাজ চালানো চিলির একটি দল। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে এমন সংবাদ প্রকাশের পর আবারও পুরো বিশ্বের নজর এখন বৈরুতের দিকে। সত্যিই কি এখনও জীবিত কাউকে উদ্ধার করা সম্ভব!

৪ আগস্ট স্মরণকালের ভয়াবহ বিস্ফোরণে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় লেবাননের রাজধানী বৈরুত। এ ঘটনায় প্রায় দুইশ’ মানুষের প্রাণহানি ঘটে, আহত হন ৬ হাজারের বেশি।

বৈরুত বন্দরের একটি গুদামে মজুত থাকা বিপুল পরিমাণ অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট থেকে জোড়া বিস্ফোরণে কেঁপে উঠে অনেক দূরের এলাকাও। ভূমধ্যসাগরের অপর পাড়ের সাইপ্রাসে সৃষ্টি ভূকম্পনের।

এ ঘটনার এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও ধ্বংসস্তূপ সরানো সম্ভব হয়নি। এ কাজে লেবানন সরকারকে সহযোগিতা করছে দুর্যোগ মোকাবিলায় চিলির বিশেষ উদ্ধারকারী দল টপোস চিলি।

স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাটির একজন সদস্য আলজাজিরাকে জানান, স্ক্যানিং মেশিনে জীবিত মানুষের নাড়ির স্পন্দন ও শ্বাস প্রশ্বাসের লক্ষণ দেখতে পেয়েছেন তারা।

বিস্ফোরণে ধসে পড়া ভবনের নিচে এখনও কেউ জীবিত আছে বলে ধারণা করছেন তারা।

টপোস চিলি সদস্য আরও বলেন, ‘খুব সম্ভবত এটি একটি শিশু হতে পারে’। তার টিমও বলছে, ‘অন্তত একটা প্রাণের অস্তিত্ব সেখানে রয়েছে।’  

কানাডাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিবিসি জানায়, বৃহস্পতিবার বিস্ফোরণ স্থলের ৪০০ মিটার দূরে ধসে পড়া একটি ভবনের কাছে অনুসন্ধান চালাচ্ছিল চিলির স্বেচ্ছাসেবী উদ্ধারকারী সংস্থাটি। তখন তাদের সঙ্গে থাকা স্নিফার কুকুর (শনাক্তকারী কুকুর) কিছু একটা আবিষ্কারের ইঙ্গিত দেয়।

এরপর সেখানে স্ক্যানিং মেশিন বসিয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচে সেন্সর পাঠালে প্রাণের অস্তিত্বের সম্ভাবনা দেখতে পান তারা।

উদ্ধারকারী টিমটির সঙ্গে কাজ করা এনজিও লাইভ লাভ লেবাননের সদস্য এডওয়ার্ড বিতার জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে তাদের সেন্সরে  প্রতি মিনিটে ১৮ বার শ্বাস প্রশ্বাসের অস্তিত্ব ধরা পড়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি খুব একটা আশাবাদী না হতে। কিন্তু যদি কাউকে পেয়ে যাই, এটি হবে অলৌকিক।’

তাকে উদ্ধার করার জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন টপোস চিলির সদস্যরা।

এর আগে ২০১০ সালে হাইতিতে ভয়াবহ ভূমিকম্পের ২৭ দিন পর এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছিল টপোস চিলি।

বিশ্বের বড় বড় দুর্যোগ ও দুর্ঘটনায় উদ্ধার কাজে সহায়তা দিয়ে থাকে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাটি। তাদের রয়েছে বিশেষ দক্ষতার উদ্ধারকারী কর্মী ও আধুনিক প্রযুক্তি। 

২০১১ সালে জাপানের ফুকুশিমা অঞ্চলে নিউক্লিয়ার রিয়েক্টর বিস্ফোরণের ঘটনায় উদ্ধার কাজে যুক্ত ছিল টপোস চিলি।

স্বাদু পানির মাছ উৎপাদনে বিশ্বে দ্বিতীয় বাংলাদেশ

স্বাদু পানির মাছ উৎপাদনে বিশ্বে দ্বিতীয় বাংলাদেশ

Add caption

স্বাদু পানির মাছ উৎপাদনে তৃতীয় থেকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ।  ২০১৭ সালে স্বাদু পানির মাছ উৎপাদন বাড়ার হারে বাংলাদেশ পঞ্চম থেকে তৃতীয় স্থানে উঠেছিল। আর চাষের মাছে বরাবরের মতো পঞ্চম স্থানে থাকলেও বেড়েছে পতিত পুকুরে মাছের চাষ। অর্থাৎ মাছ উৎপাদন বাড়ার হারে ২০১৯ সালে সর্বকালের রেকর্ড ভেঙেছে দেশ। 

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) বৈশ্বিক প্রতিবেদন ‘দ্য স্টেট অব ওয়ার্ল্ড ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার–২০২০ অনুযায়ী, ২০১৯ সালে বিশ্বে প্রায় ১৮ কোটি টন মাছ উৎপাদন হয়। এসব মাছের অর্ধেকেরও বেশি অভ্যন্তরীণ উৎসের বা স্বাদু পানির। বাকি মাছ সামুদ্রিক।

সম্প্রতি প্রকাশিত ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বাদু পানির মাছ উৎপাদন বাড়ার হারে তৃতীয় থেকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। আর প্রথম স্থানে রয়েছে চীন, দ্বিতীয় ভারত। 

প্রতিবেদন বলছে, বিশ্বে মাছ চাষের হার বেড়েছে ৫২৭ শতাংশ আর মাছ খাওয়ার হার বেড়েছে ১২২ শতাংশ। চাষের মাছে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম স্থানেই রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনাম।

 

Wednesday, 2 September 2020

উলটো ছবি পাকিস্তানে, রোজ কমছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা, কী করে? ধন্দে বিশেষজ্ঞরা

উলটো ছবি পাকিস্তানে, রোজ কমছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা, কী করে? ধন্দে বিশেষজ্ঞরা

এ যেন এক উলট পুরাণ! স্রোতের বিপরীতে হাঁটছে পড়শি রাষ্ট্র। ভারতে যখন হু হু করে বাড়ছে করোনা (Corona Virus) সংক্রমণ। ঠিক তখনই মহামারীকে প্রায় হারিয়ে দিল ইমরান খানের (Imran Khan) দেশ। কীভাবে এমন অসম্ভবকে সম্ভব করল ইসলামাবাদ, তা ভেবে কূল কিনারা পাচ্ছেন না স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। 

প্রথমদিকে পাকিস্তানে (Pakistan) হু হু করে বেড়েছে করোনা সংক্রমণ। তা নিয়ে ইমরান খান প্রশাসনের তুমুল সমালোচনা করেছিল সে দেশের বাসিন্দারাই। অভিযোগ, এমনিতেই সে দেশের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো দুর্বল। স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বরাদ্দ নগন্য। আবার অর্থনীতির দোহাই দিয়ে তড়িঘড়ি লকডাউনও তুলে দিয়েছে ইমরান প্রশাসন। তারপরেও গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পাকিস্তানে করোনা সংক্রমণের হার অনেকটাই কমেছে। কমেছে দৈনিক মৃত্যুও। পরিসংখ্যান বলছে, দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা ১০-এরও নিচে রয়েছে। সে দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা মোটে তিন লক্ষ।

প্রসঙ্গত, এর আগে পোলিও, হেপাটাইটিস, যক্ষ্মার মতো সংক্রমিত রোগকে রুখতে রীতিমতো নাকানিচোবানি খেয়েছে পড়শি দেশ। যা নিয়ে বিশ্বের দরবারের সমালোচিতও হয়েছে তারা। সেই দেশেই এবার মাত্র ছমাসের মধ্যে মহামারীকে রুখে দিয়ে রীতিমতো নজির গড়ে ফেলেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। 

কীভাবে মাত্র ছমাসের মধ্যে করোনা সংক্রণকে লাগাম পরাল পাকিস্তান? সে দেশের তরফে একাধিক কারণ দেখানো হয়েছে। যদিও তার কোনওটাই বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয় বলে দাবি করছেন চিকিৎসক ও রোগ বিশেষজ্ঞরা। পাকিস্তান প্রশাসনের তরফে বলা হয়েছে, সে দেশে যুবশক্তি বেশি। ফলে মহামারী তাঁদের কাবু করতে পারেনি। আবার সে দেশের প্রাকৃতিক পরিস্থিতি করোনার সংক্রমণ রুখতে অন্যতম উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে যেমন প্রচণ্ড গরম, তেমনই আর্দ্রতা-এই জোড়া ডিফেন্স ভেঙে এগোতে পারেনি নোভেল করোনা ভাইরাস। যদিও গরম বা আর্দ্রতা মহামারীর সংক্রমণ রুখতে পারে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মানে না। পাকিস্তানের মহামারী প্রসঙ্গে লাহোরের সার্ভিস হাসপাতালের চিকিৎসক সলমন হাসিব বলেন, “কীভাবে এই সংক্রমণের হার স্তিমিত হল, তা নিয়ে আমরাই ধন্দে রয়েছি। আমাদের কাছে কোনও বৈজ্ঞানিক ব্যাখা নেই।”

বাংলাদেশে চিনা প্রভাব খর্ব করতে এবার আসরে তাইওয়ান

বাংলাদেশে চিনা প্রভাব খর্ব করতে এবার আসরে তাইওয়ান


ভারতের বলয় থেকে বাংলাদেশকে বের করে আনতে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে চিন। বাংলাদেশের পণ্য চিনে রপ্তানিতে ৯৮ শতাংশ শুল্ক ছাড় দিয়েছে বেজিং। বাংলাদেশে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি খতিয়ে সহযোগিতা দিতে তারা মেডিক্যাল টিমও পাঠিয়েছে। করোনার ভ্যাকসিন তৈরি করলে বাংলাদেশকে অগ্রাধিকারভিত্তিতে দেওয়ার কথা জানিয়েছে বেজিং। বাংলাদেশও চিনের টিকার তৃতীয়ধাপ পরীক্ষার অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু এহেন পরিস্থিতিতে কমিউনিস্ট দেশটির প্রভাব খবর করতে আসরে নেমেছে তাইওয়ান।

সম্প্রতি, তাইওয়ান এক্সটারনাল ট্রেড ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল নামে একটি প্রতিষ্ঠান এক লক্ষ সার্জিক্যাল মাস্ক, ১৬০০ এন-৯৫ মাস্ক, ২০ হাজার কাপড়ের মাস্ক, ১০ হাজার ফেস শিল্ড, পিপিই, গগলস, দুই সেট ভেন্টিলেটর বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের কাছে হস্তান্তর করেছে। তাইওয়ানের আধা-সরকারি অলাভজনক এই প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন দেশে তাইওয়ানের ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণে কাজ করে। এই ঘটনার পরই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে চিন। বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রকে টেলিফোন করে ক্ষোভের কথা জানিয়েছে বেজিং। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চিনকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ এক চিন নীতিতে বিশ্বাস করে। এখানে তাইওয়ানের সঙ্গে আলাদা আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের কোনও বিষয় নেই। বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রকের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এ আধিকারিক বিবিসিকে বলেছেন, ”চিনের দূতাবাস থেকে মৌখিকভাবে টেলিফোন করে তাদের মনোকষ্টের বিষয়টি জানানো হয়েছে। তারা পুরো বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চেয়েছে। আমরা তাদের আশ্বস্ত করেছি যে, বাংলাদেশ এক চিন নীতিতে বিশ্বাস করে, সেই দৃষ্টিভঙ্গির কোনও পরিবর্তন হয়নি।”

উপহার গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা তিন মন্ত্রীর একজন, বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বিবিসি বাংলাকে বলছেন, ”তাইওয়ানের কাছ থেকে উপহার সামগ্রী নেয়া হচ্ছে সেটা আমরা জানতাম না। আমাদের বলা হয়েছিল, ওয়ালটন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে কিছু উপহার সামগ্রী দেবে। হেলথ মিনিস্ট্রি এটার আয়োজন করেছিল।’ ওখানে গিয়ে আমরা শুনলাম, তাইওয়ান থেকে ওনাদের মাধ্যমে পাঠিয়েছে। এর বেশি আমাদের জানাও ছিল না, আমরা জানতামও না যে এখানে তাইওয়ানের কোনও ব্যাপার আছে।”

বিশ্লেষকদের মতে, তাইওয়ানের থেকে উপহার নিয়ে বেজিংকে বেকায়দায় ফেলেছে ঢাকা। কারণ বরাবর তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে এসেছে চিন। সেই দাবিকে সমর্থনও করেছে বাংলাদেশের মতো অনেক রাষ্ট্র। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে চিনা আগ্রাসনের কথ মাথায় রেখে তাইওয়ান ও বাংলাদেশে উভয় দেশের সঙ্গেই বোঝাপড়া হয়েছে ভারতের। ফলে চিন চাইলেও বাংলাদেশে আপাতত ভারত বিরোধী গতিবিধিতে হওয়া দিতে পারবে না। এছাড়া, তাইওয়ান ও এবার সে দেশে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা চালাচ্ছে। সব মিলিয়ে এই পরদক্ষে নয়াদিল্লির পক্ষে কূটনৈতিক জয় হিসেবেই দেখছেন অনেকে।