বন্ধুর স্ত্রীকে পেতে বন্ধুকে খুন করে সেই ঘরে দেহ রেখেই রাত্রিযাপন বন্ধুর স্ত্রীকে নিয়ে, গ্রেফতার অভিযুক্ত ও বন্ধুর স্ত্রী। হাড় কাঁপানো এই ঘটনা ঘটেছে উত্তর 24 পরগনা জেলার বনগাঁ মহকুমার গাইঘাটা থানার । গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদের সময় এমনটাই স্বীকারোক্তি অভিযুক্ত প্রেমিক সুজিত দাস এবং সুজিতের প্রেমিকা তথা রামকৃষ্ণ সরকারের স্ত্রী সপ্না সরকারের। অভিযুক্ত সুজিত দাস জানায় মিস কলের মাধ্যমে রামকৃষ্ণ সরকারের স্ত্রী সপ্না সরকারের সাথে পরিচয় হয়। এবং তাদের প্রনয়ের সম্পর্ক গড়ে ওঠে হয় প্রায় আট মাস ধরে। কিন্তু পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়ায় সপ্না সরকারের স্বামী রামকৃষ্ণ সরকার। দুজনের প্রনয়ের ঘটনার কথা রামকৃষ্ণ জেনে যাওয়ায় সুজিত এর উপর সন্দেহ এবং রাগ জন্মায়। বেশ কয়েকবার এ নিয়ে দুজনের সাথে তর্কাতর্কি ও হয়।বচসার সময় স্ত্রী সপ্নাকে রামকৃষ্ণ সরকার মারধর করে বলে অভিযোগ । এরপর প্রতিশোধ নিতে রামকৃষ্ণ কে হত্যার ষড়যন্ত্র করে সুজিত ও সপ্না।
পরিকল্পনা মাফিক সোমবার দশমীর দিন সুজিত তার নিজের বাড়িতে দুপুরে খাওয়া-দাওয়ার নেমন্তন্ন করে রামকৃষ্ণ এবং স্বপ্নাকে। ঐদিন রাতে ঠাকুর দেখতে বেরোনোর একটি পরিকল্পনা করে সুজিত ও সপ্না। সেইমতো দশমীর দিন সন্ধ্যেবেলা রামকৃষ্ণ এবং সুজিত দুজন মিলে মদ্যপান করে এবং এলাকায় ঠাকুর দেখতে বেরোয়।কিন্তু ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে দুজনের ভেতর ফের অশান্তি বাঁধে স্বপ্নাকে নিয়ে। মদ্যপ অবস্থায় সুজিত এবং রামকৃষ্ণের মধ্যে বেশ কয়েকবার কথা কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তি হয়। দুজনের ঝামেলা মারামারি রাস্তাতেই মধ্যস্থতা করে কোনমতে স্বপ্না মেটায়। এরপর ভিন্ন ভিন্ন পথে সুজিতের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয় সুজিত স্বপ্না ও রামকৃষ্ণ। যদিও কিছুটা যাবার পর রামকৃষ্ণ কে অনুসরণ করতে থাকে সুজিত। প্রচুর চলতে চলতে এসে ঠিক বাড়িতে ঢোকার সময় পিছন দিক থেকে সুজিত একটি চেলাকাঠ এর কাঠের টুকরো দিয়ে রামকৃষ্ণের মাথায় সজোরে আঘাত করে। মাথায় সজোরে আঘাত খেয়ে রামকৃষ্ণ রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে । কিছুক্ষণ আর্তনাদ করতে করতে রামকৃষ্ণ জ্ঞান হারায়। সপ্নার পরামর্শে রামকৃষ্ণের মৃত্যু নিশ্চিত করতে ফের আবার ওই চেলা কাঠ দিয়ে সুজিত বেশ কয়েকবার রামকৃষ্ণের মাথায় আঘাত করে। মৃত্যু হবার পর তাকে একটি বাঁশ বাগানে লুকিয়ে রাখে দেহটি পরবর্তীতে বাড়িতে ফিরে এসে স্বপ্নাকে সমস্ত ঘটনা জানায় সুজিত।
সপ্নার দাবি অনুযায়ী সমস্ত ঘটনা শুনে সুজিতকে বলে কেন খুন করলে আমাকে যখন ভালোবাসো আমায় নিয়ে পালিয়ে যেতে পারতে। পরবর্তীতে দুজন মিলে দেহটি ধরে এনে সুজিতের ঘরে খাটের তলে মাটি খুঁড়ে প্লাস্টিক পেঁচিয়ে রাখে । সেসময় সুজিতের মা সমস্ত ঘটনা দেখে ফেলে এবং সেই ঘরেই উপস্থিত ছিল সপ্নার পাঁচ বছরের একটি ছেলে। ঘটনা দেখে সুজিতের মা সুজিত কে বলে ওকে না মেরে আমাকে তো খুন করতে পারতিস। এরপর টির রাতে রামকৃষ্ণের দেহ মাটিতে পুঁতে রেখে তার ওপরে খাটের ওপর সুজিত এবং স্বপ্না দুজন ঘুমিয়ে পড়ে। দেহটা কি করবে ভেবে না পেয়ে পরবর্তীতে ঠিক হয় টুকরো টুকরো করে বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দেবে এমনটাই স্বীকারোক্তি তে জানায় সুজিত। কিন্তু তার আগেই এলাকায় রক্ত দেখে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথমে গাইঘাটা থানার পুলিশকে ফোনে ঘটনার কথা জানান। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনা তদন্তে নামে। এক্ষেত্রে অবশ্য সপ্নার আরও দাবি সমস্ত ঘটনা ও যে বাড়িতে ভাড়া থাকতো সেই বাড়ির মালিককে জানিয়েছিল তারাই পুলিশকে খবর দেয়। অবস্থা বেগতিক দেখে গতকাল বিকেলে বাংলাদেশে পালিয়ে যাবার উদ্দেশ্যে সুজিত এবং স্বপ্না বাড়ি থেকে বের হয়। এরা দুজন পালিয়ে যাচ্ছে সে কথা জানতে পেরে এলাকার মানুষ পুলিশকে খবর দেয়। এরপর পুলিশ তল্লাশি শুরু করে। অবশেষে মোবাইল ফোনের টাওয়ার ধরে গাইঘাটার বন্যা এলাকা থেকে গাইঘাটা থানার পুলিশ দু'জনকে গ্রেফতার করে। বৃহস্পতিবার 10 দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানিয়ে বনগাঁ আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে খুনে ব্যবহৃত চেলাকাঠের টুকরো, একটি শাবল, একটি কোদাল ও রক্তমাখা নাইটি ও গেঞ্জি উদ্ধার করেছে পুলিশ। গোটা ঘটনা তদন্ত করে দেখছে গাইঘাটা থানার পুলিশ।




0 coment rios: