Sunday, 19 July 2020

চন্দনদস্যু বীরাপ্পনের মেয়ে এখন তামিলনাড়ু বিজেপি-র যুবনেত্রী


কেরিয়ার গ্রাফ দেখলে অতটা চমকে যাওয়ার মতো কিছু নেই। আইনের ছাত্রী, তামিল নাড়ুর কৃষ্ণগিরিতে শিশুদের জন্য একটি বিদ্যালয় চালান। রাজনৈতিক পরিচয়, প্রদেশ বিজেপির যুব শাখার সহ সভানেত্রী। কিন্তু চমক লাগবে ২৯ বছরের এই যুবতীর নামটা শুনলে। তাঁর নাম বিদ্যা বীরাপ্পন। ২০০৪ সালে পুলিশের গুলিতে নিকেশ হওয়া চন্দনদস্যু বীরাপ্পনের মেয়ে।
যার নাম শুনলে একসময় কেঁপে উঠল পশ্চিম ঘাট পর্বতমালার বিস্তীর্ণ বনভূমি। পুলিশ, বনকর্মী এবং নিরীহ গ্রামবাসী মিলিয়ে কমপক্ষে ২০০ জনকে খুনের অভিযোগ ছিল যার নামে। দাঁতের জন্য মধুমালাই জঙ্গলের হাতিদের চোরাশিকার, চন্দনকাঠ পাচারের জন্য একসময় সমগ্র দক্ষিণ ভারতের ত্রাস ছিল যে বীরাপ্পন। সেই চন্দনদস্যূর মেয়ে বিদ্যা জানালেন, যখন তাঁর ছয় কী সাত বছর বয়স, স্কুলের ছুটিতে কর্নাটকের হানুরের কাছে গোপীনাথন গ্রামে দাদুর বাড়ি বেড়াতে গিয়েছিলেন। একদিন বাইরে খেলার সময় তাঁর কাছে এসেছিল বীরাপ্পন। জীবনে প্রথমবার মাত্র কয়েক মিনিটের জন্যই বাবাকে দেখেছিলেন। মেয়েকে ভালো করে পড়াশোনা করতে বলে এবং চিকিৎসক হতে উপদেশ দিয়ে চলে গিয়েছিল চন্দনদস্যু। 
আদতে অনগ্রসর শ্রেণি বান্নিয়ার সম্প্রদায়ভুক্ত হলেও নিজেকে কোনও বিশেষ সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে দেখতে নারাজ বিদ্যা, ২০১১ সালে মা এবং নিজের সমাজের বিরুদ্ধে গিয়ে নিজের পছন্দের পুরুষের সঙ্গে বিয়ে করেছেন। তাঁর মা এখনও এনডিএ শরিক বান্নিয়ার দল তামিঝাগা ভাঝুরিমাই কাটচি বা টিভিকে–র সদস্য। রাজনীতি সম্পর্কে সেভাবে জ্ঞান না থাকলেও শুধু সমাজসেবার ইচ্ছাতেই রাজনীতিতে নামা, বললেন বিদ্যা। কখনও রাজনীতিতে যুক্ত না থাকলেও নিজের পারিপার্শিক পরিস্থির মূল্যালয় করেই পদক্ষেপ করত বীরাপ্পন, বলছেন তিনি। বান্নিয়ার সম্প্রদায়ে ‘‌রবিন হুড’‌ বলে পরিচিত বীরাপ্পনকে সমাজের তৎকালীন পরিস্থিতিই ভুল পথে নিয়ে গিয়েছিল বলে অনুমান বিদ্যার। বেশ কয়েক বছর আগে এক স্থানীয় নেতা তাঁকে তৎকালীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পোন রাধাকৃষ্ণনের সঙ্গে দেখা করিয়ে দিয়েছিল। তামিল নাড়ুতে নিজেদের পায়ের তলার জমি শক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া বিজেপি তারপরই বিদ্যাকে দলে টানতে আগ্রহী হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে বিজেপিতে যোগ দেন তিনি। তাঁর অন্তর্ভুক্তির খবর বিজেপির ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে তাঁকে জানানো হয়েছিল বলে জানালেন বিদ্যা।
বীরাপ্পন এনকাউন্টারের নেতৃত্ব দেওয়া তামিল নাড়ু পুলিশের এসপিএফ–এর তৎকালীন অফিসার কে বিজয় কুমার বীরাপ্পনকে নিয়ে লেখা বইতে উল্লেখ করেন, বিদ্যার মা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণের পর চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে জন্মায় বিদ্যা। এক এসটিএফ অফিসার তাঁর নাম রাখেন বিদ্যা রানি। তামিল নাড়ুর একটি মহিলাদের হস্টেলেই বড় হয়েছেন বিদ্যা। 

শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: