Monday, 20 July 2020

চীনে খুলে দেয়া হল সিনেমা হল


চীনের উহানে গতবছরের ডিসেম্বরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। যদিও করোনা শনাক্তের তারিখ বা সময় নিয়ে চীন তথ্য লুকিয়েছে এমন অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু ভাইরাস যখন ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে তখন একের পর এক লকডাউন হতে থাকে চীনা শহর। তার পর সেটি ছড়িয়ে পড়ে চীনের সীমানা পেরিয়ে গোটা বিশ্বে। স্থবির হয়ে পড়ে ব্যবসা বাণিজ্য, জনসমাগম। তারই ধারাবাহিকতায় বন্ধ করা হয় চীনের সিনেমা হলগুলো।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, ছয়মাস পর চীনের সিনেমা হলগুলো খুলতে শুরু করেছে। ভাইরাসের প্রকোপ কিছুটা কমায় অর্থনীতিকে সচল করার লক্ষ্যে খুলে দেয়া হচ্ছে অন্যসব ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানও। সোমবার চীনের সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী করোনা প্রকোপের পর প্রথম খোলা হয় সিনেমা হল।
দেশটির সিনেমা হল পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, হলগুলো অন্য প্রতিষ্ঠানের চেয়ে অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকিপূর্ণ। সচেতন হলে আর নিরাপদ দূরত্ব মেনে চললে হল পরিচালনায় কোনো অসুবিধা হবে না। সংক্রমণের ঝুঁকি নেই বলেও দাবি করা হয় বলে জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

সিনেমা দেখতে আসা অনেকেই বলছেন তারা অন্তত ৬ মাস পর সিনেমা হলে এসে খুশি। কারণ গত ৬ মাসের লকডাউনের কারণে এক ধরণের একঘেয়েমি তৈরি হয়েছে নিজেদের মধ্যে সেটি এখন দ্রুত কাটানো সম্ভব হবে বলে মনে করেন তারা।
বেইজিংয়ের স্কয়ার সিটির একটি ব্লকবাস্টারে সিনেমা দেখতে আসা একজন বলেন, ‘আমি খুবই উচ্ছ্বসিত। অনেক দিন পর আজ সিনেমা হলে আসলাম। আমি আমার বন্ধুদের নিয়ে আবার সিনেমা দেখব। ভাবতেই ভালো লাগছে।’
তবে, অনেকেই সিনেমা হলে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার বিষয়ে নজর রাখছেন। যেসব হল এখনো পুরোপুরি স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলছে না সেখানে অনেকেই সিনেমা দেখতে যাচ্ছেন না।
সিনেমা দেখতে আসা একজন জানান, ‘আমি এসেছি সিনেমা দেখতে। তবে আমি এখানার পরিবেশ দেখছি। সুরক্ষা ব্যবস্থা আমার পছন্দ হলেই তবে আমি সিনেমা দেখার জন্য টিকিট কিনব।’
এরই মধ্যে গত ছয়মাস বন্ধ থাকার কারণে চীনের অনেক সিনেমা হল তাদের কর্মী ছাঁটাই করেছে। অনেক হল মালিক আবার ব্যবসায় শুরু করতে পারবেন না বলে খবর প্রকাশ করেছে স্থানীয় গণমাধ্যম। শুটিং বন্ধ থাকায় ক্ষতির মধ্যে রয়েছে সিনেমা নির্মাতা, কলাকুশলী ও অভিনেতা-অভিনেত্রীরাও।
চীনের সিনেমা পরিচালনা কমিটির সদস্য  ইয়াং লি বলেন, ‘আমাদের অনেক নতুন নতুন শর্ত মেনে চলতে হবে এখন। এত শর্ত মেনে হল চালানো সত্যিই কঠিন।’
হলে আগের চেয়ে অনেক কম দর্শক নিয়ে চলতে হচ্ছে মালিকদের। প্রতিদিন ৫০ শতাংশ সিনেমা কমানো হয়েছে। হলের মধ্যে খাবার বিক্রি অনুমতি বাতিল করা হয়েছে। দর্শকরাও কোনো ধরণের খাবার নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না। 
অনেক কর্মী ছাঁটাই হওয়ায় এখন নতুন করে নেয়া কর্মীদের আবার প্রশিক্ষণ দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে কোভিড-১৯ এর বিষয়েও তাদের অনেকে সুরক্ষামূলক কার্যক্রমের বিষয়ে সচেতন নয়। সে বিষয়গুলোও কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিতে হচ্ছে। এতে প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যয় অনেক বেড়েছে।
চীনের সিনেমা বিপণন সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্ট লিন মিনজি জানান, ‘আগের তুলনায় দর্শক কম আসছে। হলগুলোতেও টিকিট বিক্রির বাধ্যবাধকতা দেয়া হয়েছে। ব্লকবাস্টারগুলোতে দর্শকদের ইতিবাচক সাড়া থাকলেও সেটি আগের তুলনায় অনেক কম।’
বেইজিংয়ের বিখ্যাত ড্যাডি সিনেমা হলের ম্যানেজার ওয়ান জাহাহুই বলেন, ‘আমরা এখন টিকিট বিক্রির অনুমতি পেয়েছি। তবে প্রতিদিন আগের তুলনায় ৫০ শতাংশ কম সিনেমা চালাতে হবে। দর্শকের সংখ্যা কমাতে হচ্ছে অন্তত ৩০ শতাংশ। আমদের টিকিটের মূল্যের চেয়ে খরচ অনেক বেশি। আগে খাদ্য সামগ্রী বিক্রি করে এই খরচ উঠানো যেত। কিন্তু এখন খাবার বিক্রির অনুমতি না থাকায় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে আমাদের।’

শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: