বই বিক্রির নেপথ্যে...
দীর্ঘদিন ধরে একটা দুটো করে ঘরে জমিয়ে রাখা প্রিয় বইগুলো বিক্রি করে দিতে হলো। অল্প কিছু বই রেখে প্রায় অর্ধেকের বেশি বই ঘরছাড়া হলো। আপাতত এর বিকল্প ছিল না। কিন্তু হুট করে এভাবে বই বিক্রি করে দেব, তা ভাবিনি। কিছু ভাবনা হয়ত কল্পনায়ও থাকে না, সরাসরি বাস্তবে ঘটে যায়।
আমাদের অফিসে বিনা বেতনে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটি দিয়েছে, বেশ কিছু কর্মিকে। কবে এই ছুটি শেষ হবে, আদৌ শেষ হবে কিনা, জানা নেই। অন্তত অফিস থেকে দেওয়া চিঠিতে সে বিষয়ে পরিষ্কার বা ঝাপসা কোনো কথা নেই।
এই মুহূর্তে কমবেশি অনেকেরই দুঃসময়। করোনা আমাদেরকে কোথায় কোন পরিস্থিতির মুখে দাঁড় করাবে, কেউ জানে না। নতুন করে এখন চাকরি পাওয়া সহজ হবে না।
তাহলে উপায় কী?
সামান্য চাকরির উপরে নির্ভর করে ওঠা জীবন নিয়ে ভাবনায় পড়ে যেতে হলো। সময় ও পরিপার্শ্ব নিরাপদ নয়। এখন কেউ কারো পাশে দাঁড়াতে ভরসা পায় না। দাঁড়াতে চায়ও না। এখন চেনা মানুষও অচেনার ভান করে। এগুলো মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই।
...এসব নানা কিছু ভেবেছি। ভাবলাম, কিছুদিনের জন্য গ্রামের বাড়িতে চলে যাই। মুঠোফোন ও ইন্টারনেটের এই যুগে দূরে থেকেও তো যোগাযোগ রক্ষা করা সম্ভব। অফিস থেকে যদি ডাকে, বা নতুন কাজ পেলে আবার ঢাকায় চলে আসব। কাজেই ঢাকার বাসা আপাতত ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে হলো। এর বিকল্প কি কিছু করা যেত না?
হয়ত যেত। হয়ত নয়।
আজ সন্ধ্যার পর, ঘরে ফিরে ঘরছাড়া ও হারিয়ে যাওয়া বইগুলোর কথা ভেবে খুব মায়া হলো। বুকটা হু হু করে উঠলো। চোখও হয়ত ভিজে এলো। এমন হয়। একবার মনে হলো, এ হয়ত মায়া। মায়া কাটিয়ে উঠতে হবে; ভেবে মনটাকে অন্যদিকে ফেরানোর চেষ্টা করতে করতে ভাবলাম, সময় ও সুযোগ হলে এবং যদি বেঁচে থাকি, বই আবারও সংগ্রহ করা যাবে। এখন কোনোভাবে দুবেলা খেয়ে পরে বেঁচে থাকাটাই চ্যালেঞ্জ। এই যাত্রায় জয়ী হতেই হবে।
যাঁরা বই কিনেছেন এবং ফোন করে শুভকামনা জানিয়েছেন, সবাইকে আমার আন্তরিক ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা জানাই।
মাসউদ আহমাদ
ঢাকা।
৬ জুলাই ২০২০


0 coment rios: