নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর : করোনা যোদ্ধাদের মধ্যে এক চিকিৎসক সহ চারজন স্বাস্থ্যকর্মী করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন। তার ২৪ ঘন্টার মধ্যে সেই শালবনীতেই কোবরা বাহিনীর এক সিআরপিএফ জওয়ানের শরীরে করোনা সংক্রমনের ঘটনায় জোর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সারা জেলাজুড়েই। আতঙ্ক ছড়িয়েছে শালবনীতেও। জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক নিমাই চন্দ্র মণ্ডল বলেছেন, ওই কোবরা জওয়ানের ভ্রমন ইতিহাস খুঁজে দেখা হচ্ছে। তার সংস্রবে আসা সকলকেই কোয়ারেনটাইনে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ওই জওয়ানকে শালবনীর করোনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার সংস্রবে আসা সকলেরই করোনা পরিক্ষা করা হবে।
উল্লেখ করা যেতে পারে, অতীতে বামফ্রন্ট আমলে জঙ্গলমহলে মাওবাদী সমস্যা চুড়ান্ত রূপ ধারন করে। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর কনভয় লক্ষ্য করে ল্যাণ্ডমাইন বিষ্ফোরণ থেকে শুরু করে একাধিক খুন এবং জ্ঞানেশ্বরী নাশকতার মতো ঘটনা ঘটে। শুধু তাই নয়, সাঁকরাইল থানার ওসিকে অপহরন করে পরে শর্তসাপেক্ষে মুক্তিও দেয় তারা। ঘটেছে শিলদা ইএফআর ক্যাম্পে হামলার মতো ঘটনাও। মাওবাদী মোকাবিলায় একপ্রকার পুলিশ, ইএফআর, সিআরপিএফ ক্যাম্পের জওয়ানরা যখন দিশেহারা তখনই ডাকা হয় জঙ্গলের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সিআরপিএফের কোবরা বাহিনীকে। মাওবাদীদের মতো শক্তির সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের উদ্দেশ্যে এই শালবনীতেই স্থায়ীভাবে গড়ে তোলা হয় ২০৭ নম্বর কোবরা ব্যাটালিয়ন। বর্তমানে দেশের একমাত্র মহিলা সিআরপিএফ বাহিনীর সদর দফতরও আছে এই কোবরা ক্যাম্পাসেই। বলা বাহুল্য ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পর এই কোবরা বাহিনীর হাতেই মৃত্যু হয়েছে মাওবাদী নেতা কিষাণজির। সেই কোবরা বাহিনীরই এক জওয়ানের শরীরে করোনার সংক্রমন পাওয়া গিয়েছে। জানা গিয়েছে যে তার শরীরে অবশ্য এখনও করোনার কোনও লক্ষন নেই। আপাতত স্বাভাবিক আছেন তিনি। তাকে করোনা হাসপাতালেই পর্যবেক্ষনে রাখা হয়েছে। উল্লেখ করা যেতে পারে, মাত্র একদিন আগে এই শালবনী করোনা হাসপাতালের এক চিকিৎসক এবং তিনজন নার্সের করোনা সংক্রমন ধরা পড়েছে। তাদেরও শরীরে করোনার কোনও লক্ষন নেই। তারাও বর্তমানে ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন।




0 coment rios: