Saturday, 1 August 2020

পিছু হঠতে নারাজ চীন, উল্টো বাড়াচ্ছে সেনা


ভারত ও চীনের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা দিয়েছে।  কেননা, বিরোরধপূর্ণ সীমান্ত থেকে সেনা সরিয়ে না নিয়ে বরং সেখানে আরও অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করছে চীন, যা ভারতকে নতুন করে চিন্তায় ফেলেছে।
বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে জানা যায়, বেশ কিছু দিন ধরে সীমান্ত থেকে সেনা সরিয়ে নিতে দফায় দফায় আলোচনা চালিয়ে আসছে চীন ও ভারত। দুইপক্ষ এ বিষয়ে একমত হতে পেরেছে বলেও উভয়পক্ষের কর্মকর্তারা দাবি করে আসছেন। তবে বাস্তবতা তেমনটা নয় বলেই দাবি করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো।
একটি ইংরেজি দৈনিকের বরাত দিয়ে দেশটির জনপ্রিয় পত্রিকা 'এই সময়' জানায়, উল্টো প্যাংগং লেকের সেই সংঘাত অঞ্চলে সেনাসমাবেশ করে শক্তি বাড়াচ্ছে চীনা বাহিনী।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যায়, প্যাংগং লেকে অতিরিক্ত নৌকো এনেছে চীনা বাহিনী। স্থাপন করা হয়েছে একাধিক তাঁবু। নতুন করে কাটা পরিখাও স্যাটেলাইট চিত্রে ধরা পড়েছে।
সর্বশেষ ২৯ জুলাইয়ের স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে দাবি করা হয়, চীনের পিপল'স লিবারেশন আর্মি গ্রাউন্ড ফোর্সেস নেভাল উইংয়ের ১৩টি নৌকা ফিঙ্গার-৫ এবং ফিঙ্গার-৬ এ দেখা যায়। এর মধ্যে ফিঙ্গার পাঁচে তিনটি এবং ফিঙ্গার ছয়ে ১০টি নৌকা। জায়গাটি ভারতের নিয়ন্ত্রণে থাকা ফিঙ্গার চারের খুব কাছেই।
এর আগে ১৫ জুনের যে স্যাটেলাইট চিত্র পাওয়া যায়, তাতে ফিঙ্গার-ছয়ে চীনা বাহিনীর আটটি নৌকো ধরা পড়ে।
লাদাখের অভিযানের দায়িত্বে থাকা ভারতের উত্তর সেনাবাহিনীর সাবেক কমান্ডার লে. জেনারেল ডিএস হুদা বলেন, প্যাংগং লেকের ফিঙ্গার-৫ ও ৬ এ চীনা বাহিনীর আগে কোনো জেটি ছিল না। ফিঙ্গার আটের বাইরে তারা জেটি ব্যবহার করত। কিন্তু, বর্তমানে ফিঙ্গার-৪ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্থায়ীভাবে উপস্থিতি বাড়াচ্ছে চীন।
গত ২৯ জুলাইয়ের স্যাটেলাইট চিত্র অনুযায়ী, ফিঙ্গার-৫ এ অন্তত ৪০টি কুঁড়েঘরের মতো বানিয়ে রাখা আছে। এ ছাড়া ১৫টি তাঁবুও সেখানে খাটানো হয়েছে। এর বাইরেও অতিরিক্ত আরও চারটি তাঁবু সেখানে রয়েছে। ধারণা, নৌকোয় থাকা সেনাদের জন্যই ওই তাঁবু।
লাদাখে প্যাংগং লেকের ধারে আটটি পরপর সরু সরু অঞ্চল রয়েছে। এগুলো ফিঙ্গার (Fingers Region) নামে পরিচিত। তার মধ্যে ফিঙ্গার-৪ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চীনা সেনাদের সঙ্গে সংঘাত বেঁধেছিল ভারতীয় সেনা জওয়ানদের।
ফিঙ্গার রিজিয়নের আটটি ফিঙ্গার ভারতের অন্তর্গত বলে বরাবরই দাবি করে এসেছে নয়াদিল্লি। এই আট ফিঙ্গার যেখানে শেষ হচ্ছে, সেখানেই ভারত-চীন সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ রেখা।
তবে এ বিষয়ে চীনের দাবি, চার নম্বর ফিঙ্গার পর্যন্ত ভারতের এলাকা এবং বাকি চারটি ফিঙ্গার চীন সীমান্তের মধ্যে পড়ছে।
গত ৫ মে লাদাখে আট নম্বর ফিঙ্গারের দিকে টহল দিতে যাওয়ার পথে ভারতীয় বাহিনীর পথ আটকায় চীনা সেনা। একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়ালে কর্নেলসহ ২০ ভারতীয় সেনা নিহত হয়। নিজেদের হতাহতের বিষয়টি স্বীকার করলেও সংখ্যা জানায়নি চীন।

শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: