হলুদ খোলসে ঢাকা দেহ। মুখ ও চারটে পা সামান্য বেরিয়ে। সেই অঙ্গগুলির বর্ণও গাঢ় হলুদ। বিপদের আঁচ পেলে একবার খোলসে মুখ লুকোচ্ছে। আবার কখনও চারটে পা খোলসের ভিতর ঢুকিয়ে ফেলছে। মাটিতে ছেড়ে দিলে আর কথাই নেই! বুকে ভর দিয়ে গুটিগুটি পায়ে এগিয়ে চলেছে জলের খোঁজে। আকারে-প্রকারে কিংবা আদব-কায়দায় একেবারে সাধারণ কচ্ছপ। শুধু নজর কেড়েছে তার দেহের বর্ণ।
মেটে রং, কালচে কিংবা খয়েরি রঙের কচ্ছপ দেখতে এতদিন অভ্যস্ত ছিলেন বালেশ্বরের বাসিন্দারা। ওড়িশার উপকূলবর্তী অঞ্চল বালেশ্বর। তাই সমুদ্র লাগোয়া বালিয়াড়িতে আকছার ঘুরে বেড়ায় নানান প্রকৃতির কচ্ছপ। কিন্তু রবিবার সুজনপুর গ্রাম থেকে উদ্ধার করা কূর্ম অবতারের দেহের রং যে বিলকুল আলাদা! স্রোতের টানে সমুদ্র সৈকতে ভিড়েছে অদ্ভুতদর্শনের এই কচ্ছপ। দেখামাত্র গ্রামজুড়ে হইচই কাণ্ড। ভিড় জমাতে শুরু করেন গ্রামবাসীরা। খবর যায় বনদপ্তরে। সৈকতে চলে আসেন বনদপ্তরের আধিকারিক ভানুমিত্র আচার্য। কচ্ছপটিকে দেখে তিনি হতবাক। তাঁর কথায়, ‘এহেন আগাপাশতলা হলুদ রঙের কচ্ছপ বিরল। এর আগে কোনওদিন আমার চোখে পড়েনি।’ তবে কচ্ছপের বর্ণরহস্যের জট ছাড়াতে এগিয়ে এসেছেন অনেকেই। আইএফএস সুশান্ত নন্দ যেমন বলেছেন, ‘কচ্ছপটি সম্ভবত ‘অ্যালবিনো’ প্রজাতির।’ সাঁতার কাটতে থাকা কচ্ছপের একটি ভিডিও ট্যুইটারে শেয়ারও করেছেন তিনি। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘বছর আগে কয়েক আগে সিন্ধ অঞ্চলে এমনই একটি কচ্ছপকে উদ্ধার করা হয়েছিল।’
‘অ্যালবিনো’ প্রজাতি আসলে কী? প্রাণীবিজ্ঞানে এটি বহুল ব্যবহৃত শব্দ। প্রাণীদেহে জৈব রঞ্জক পদার্থ কিংবা পিগমেন্টের সম্পূর্ণ অথবা আংশিক অনুপস্থিতিতে ‘অ্যালবিনিজম’ দেখা দেয়। এক অর্থে ‘অ্যালবিনিজম’কে বিশেষ রোগও বলা চলে। যার জেরে ত্বকের পিগমেন্টেশন কমে যায়। ওড়িশার বালেশ্বরে উদ্ধার হওয়া ওই কচ্ছপের ক্ষেত্রেও এমনটাই ঘটেছে বলে অনুমান সুশান্তর। ভিডিওর পাশাপাশি খুব কাছ থেকে তোলা কচ্ছপের একটি ছবিও শেয়ার করেছেন তিনি। যেটি জুম করলে বোঝা যায়, কচ্ছপের চোখটি আদতে গোলাপি রঙের। এই বিশেষ বর্ণের চোখ ‘অ্যালবিনিজম’-এর অন্যতম লক্ষণ বলেও সুশান্ত দাবি করেছেন। গোটা বিষয়টি ট্যুইটারে ভাইরাল হতেই নেটিজেনদের মধ্যে বিস্ময় ছড়িয়ে পড়েছে। হলুদরঙা কচ্ছপ তাঁরা এই প্রথম দেখলেন।


0 coment rios: