Wednesday, 29 July 2020

প্রয়াত হলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সৌমেন মিত্র। চোখের জলে বিদায় নিলেন বিধান ভবনের ছোড়দা।



প্রয়াত হলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সৌমেন মিত্র। মৃত্যু কালে তার বয়স হয়ে ছিল 78 বছর। বুধবার গভীর রাতে দক্ষিণ কলকাতার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দিন দশেক আগে রটে যায় সৌমেন মিত্র করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন। যার ফলে বেশ কয়েক দিন ধরেই  অসুস্থ অবস্থায় ঐ নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন । কিন্তু তাঁর পুত্র রোহণ মিত্র সেই গুজব খণ্ডন করে জানান বাবার রক্তে ক্রিয়েটিনের মাত্রা হেরফের হওয়ার কারণে নার্সিংহোমে ভর্তি হয়ে ছিলেন। এর পর শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যার সৃষ্টি হয়। তখন বুকে পেসমেকার বসানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত ভালই ছিলেন। হাঁটাচলা করেছেন নার্সিংহোমের ঘরেই। বুধবার দুপুরে দিব্যি পরিবার পরিজন সহ দলের অনেকের সাথে ফোনে কথা বলেছেন। কিন্তু বুধবার রাতে সব শেষ। সৌমেন মিত্রের মৃত্যুতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে কংগ্রেসের রাজ্য রাজনীতিতে। কারণ সৌমেন মিত্রের জীবনাবসানের মধ্য দিয়ে শেষ হলো কংগ্রেস ঘরানার আর একটি অধ্যায়। 1941 সালের 31 ডিসেম্বর বাংলাদেশের যশোরে জন্ম গ্রহণ করেন সৌমেন্দ্র নাথ মিত্র। স্বাধীনতার সময় দেশ ভাগ হবার সময় ছিন্নমূল হয়ে পরিবারের সবাই পূর্ব পাকিস্থান অর্থাৎ বর্তমান বাংলাদেশ থেকে চলে আসেন কলকাতায়। কলকাতাতেই শুরু হয় শৈশব জীবন ও পড়াশুনা । কলকাতা বিশ্বদ্যালয়ের থেকে বিএসসি ও এলএলবি পাশ করেন তিনি। কলেজে পড়ার সময় সির্দ্ধার্থ শঙ্কর রায়ের হাত ধরে প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে প্রবেশ করেন সৌমেন মিত্র। এরপর রাজ্য রাজনীতিতে এবিএ গনিখান চৌধূরী, প্রণব মুখোপাধ্যায়, প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সী দের সঙ্গে সমান তালে প্রদেশ কংগ্রেসের নেতৃত্ব দেন।1972 থেকে 1977 এবং 1982 সাল থেকে 2009 সাল পর্যন্ত শিয়ালদহ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে 7 বারের বিধায়ক ছিলেন। 2008 সালে সৌমেন মিত্র কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন। সেই বছর দক্ষিণ 24 পরগনা জেলার ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্র থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।2014 সাল পর্যন্ত তিনি ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ ছিলেন। 2013 সালে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ থাকা কালীন তিনি প্রথম সারদা চিট ফান্ডের বিরুদ্ধে  মুখ খোলেন এবং কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকে আর্থিক অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগ তুলে সারদা চিটফান্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানান। দলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে সারদা আর্থিক কেলেঙ্কারী নিয়ে মুখ খোলার অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হন সৌমেন মিত্র। 2014 সালে ফের জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দেন এবং লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পরাজিত হন। এরপর 2018 সালে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি নির্বাচিত হন। আমৃত্যু তিনি জাতীয় কংগ্রেস কমিটির কার্যকরী পরিষদের সদস্য ছিলেন।  রেখে গেলেন স্ত্রী শিখা মিত্র ও একমাত্র পুত্র রোহণ মিত্র কে। ইতিমধ্যেই সৌমেন মিত্রের জীবনাবসানের ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়, জাতীয় কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক ডাক্তার সূর্যকান্ত মিশ্র সহ বহু রাজনৈতিক ব্যক্তি বর্গ। চোখের জলে বিদায় নিলেন বিধান ভবনের ছোড়দা।

শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: