Wednesday, 12 August 2020

সাতসকালে দলছুট হাতির আক্রমণে আতঙ্কিত বাঁকড়া

 

সাতসকালে খাবারের সন্ধানে গ্রামে ঢুকে পড়ল দলছুট দাঁতাল হাতি ।এই ঘটনা রীতিমতো আতঙ্কিত গ্রামবাসীরা । সাঁকরাইল ব্লক এর পাথরা গ্রাম পঞ্চায়েতের বাঁকড়া গ্রামের ঘটনা । স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে পাঁচটা ছটা নাগাদ হঠাৎ করে বাঁকড়া বাজারে ঢুকে পড়ে একটি পূর্ণবয়স্ক দাঁতাল হাতি । বাঁকড়া বাজারের রয়েছে শতাধিক দোকান।  তারমধ্যে খাবারের সন্ধানে রমেশ চন্দ্র দাস নামে এক ব্যক্তির ফলের দোকান ভেঙে ফল খায় এবং বাবলু দাস নামে এক ব্যক্তির ধানের দোকান ভেঙে ধান খেয়ে ফেলে বলে অভিযোগ । বাঁকড়া বাজারে হাতি ঢুকেছে এই খবর জানাজানি হতেই গ্রামের সমস্ত মানুষ বেরিয়ে পড়ে । হাতিটি বাঁকড়া বাজারের পর বাঁকড়া গ্রামে ঢুকে পড়ে । সাতসকালে গ্রামে হাতি ঢুকে পড়ায় হঠাৎ করে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে গ্রামবাসীরা । পরে অবশ্য গ্রামবাসীদের তৎপরতায় দলছুট দাঁতালটিকে জঙ্গলে ফেরত পাঠানো হয় । জানা যায় বাঁকড়া গ্রাম সংলগ্ন বাঁকড়া ও চুনপাড়ার জঙ্গল থেকে হাতিটি বেরিয়ে এদিন বাঁকড়া বাজার হয়ে  বাঁকড়া গ্রামে ঢুকে পড়ে । পরে অবশ্য হাতিকে ওই জঙ্গলে ফেরত পাঠায় গ্রামবাসীরা । 

বাঁকড়া গ্রামে হাতি ঢুকে পড়ার ঘটনা নতুন কিছু নয় । গ্রামবাসীদের অভিযোগ প্রায় প্রতিদিন রাত হলেই গ্রামে খাবারের সন্ধানে যেকোনো সময় ঢুকে পড়ে দলছুট হাতি । কিন্তু দিনের আলোতে বা সকালে কখনো হাতি ঢুকেনি এই প্রথম । তাই এই ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্কিত গ্রামবাসীরা । বাঁকড়া গ্রামের বাসিন্দা দীলেশ্বর মাহাতো, বুদ্ধদেব মাহাতো ,অতনু মাহাতারা বলেন বন বিভাগকে আমরা বহুবার লিখিতভাবে জানিয়েছি গ্রামে প্রতিনিয়ত হাতি ঢুকে পড়ছে হাতি তাড়ানোর জন্য বনদপ্তর এর বিশেষ টিম প্রস্তুত রাখার জন্য অথচ এদিন গ্রামে হাতির ঢুকে পড়েছে কিন্তু বনদপ্তরের কেউ দেখতো আসেনি ।

খড়গপুর বনবিভাগের কলাইকুন্ডা রেঞ্জের বারডাঙ্গা বিটের আওতায় রয়েছে এই এলাকাটি । বনদপ্তর সূত্রে জানা যায় ,কলাইকুন্ডা রেঞ্জের এয়ারফোর্সের বম্বিং এলাকা সংলগ্ন এলাকাটি বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে রয়েছে গভীর জঙ্গল । এটি হাতির করিডর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে । ফলস্বরূপ জঙ্গল ছেড়ে খাবারের সন্ধানে হাতি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে ।



শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: