Monday, 9 November 2020

চোরা শিকারিদের হাত থেকে পরিযায়ী পাখিদের বাঁচাতে পাহারার ব্যবস্থা সুন্দরবনে

 

টানা লকডাউনের জেরে এবার সুন্দরবনে বেশ কিছুদিন ধরেই পরিযায়ী পাখিরা আসতে শুরু করেছিল। কিন্তু দুর্গাপুজো শেষের সাথে সাথে শীত অনুভূত হওয়ায় গত এক সপ্তাহে প্রচুর পরিমানে শামুকখোল, পানকৌড়ি, বিভিন্ন প্রজাতির বক, মদনটাক সহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখিরা আসতে শুরু করেছে সুন্দরবনে। ইতিমধ্যেই বাসন্তী ব্লকের চুনাখালি ও বগুলাখালি এলাকায় নদীর পাড়ে ম্যানগ্রোভের জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছে এই সমস্ত পাখিরা। পাখিরা এলাকায় আসার সাথে সাথেই চোরা শিকারিদের আনাগোনা বেড়েছে এই এলাকায়। রাতের অন্ধকারে তারা পাখি শিকার করছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। আর এই চোরা শিকারিদের হাত থেকে পরিযায়ী পাখিদের বাঁচাতে উদ্যোগী হয়েছে স্থানীয় চুনাখালি গ্রাম পঞ্চায়েত।
ইতিমধ্যেই গ্রাম পঞ্চায়েতের উদ্যোগে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে প্রতিদিন দুজন করে পাহারাদারের ব্যবস্থা করা হয়েছে এই পাখিদের রক্ষা করার জন্য। সকালে দুজন ও রাতে দুজন করে এই পাখিদের পাহারা দিচ্ছেন। পাছে চোরা শিকারিরা পাখিদের কোন ক্ষতি যাতে করতে না পারে সেই কারনেই এই ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রায় দু’মাস ধরে টানা লকডাউন চলছে। এই লকডাউনের ফলে সুন্দরবনের পর্যটন ব্যবসা, খেয়া পারাপার দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় সুন্দরবনের নদী, খাঁড়ি গুলিতে লঞ্চ, ভুটভুটি সেভাবে চলেনি। ফলে এলাকায় দূষণ ও অনেকখানি কমেছে। আর সুন্দরবনের এই শান্ত, মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ পেয়ে প্রচুর পাখিরা ফিরতে শুরু করেছে।
গত কয়েকদিন ধরেই সুন্দরবনের দয়াপুর, পাখিরালয়, সাতজেলিয়া, চুনাখালি, পিয়ালি, ঝড়খালি এলাকায় প্রচুর পাখির দেখা পাওয়া যাচ্ছে। মনোরম পরিবেশের জন্যই সুন্দরবন এলাকায় বহু পাখি ফিরছে বলে দাবি পরিবেশবিদদের। এখন সুন্দরবনের বহু এলাকা পাখিদের কলতানে মুখরিত হয়ে থাকছে। ইতিমধ্যেই সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী তীর ও লোকালয়ের কাছে যে ঝোপঝাড় রয়েছে সেখানে দেখা মিলছে মদন টাক, কাঁদাখোঁচা, শামুখখোল, নানা প্রজাতির বক, বিভিন্ন ধরণের মাছরাঙা, পানকৌড়ি, টিয়া, বুলবুলি সহ আরও বিভিন্ন ধরণের পাখিদের।
এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, পাখিদের আনাগোনার সাথেই এলাকায় বেড়েছে চোরা শিকারিদের আনাগোনা। গত সপ্তাহেই দুজন চোরা শিকারিকে বাসন্তীর চুনাখালি এলাকায় হাতে নাতে ধরে ফেলেন স্থানীয়রা। তাঁদেরকে সাবধান করা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু এলাকাবাসীদের দাবি আবারও এরা পাখি শিকারের জন্য চোরা শিকারিরা এলাকায় হানা দিতে পারে। বিষয়টি স্থানীয় পঞ্চায়েতের কানে আসতেই ১০০ দিনের প্রকল্পে এই পাহারার ব্যবস্থা করেছে পঞ্চায়েত। পঞ্চায়েতের নির্দেশে স্থানীয় বাসিন্দা অবিনাশ মন্ডল, স্বপন সর্দাররা নিজেরাই উদ্যোগী হয়েছেন এই পাখিদের নিরাপত্তা দিতে।


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: