Sunday, 19 July 2020

রাবণই প্রথম বিমান উড়িয়েছিলেন! প্রমাণ জোগাড়ে মরিয়া শ্রীলঙ্কা


সীতাহরণের গল্প তো জানা। কিন্তু কখনও ভেবেছেন কি অযোধ্যার বন থেকে কীভাবে সীতাকে রাবণরাজ্য অর্থাৎ আজকের শ্রীলঙ্কায় (Sri Lanka) নিয়ে যাওয়া হল। রামায়ণ অনুযায়ী, আকাশপথেই সীতাকে নিয়ে গিয়েছিলেন লঙ্কাধিপতি। আর এই কাহিনির উপর দাঁড়িয়েই নতুন এক দাবি সামনে আনছে প্রতিবেশী দ্বীপরাষ্ট্র। বলা হচ্ছে, আকাশপথে পরিবহণ অর্থাৎ বিমানের পথপ্রদর্শক রাবণরাজা। এই দাবির স্বপক্ষে প্রমাণ জোগাড় করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে শ্রীলঙ্কা। বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রক একযোগে এই নিয়ে গবেষণায় আগ্রহীদের জন্য সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপনও দিয়েছে।

ঋষি বাল্মীকি রচিত রামায়ণের (Ramayana) অন্যতম মুখ্য চরিত্র রাবণকে খলনায়ক হিসেবে দেখানো হলেও, নিজের রাজ্যে তিনি আজও নিজের রাজ্যে ‘রাজা’ হিসেবে শ্রদ্ধা পান। সেদিনের রাবণরাজ্য আজকের শ্রীলঙ্কা বলে চিহ্নিত হয়েছে পরে। সিংহলিরা এখনও মনে করেন, রাবণ অসামান্য প্রতিভাবান ছিলেন। তিনিই প্রথম আকাশপথে পরিবহণে পথ দেখিয়েছিলেন সীতাকে হরণ করে নিজের সাম্রাজ্যে নিয়ে আসার সময়। সেটা ছিল ৫ হাজার বছর আগে। এই দাবি করেছেন দেশের বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের প্রাক্তন এক কর্তা। তাঁর কথায়, ”রাবণই প্রথম আকাশপথে যাত্রা করেছিলেন। এটা কোনও পুরাণ বা কল্পকাহিনি নয়, বাস্তবেই এমনটা ঘটেছিল। এ নিয়ে বিস্তারিত গবেষণার পর আগামী ৫ বছরের মধ্যে আমরা অকাট্য প্রমাণ দাখিল করব।”

আসলে শ্রীলঙ্কায় দশাননকে নিয়ে এ ধরনের মিথ কম নেই। রাবণ সেখানে এতটাই শ্রদ্ধেয় যে শ্রীলঙ্কার তরফে মহাকাশের প্রথম পাঠানো স্যাটেলাইটের নামও রাখা হয়েছিল – রাবণ। গত বছরই দেশের বিমান পরিবহণ মন্ত্রক এই দাবি তুলে ধরেছিলেন। সেবার ঐতিহাসিক, ভূতত্ববিদ, পুরাতত্ববিদ এবং বিমান পরিবহণ সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি সেমিনার হয়। তর্ক-বিতর্ক হয়েছিল সেখান। তারপর কোনও কারণে ব্যাপারটা চাপা পড়ে যায়।

এবছর ফের তা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। রাবণের হাত ধরেই যে পৃথিবীতে বিমান এসেছে, তা প্রমাণে ফের উঠেপড়ে লেগেছে দারুচিনি দ্বীপ। ৷ ‘রাজা রাবণ এবং আকাশপথে আধিপত্যের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য’ – নামাঙ্কিত গবেষণা শুরু হবে খুব দ্রুত। বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের দেওয়া বিজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, এই সংক্রান্ত যে কোনও তথ্য, কাহিনি পেলেই যেন তা মন্ত্রকে সরবরাহ করা হয়। প্রয়োজনে নৃতত্ববিদদের পরামর্শ নিয়ে খোঁড়াখুঁড়িও হবে বলে জানা গিয়েছে। দেখা যাক, দাবির স্বপক্ষে কতটা প্রমাণ দিতে পারেন সিংহলিরা।



শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: